২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ডালাস হওয়ার্ডের অন্যরকম সাফল্য


শৈশবে স্পাইডারম্যান হতে চায়নি, এমন মানুষের দেখা মেলা ভার, যদি সে অন্তত একবারের জন্য হলেও এই কমিক বই পড়ে থাকে। তাছাড়া সায়েন্স ফিকশনের প্রতিও শৈশবে সবার কম বেশি আগ্রহ থাকে। সেই আগ্রহ থেকেই এ্যাকশন মুভি টার্মিনেটর ও কম বেশি সবার দেখা আছে। তা না হলে সায়েন্স ফিকশনের প্রতি আগ্রহ থাকাটা যে এক প্রকার বৃথা। আবার যারা রোমান্টিকতা পছন্দ করেন তারা নিশ্চয় রোমান্টিক মুভি দ্য টুয়েলাইট সাগা দেখেছেন। তবে এই ছবিগুলোর পিছনে লুকিয়ে আছে হাজারো গল্প এবং অনেক বিখ্যাত ব্যক্তির শ্রম। যাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলো ব্রাইস ডালাস হওয়ার্ড। হলিউডের এই ৩৪ বছর বয়সী গ্ল্যামার গার্ল স্পাইডারম্যান ৩, টার্মিনেটর স্যালভেশন বা দ্যা টুয়েলাইট সাগা এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মুগ্ধ করে তুলেছেন এবং হাজারো তরুণের ড্রিম গার্ল হিসেবে খেতাব পেয়েছেন। সম্প্রতি তার অভিনীত জুরাসিক পার্ক সিরিজের চতুর্থ ছবি ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’ বিশ্বের ৬৬টি দেশে মুক্তি পেয়েছে এবং প্রতিটি দেশেই বিগ হিট লিস্টে আছে ছবিটি।

বয়সের ঘড়িটা যেন বড় বেশি বেয়াড়া। টিকটিক করে চলছে তো চলছেই। কিন্তু সময়টাকে যদি স্থির করে রাখা যেত তাহলে মন্দ হতো না। তবে অবশ্যই সেটা তারুণ্যের আকাক্সক্ষা থেকে। কারণ বুড়িয়ে যাওয়ার ভয় কে না পায়! তবে হলিউডে প্রচলিত আছে লাইফ বিগিনস আফটার ফরটি। কিন্তু ব্রাইস ডালাস হওয়ার্ড যেন এ ব্যাপারে কিছুটা ভিন্ন। তার মতে মানুষ যখন তারুণ্যতা লাভ করে তখন তার গ্ল্যামার থাকে এবং এ সময় নারীর সৌন্দর্যকে পণ্যের মতো মূল্যায়ন করা হয়। কিন্তু আফটার ফরটি? আমি তো মনে করি আফটার ফরটি ক্যারিয়ার আয়ুর শুরু হলেও সেটা যেন শেষের শুরু। তাই আমি এই বয়সটাই উপভোগ করছি তাছাড়া আরও বুড়ো হতে আমার যেন আর তর সইছে না। কিন্তু মাত্র ৩৪ বছর বয়সেই কেন তার মাথায় এসব প্রলাপ ঘুরপাক করছে? এর কারণ জানতে হলে ফিরে যেতে হবে হওয়ার্ডের প্রথম জীবনে।

১৯৮১ সালের ২ মার্চ ক্যালিফোর্নিয়ার লস এ্যাঞ্জেলেসে বিখ্যাত অভিনেতা ও অস্কার জয়ী পরিচালক রন হওয়ার্ড এবং অভিনেত্রী ও লেখিকা চেরিল হওয়ার্ডের কোলজুড়ে জন্ম নেয় ব্রাইস হওয়ার্ড। কিন্তু চেরিল হওয়ার্ড যখন ডালাস থাকতেন তখন তিনি প্রথম তার গর্ভে ব্রাইসকে অনুভব করে। তাই জন্মের পর মেয়ের নামের মাঝে সেই ডালাস শব্দটি স্থান করে দেয় এবং সারা বিশ্ব এখন ব্রাইস হওয়ার্ডকে ব্রাইস ডালাস হওয়ার্ড নামেই জানে। জন্মের পর থেকেই ব্রাইসকে নিয়ে তার বাবা মা স্বপ্ন দেখতেন যে, তাদের মেয়ে একজন ব্যবসায়ী হবে এবং সে বিশ্বে ব্যবসায়ী হয়েই সুনাম অর্জন করবেন। তারা কখনোই চাইতেন না যে, তাদের সন্তান টেলিভিশনে অভিনয় করবে। কিন্তু মাত্র সাত বছর বয়সেই ১৯৮৯ সালে ব্রাইস ‘পারেনথুড’ ছবিতে অভিনয় করার সুযোগ পেয়ে যায়। যে ছবির পরিচালক ছিলেন স্বয়ং ব্রাইস’র বাবা রন হওয়ার্ড। যদিও রন এতে আপত্তি জানায়, কিন্তু মেয়ের ইচ্ছে শক্তির কাছে রনকে কিছুটা পরাজিত হতে হয়। তবে রনের মন ভরে যায়, যখন ছবি মুক্তির পর দর্শক তাঁর মেয়ের অভিনয়ে মুগ্ধ হয় এবং ব্রাইসকে স্ট্রবেরী গার্ল খেতাব দেয়। সেই বাচ্চা কাল থেকেই ব্রাইস হওয়ার্ডের হলিউড পদচারণা শুরু হয়ে যায়, যা তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে দেয়নি। তবে প্রথম ছবির পর সেই ছোট্ট মেয়েটি বেশ কয়েক বছর কোন কাজ না করে পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকেন এবং দীর্ঘ ছয় বছর পর অবশেষে ১৯৯৫ সালে তার দ্বিতীয় ছবি এ্যাপোলো ১৩ মুক্তি পায় এবং এখানেও তিনি অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। তারপর আবার বিরতি। প্রথম দুই চলচ্চিত্রে অতিরিক্ত চরিত্রে অভিনয় করেও তিনি যে পরিমাণ দর্শক ভালোবাসা কুড়িয়েছেন, সেটাকে শক্তি হিসেবে কাজে লাগিয়ে ২০০০ সালে ‘হাউ দ্য গ্রিঞ্জ স্টোল ক্রিস্টমাস’ ছবিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন। আর এতেই যেন তিনি বাজিমাত করে ফেলেন। তারপর একে একে তার ঝুড়িতে যোগ হতে থাকে অসংখ্য ছবির সফলতা। যেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো স্পাইডার- ম্যান ৩, টার্মিনেটর স্যালভেশন, দ্য টুয়েলাইট সাগা-ইক্লিপস, দ্য টুয়েলাইট সাগা-ব্রেকিং ডোন পার্ট ২, গুডলাক, দ্য হেল্পসহ সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া জুরাসিক ওয়ার্ল্ডের মতো বিখ্যাত সব ছবি। ২৭ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি বহু ছবির জন্য নমিনেশন পেয়েছেন এবং এর পাশাপাশি অর্জন করে নিয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। এখনো জুরাসিক ওয়ার্ল্ড ছবিটি নিয়ে মাতামাতি থাকলেও ব্রাইস ডালাস হওয়ার্ড কিন্তু আগামী বছরের জন্য পেট’স ড্রাগন ছবিটির কাজ শুরু করে দিয়েছেন। যা মুক্তি পাবে ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে। তাই বোদ্ধারাও যেন হলিউড টপ হিরোইন চার্টের প্রথম স্থান তাকে দিকে কার্পণ্য করেননি। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় ব্রাইস ডালাস হওয়ার্ড যেন সফলতার অন্য আর এক নাম।

নাজমুল আহমেদ তন্ময়