২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কুঁচিয়া রফতানির সম্ভাবনা


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ এক সময় সারা দেশেই প্রচুর ‘কুঁচিয়া’ দেখা যেত। আমাদের দেশের মানুষ সাধারণত কুঁচিয়া খেত না। তবে বিদেশে এর ব্যাপক চাহিদা। তাই রফতানিও হচ্ছে বিশ্বের অনেক দেশে। তবে অপরিকল্পিতভাবে।

আসলে কুঁচিয়া একপ্রজাতির মাছ। জলাশয় ভরাট, প্রজননের উপযুক্ত পরিবেশের অভাবসহ নানা কারণে কুঁচিয়া এখন বিলুপ্তির পথে। মাছটি এখন বিপন্ন প্রজাতির তালিকায়। নতুন করে কুঁচিয়া মাছের প্রজনন ও পোনা উৎপাদনে সফলতা অর্জিত হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ এবং বিদেশে রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

বিপন্ন প্রজাতির দেশীয় কুঁচিয়ার প্রজনন ও পোনা উৎপাদনের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি উদ্ভাবনে সফল হয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাৎস্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান বিজ্ঞানী ড. হারুনুর রশীদ। অতীতে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কুঁচিয়ার প্রজনন ও পোনা উৎপাদনে সফল হলেও পোনার খাবার ব্যবস্থাপনা করে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদনের কোন পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়নি। তবে ড. হারুন এ ক্ষেত্রেও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি উদ্ভাবনে সফল হয়েছেন। ড. হারুনুর রশীদ জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন খাল-বিল থেকে আহৃত কুঁচিয়া সাধারণত দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, লাওস, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ায় রফতানি হয়। ২০১০-১১ অর্থবছরে ২৭ লাখ ডলারের কুচিয়া রফতানি হয়েছে। গত অর্থবছরে তা এক কোটি ডলার ছাড়িয়েছিল।

তিনি বলেন, দেখতে সাপের মতো হলেও কুঁচিয়া আসলে বাইন ও গুঁচিজাতীয় একটি মাছ। মাছটি খুবই পুষ্টিকর ও সুস্বাদু এবং ঔষধি গুণসম্পন্ন। বর্তমানে কুঁচিয়াকে ঘিরে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় অন্য মাছের মতো বদ্ধ জলাশয়ে এর চাষে আগ্রহ বাড়ছে। আমাদের দেশের উপজাতীয়দের কাছে কুঁচিয়া মাছ খুবই জনপ্রিয় খাবার। সারা পৃথিবীতে দুই ধরনের কুঁচিয়া পাওয়া যায়। দেশীয় একটি কুঁচিয়ার ওজন সাধারণত ৩০০ থেকে ২০০০ প্রাম পর্যন্ত হয়। পৃথিবীর অন্য দেশে কুঁচিয়ার ওজন ১০০০ গ্রামের বেশি হয় না। ফলে বিদেশে বাংলাদেশী কুঁচিয়ার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কুঁচিয়ার ব্যাপক চাহিদা থাকায় এ দেশের ময়মনসিংহ, শেরপুরের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রকৃতি থেকে প্রজননক্ষম মা কুঁচিয়া সংগ্রহ করে রফতানি করা হচ্ছে। ফলে দিন দিন প্রকৃতিতে কমে যাচ্ছে কুঁচিয়া মাছ। ২০০০ সালের দিকে কুঁচিয়াকে বাংলাদেশের বিপন্ন মাছের প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

ড. হারুন বলেন, কুঁচিয়ার বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষের জন্য কৃত্রিম পদ্ধতিতে পোনা উৎপাদনের বিকল্প নেই। এসব বিষয়কে সামনে রেখে ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) অর্থায়নে আমরা গবেষণা শুরু করি। গবেষণার প্রথম দিকে ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকা থেকে কুঁচিয়া সংগ্রহ করে কৃত্রিম প্রজননের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রজনন হরমোন প্রয়োগ করি।