২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো


চিঠি দিও প্রতিদিন, চিঠি দিও-নইলে যে থাকতে পারব নাÑ আশির দশকে জনপ্রিয় শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের চিঠি নিয়ে এই গান ছিল অনেকের মুখে মুখে। এরকম রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর ‘ভাল আছি ভাল থেকো আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’, তারও আগে ‘যারে যা চিঠি লেইখ্যা দিলাম সোনা বন্ধুর নামে রে যারে যা চিঠি...চিঠি নিয়ে এমন গান ছিল আপামর জনতার কণ্ঠে। তবে চিঠির কদর যেমন কমে গেছে তেমনি এমনসব মনকাড়া গানেরও খুব অভাব এখন। একটা চিঠির জন্য এখন আর কেউ অপেক্ষার প্রহর গোনে না। ডাক পিয়নেরও অপেক্ষায় থাকে না কেউ। অথচ একসময়কার এই চিঠি কিংবা প্রেম পত্রের ওপর ভর করে ডাকপিয়ন, ডাক হরকরা, রানার ও পোস্ট মাস্টার নিয়ে নির্মিত হয়েছে অনেক ছোট গল্প, চলচ্চিত্র পর্যন্ত। চিঠি নিয়ে রয়েছে নানা রোমান্টিক কিংবা হৃদয়বিদারক গল্পকাহিনীও। এসব কিছুই এখন হারিয়ে যাওয়ার কাতারে। কোন প্রেমিক মন এখন যেমন চিঠির জন্য আনচান করে না, কিংবা কোন বাবা মা, সন্তান কিংবা স্বজনও চিঠিপত্রের জন্য ডাকপিয়নের ‘চিঠি আছে’ ডাক শোনার অপেক্ষা করে না। একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ডিজিটালাইজড বাংলাদেশের যাত্রালগ্নে মোবাইল ফোন, এসএমএস, হালে ফেইসবুক, টুইটার, স্কাইপি দখল করেছে চিঠির জায়গা। ফলে পোস্ট অফিস, পোস্ট মাস্টার, রানার, ডাকপিয়ন সবকিছুই এখন অচেনাদের কাতারে চলে গেছে। তারপরও বলা যায় চিঠিতে হৃদয়ের যে ব্যাকুলতা, আকুতি, আবেগ প্রকাশ করা যেত, ডিজিটালের তথ্য প্রযুক্তিতে সেটির একেবারেই অনুপস্থিত। চিঠিতে প্রাণের যে স্পন্দন অনুভূত হতো সেটি নেই আধুনিক প্রযুক্তিতে।

আর তাই অনেকেই মনে করছেন, ‘আবার আসবে ফিরে চিঠি চিরকুট চালাচালির মাধ্যমে হৃদয়ের আবেগঘন মন দেয়া-নেয়ার সেই বর্ণাঢ্য দিনগুলো। যেখানে প্রেমিক মন আনচান ও উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনবে চিঠির জন্য, মমতাময়ী মা কিংবা আদরের সন্তান পথ চেয়ে থাকবে ডাকপিয়নের-‘চিঠি আছে’ ডাক শোনার জন্য।

Ñবাবুল হোসেন

ময়মনসিংহ থেকে