২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

বাঁশখালীতে উপকূলজুড়ে মা মাছ নিধন


নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁশখালী, ৪ জুলাই ॥ চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সাগর উপকূলজুড়ে পোনা সংগ্রহের মহোৎসব চলছে। ব্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলে ও তাদের পরিবারের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরাও। পোনা সংগ্রহের ফলে প্রতিদিন নিধন হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মা মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা। পোনা আহরণকারীদের বিরুদ্ধে অচিরেই ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা লুৎফুর রহমান।

উপকূলীয় ছনুয়া, গন্ডামারা, সরল, বাহারছড়া, খানখানাবাদ ও সাধনপুর এলাকায় শনিবার সরজমিনে দেখা যায় এই পোনা সংগ্রহ ও মৎস্য নিধনের চিত্র। জেলেরা এই পোনা সংগ্রহ করে প্রতিশত পোনা ২০ টাকা করে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছে তারা।

ব্যবসায়ীরা এই পোনা সংগ্রহ করে সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০০-১৫০ টাকা দামে প্রতিশত পোনা বিক্রি করে বলে ব্যবসায়িক সূত্রে জানা যায়। পোনা সংগ্রহ করে দিবে বলে অগ্রিম টাকাও নিয়ে থাকেন অনেক জেলেরা। ফলে পোনার দাম বেশি হলেও অগ্রিম টাকা নেয়ায় জেলেরা প্রতিশত পোনা ২০ টাকার অধিক পাচ্ছে না। কারণ তারা পোনা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অগ্রিম নিয়েছে পোনা সংগ্রহ করে দেবে এই অজুহাতে। সম্প্রতি প্রবল বর্ষণ ও বন্যার ফলে প্রচুর পোনা পাওয়া যাচ্ছে বলে উপকূলীয় পোনা সংগ্রহকারীরা এই প্রতিনিধিকে জানান। চিংড়ি পোনা ব্যবসায়ী বেশ কয়েকজন নাম প্রকাশ না করা সত্ত্বে বলেন, পোনা সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে ২০ টাকা হারে পোনা সংগ্রহ করলেও সেই পোনা অধিকাংশ মারা যায় আবার তা সাতক্ষীরা পর্যন্ত পৌঁছে দিতে অনেক টাকা খরচ হয় বিধায় তারা ২০ টাকার অধিক প্রতিশত পোনা কিনতে পারে না। তাছাড়া যারা পোনা সংগ্রহ করে দেয় তারা পোনা সংগ্রহের আগে হাজার হাজার টাকা দাদন নিয়ে থাকে পোনা দেয়ার অজুহাতে। বাঁশখালীর উপকূলীয় বাহারছড়া, খানখানাবাদ, সাধনপুর, সরল, গন্ডামারা ও ছনুয়া উপকূলীয় এলাকায় বঙ্গোপসাগরে প্রচুর পরিমাণ চিংড়ি পোনা সংগ্রহ করতে গিয়ে নানা প্রজাতির মাছ বিভিন্নভাবে মারা পড়লেও এ ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরালো কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। তাছাড়া বিগত কিছুদিন আগে উপকূলীয় এলাকায় উপজেলা মৎস্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে পোনা সংগ্রহ না করার জন্য বিভিন্নভাবে মাইকিং করা হলেও কার্যত তা কোন কাজে আসেনি। বর্তমানে স্কুল মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় উপকূলীয় জনগণ তাদের স্কুল মাদ্রাসা পড়ুয়া সন্তানদের নিয়ে বর্তমানে পুরোদমে পোনা সংগ্রহের কাছে ব্যস্ত রয়েছে। ছেলেরা সাগরের অথৈ ঢেউয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পোনা সংগ্রহ করলে পরিবারের অপরাপর সদস্যগণ তা চিংড়ি পোনাগুলো আলাদা করে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছে। সরেজমিনে গতকাল পরিদর্শনকালে কয়েকজন পোনা সংগ্রহকারী শিশু কিশোরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় তারা প্রতিদিন গড়ে সহস্রাধিক পোনা সংগ্রহ করতে পারে। বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে পোনা পাওয়া যাচ্ছে। এ ব্যাপারে বাঁশখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে সচেতন জনগণ মনে করেন অচিরেই এই পোনা আহরণ ও নিধন রোধ করা সম্ভব না হলে মৎস্য শূন্য হয়ে পড়বে সাগর।