২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

দু’দলের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করবে ব্যাটিং ॥ প্লেসিস


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ দীর্ঘ ৭ বছর পর আবার বাংলাদেশ সফরে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। যদিও গত বছর টি২০ বিশ্বকাপ খেলে গেছে তারা। এবার প্রোটিয়া শিবিরের জন্য চ্যালেঞ্জ একাধারে ঘরের মাঠে উজ্জীবিত ও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ, স্বাগতিকদের স্পিন আক্রমণ এবং উচ্চ তাপমাত্রা। কিন্তু একটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে অনেকটাই সেসব বিষয়ে একটা ধারণা পেয়ে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দক্ষিণ আফ্রিকার টি২০ অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস দাবি করলেনÑ দু’দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেবে ব্যাটিং। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাংলাদেশ অনেক কঠিন হবে বলে মনে করছেন প্লেসিস। বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ এবং ধীর ও নিচু প্রকৃতির উইকেট সম্পর্কে প্রোটিয়া টি২০ দলনেতার অভিমতÑ এতে করে স্বাগতিকরাও একই সমস্যায় পড়বে। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকারও ভাল স্পিনার আছে। শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক।

প্রস্তুতি ম্যাচে প্রতিপক্ষ বিসিবি একাদশকে কোন পাত্তাই দেয়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রমাণ দিয়েছে নিজেদের শক্তিমত্তার। এর মাধ্যমে নিজেদের মানিয়েও নিতে পেরেছে বাংলাদেশের কন্ডিশনের সঙ্গে। এ বিষয়ে প্লেসিস বলেন, ‘দেখেন এটা খুব ভাল হয়েছে যে, ভালভাবে শুরুটা হয়েছে গতকাল (শুক্রবার)। আমরা অবশ্যই শ্রদ্ধার সঙ্গে বলতে চাই যে, বাংলাদেশের মূল দলটি প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য আরও কঠিন হবে। গতকাল (শুক্রবার) আসলে আমাদের জন্য মৌলিক অনুশীলন ছিল। আমরা এমন কিছু বিষয়ের মধ্যে আছি, যেটা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরী ছিল। অবশ্যই কন্ডিশন এবং তাপমাত্রা। গতকাল (শুক্রবার) খুব ভাল একটা দিন ছিল। কিন্তু আগামীকাল (আজ) অনেক আলাদা হতে পারে।’ উইকেট কেমন হতে পারে সে সম্পর্কে এখন পর্যন্ত স্বচ্ছ কোন ধারণা নেই দক্ষিণ আফ্রিকা দলের। তবে সেটা যেমনই হোক উভয় দলের জন্যই সেটা একই আচরণ করবে এবং নিজেরা মানিয়ে নিতে প্রস্তুত থাকবেনÑ এমনটাই জানালেন প্লেসিস। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমরা এখানে দীর্ঘদিন খেলিনি বলে নির্দিষ্ট দিনে পিচ কেমন হবে সেটা দেখেই বুঝতে হবে। সর্বশেষ যেবার আমরা এখানে এসেছি আমার মনে হয় সেটা টি২০ বিশ্বকাপে। সুতরাং পিচটা কেমন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য আমাদের নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আশা করছি খুব ভাল উইকেট হবে। আর যদি না হয়, ধীর ও নিচু প্রকৃতির উইকেট থাকে সেক্ষেত্রে আমাদের মানিয়ে নিতে হবে।’ কিন্তু উইকেট যাই হোক ব্যাটিংটাই পার্থক্য গড়ে দেবে বলে দাবি প্লেসিসের, ‘যদি খুব বেশি স্পিন থাকে সেটা উভয় দলের জন্যই সমান ভূমিকা রাখবে। কিন্তু দুই দলের মধ্যে পার্থক্য হবে- কিভাবে তারা এবং আমরা ব্যাটিং করব।’

দক্ষিণ আফ্রিকার মূল শক্তি পেস বোলিংয়ে। কিন্তু স্পিনবান্ধব উইকেটে পেসাররা কতখানি সুফল বয়ে আনতে পারবেন দলের জন্য? এ বিষয়ে প্লেসিস বলেন, ‘আমরা খেলানোর জন্য ১৩ সদস্যের স্কোয়াড পেয়েছি। যখন একাদশ গঠন করা হবে তখন অবশ্যই সামঞ্জস্যে এরচেয়ে সামান্য ব্যতিক্রম হবে। সুতরাং এই মুহূর্তে সমন্বয়ের স্বাভাবিক পরিকল্পনা হচ্ছে কয়েকজন সিমার এবং কয়েকজন স্পিনার থাকবে। বোলিংয়ের দিকে তাকালে এডি দারুণ প্রতিভাবানা এক তরুন লেগস্পিনার। ইমরান তাহির চমৎকার একজন লেগস্পিনার। কিন্তু নতুন ছেলে আসছে তা দেখাটা সত্যিই দারুণ।’ প্রস্তুতি ম্যাচে এবি ডি ভিলিয়ার্স ইনিংস উদ্বোধন করেছেন। এ বিষয়ে প্লেসিস বলেন, ‘আমরা এবি-কে একটু আগেভাগে আনতে চাচ্ছি এবং সেটাই আমাদের পরিকল্পনা। এটা হতে পারে ইনিংস উদ্বোধন কিংবা তিন নম্বরে। এখনও বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করছি আমরা। কিন্তু তিনি যেটাতে অভ্যস্ত এটা অবশ্যই তারচেয়ে একটু উপরের দিকের দায়িত্ব হবে।’ এবার সিরিজেই আইসিসির নতুন প্রণীত আইনের প্রয়োগ শুরু হবে। এ বিষয়ে প্লেসিসের মন্তব্য, ‘আমাদের বোলিং দক্ষতা খাটিয়ে নিশ্চিত করতে হবে যে, আমরা জিতব। আমি মনে করি এটা খুব ভাল নিয়ম। খেলায় হার-জিত হয়ে যায় যখন কেউ বিমার ছোড়ে। অবশ্যই এ নিয়ম আসাতে অনেক বড় পরিবর্তন তৈরি হবে।’ বাংলাদেশ দলের টি২০ ক্রিকেটে উন্নতির জন্য গুরুত্বের সঙ্গে আইপিএল কিংবা বিগব্যাশের মতো আসর আয়োজন করা উচিত বলে জানান প্লেসিস। সেই সঙ্গে খেলতে হবে অনেক বেশি টি২০ ম্যাচ।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: