১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

জাতীয় সংসদে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট পাস ॥ লক্ষ্য উচ্চ প্রবৃদ্ধি


জাতীয় সংসদে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট পাস ॥ লক্ষ্য উচ্চ প্রবৃদ্ধি

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রক্রিয়াকে আরও একধাপ এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট পাস করা হয়েছে। সর্বসম্মতিক্রমে নির্দিষ্টকরণ আইন ২০১৫ পাসের মধ্যদিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে এ বাজেট পাস হয়। আর এ বাজেট পাসের মধ্যদিয়ে জাতীয় সংসদ সরকারকে রাষ্ট্রের সংযুক্ত তহবিল থেকে চার লাখ ১৫ হাজার ৩০৮ কোটি ১৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ব্যয়ের অনুমতি দিয়েছে। এরমধ্যে প্রকৃত ব্যয় হচ্ছে দুই লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। আজ পহেলা জুলাই থেকে এ বাজেট কার্যকর শুরু হবে।

উল্লেখ্য, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত ৪ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। এটি হচ্ছে নিট বাজেট। এই অর্থই সরকার পরিচালনার জন্য আগামী অর্থবছরে ব্যয় হবে। আর জাতীয় সংসদ মঙ্গলবার যে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৩০৮ কোটি ১৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ব্যয়ের অনুমতি দিয়েছে তা গ্রস বাজেট। এই টাকার পুরোটা ব্যয় হবে না। ব্যয় হবে শুধু দুই লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। সংবিধানের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী এই অতিরিক্ত টাকা বাজেট বরাদ্দ দেখাতে হয়। যা আবার আয় খাতে দেখিয়ে বাজেটের ভারসাম্য রক্ষা করা হয়।

রাষ্ট্রের সংযুক্ত তহবিল থেকে যে চার লাখ ১৫ হাজার ৩০৮ কোটি ১৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে তারমধ্যে এক লাখ ৪৪ হাজার ১৭৬ কোটি ৯৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা হচ্ছে সংযুক্ত তহবিলের ওপর দায়। এই অর্থ খরচের জন্য সংসদের অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না। রাষ্ট্রপতি এ অর্থ সরাসরি ব্যয় করতে পারেন। অবশিষ্ট দুই লাখ ৭১ হাজার ১৩১ কোটি ২১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা খরচের জন্য সংসদের অনুমতি প্রয়োজন।

আগামী অর্থবছরের বাজেটের এই বরাদ্দ অনুমোদনের জন্য সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা মোট ৫৬টি মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপন করেন। এই দাবিগুলোর ওপর বিরোধী ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা মোট ৫২৫টি ছাঁটাই প্রস্তাব আনেন। জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র ১০ জন সংসদ সদস্য এই ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো আনেন। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল নীতি অনুমোদন ও মিতব্যয় ছাঁটাই, যা শেষপর্যন্ত কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায় এবং সরকারী দলের সদস্যদের হ্যাঁ ভোটে এ সকল মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে মন্ত্রীদের চাওয়া বরাদ্দগুলো সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত হয়।

মঞ্জুরি দাবিগুলোর মধ্যে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা অনুযায়ী সাতটি দাবির ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এগুলো হলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ব্যাংক ও আর্থিক খাত, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশন। এগুলোর ওপর ঘুরেফিরে জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলীয় ফরাজি, শওকত চৌধুরী, হাজী সেলিম, ফখরুল ইমান, মাহজাবীন মোরশেদ, তাহজীব আলম সিদ্দিকী, আবদুল মতিন, এম এ হান্নান ও নুরুল ইসলাম মিলন আলোচনা করেন। তবে আলোচনা শেষে তাদের আনীত ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

বাজেট পাস উপলক্ষে রবিবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। অধিবেশনের শুরু থেকেই সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা একে একে তাদের মন্ত্রণালয় ও বিভাগের আগামী অর্থবছরের বরাদ্দ চেয়ে মঞ্জুরি দাবি উত্থাপন করেন। স্পীকার একে একে এ সকল মঞ্জুরি দাবি নিষ্পত্তি করেন। মঞ্জুরি দাবিগুলো নিষ্পত্তি শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দুপুর ১টা ২৮ মিনিটে নির্দিষ্টকরণ আইন ২০১৫ জাতীয় সংসদ উত্থাপন করেন। এই আইনের দফাগুলো সংসদ কর্তৃক গৃহীত হওয়ার পর দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে সর্বসম্মতিক্রমে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট পাস হয়।

ব্যাংক জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতরা ছাড় পাবে না : অর্থমন্ত্রী ॥ সমঝোতা অনুযায়ী সাতটি বিষয়ের মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে বরাদ্দের ওপর আলোচনার মধ্য দিয়ে ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শুরু হয়। এ বিভাগের বরাদ্দের বিরুদ্ধে আনীত ছাঁটাই প্রস্তাবে জাতীয় পার্টির ৬ জন ও স্বতন্ত্র ২ জন সংসদ সদস্য বিভিন্ন ব্যাংকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনার কড়া সমালোচনা করেন। জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থা-বিশ্বাস অর্জন খুব জরুরী। যখন আস্থার ঘাটতি দেখা যায়, তখনই সমস্যা হয়। সোনালী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের আগে কেউ স্পর্শ পর্যন্ত করতে পারেনি। কিন্তু আমরা ছাড় দেইনি। মামলা করেছি, জড়িতদের জেলে নিয়েছি, বিচারের মুখোমুখি করেছি।

তিনি বলেন, সোনালী ব্যাংকের ঘটনায় একজন ম্যানেজারকে জেলে নেয়া হয়েছে, কিন্তু দুঃখের ব্যাপার, উনি জেলেই মারা গেছেন। আরেকজন এমডি বর্তমানে জেলে রয়েছে। জালিয়াতির আসামিদের ছাড় দেয়া হবে না। তিনি বলেন, কোন ব্যাংক থেকে যে ঋণ নেয়, আর যে ঋণ দেয়- তারা সমান দায়ী। বেসিক ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনা সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে বেসিক ব্যাংকের ঘটনায় বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। ওই পর্ষদ বিষয়টি অনুসন্ধান করছে। পরিচালনা পর্ষদের অনুসন্ধান রিপোর্ট পাওয়ার পর সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুষ্টলোকেরা যাতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় খাতে ছাঁটাই প্রস্তাবের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, যেসব উপদেশ দেয়া হয়েছে সেগুলো অদ্ভুত উপদেশ। সংসদ সদস্যরা ভুল পরামর্শ দিয়েছেন। তাই এ মন্ত্রণালয়ের টাকা কমাতে পারছি না। আমরা সরকারী কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতার বৈষম্যের পরিত্রাণ চাই। এ জন্য ২০১০ সালে ৬২শতাংশ বেতন-ভাতা বাড়িয়েছি। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে যে বেতন দিতে যাচ্ছি, তাতে আর জনপ্রশাসনে অসন্তোষ থাকবে না। মন্ত্রণালয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সরকার সবচাইতে বেশি চেষ্টা করে। বেসরকারী খাতের সমান বেতন সরকারী কর্মকর্তাদের কোন দিনই হয় না।

দুদক সম্পূর্ণ স্বাধীন : মতিয়া চৌধুরী ॥ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খাতে বাজেট বরাদ্দের বিরোধিতা করে আনীত ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে নোটিসদাতা সংসদ সদস্যরা দেশে দুর্নীতি দমনে দুদক তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে অভিযোগ করেন। জবাবে সংসদকার্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন সম্পূর্ণ একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। তারা স্বাধীনভাবে নিজস্ব টিম দিয়ে দুর্নীতির তদন্ত এবং তদন্ত শেষে মামলা করছে। এ ক্ষেত্রে সরকার থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে, কোথাও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে না।

মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের নিরলস প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে বলেন, পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র দেশ বাংলাদেশ, যারা দুদকের মাধ্যমে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ মামলার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার এ ক্ষেত্রে নজির সৃষ্টি করেছে। আরাফাত রহমান কোকোর পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা হয়েছে। সরকার থেকে যদি সহযোগিতা না করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হতো তবে বিদেশ থেকে অর্থ ফেরত আনা যেত না। তিনি বলেন, দুর্নীতি একেবারে নির্মূল করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্নীতি হ্রাস, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

স্বাস্থ্যখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ॥ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বাজেট বরাদ্দের বিষয়ে আনীত ছাঁটাই প্রস্তাবে সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আজ সারাবিশ্বের নেতারা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করছে। সবাই স্বীকার করছেন এখন গ্রামে ডাক্তার থাকছেন, সেবা দিচ্ছেন। আমি স্পষ্ট বলে দিয়েছি, দুই বছর গ্রামে চিকিৎসকদের থাকতেই হবে, তার আগে কাউকেই প্রত্যাহার করা হবে না। কেউ না থাকলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এত স্বল্প বরাদ্দ দিয়ে দাবি পূরণ করা যাবে না : শিক্ষামন্ত্রী ॥ শিক্ষা মন্ত্রণালয় খাতে বাজেট বরাদ্দ অপ্রতুলতা নিয়ে ছাঁটাই প্রস্তাব আনীত ১০ জন সংসদ সদস্য কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁদের সঙ্গে একমত পোষণ করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, এবারের বাজেটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে উন্নয়ন খাতে ৪ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা গত বছরের বাজেটের বরাদ্দ থেকে মাত্র ৫৫ কোটি টাকা বেশি। অথচ অনেক মন্ত্রণালয়ে ৮ হাজার কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মাত্র ৫৫ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ নিয়ে কয়টা বিল্ডিং করতে পারব, কয়টা কম্পিউটার কিনতে পারব, কয়টা স্কুলকে এমপিওভুক্ত করতে পারব? এত স্বল্প বরাদ্দ দিয়ে সবার দাবি পূরণ করতে পারব না, পরে আমাকে গালিগালাজ করা ঠিক হবে না।

শিল্প বন্ধ নয় বরং বন্ধকৃত শিল্প চালু করছে বর্তমান সরকার : শিল্পমন্ত্রী ॥ শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাজেট বরাদ্দের বিপরীতে আনীত ছাঁটাই প্রস্তাবে আনীত অভিযোগের জবাবে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ’৭৫ পরবর্তী সরকারগুলো দেশের অনেক শিল্প কলকারখানা বন্ধ করেছে। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন গত তিন মেয়াদের সরকারের সময় কোন কলকারখানা বন্ধ করা হয়নি। বরং বিগত সময়ে বন্ধকৃত শিল্প-কারখানাগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অনেকগুলোই চালু করা হয়েছে।

চিনিকলে লোকসানের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, দেশের চিনিকলগুলো শুধুমাত্র আখের ওপর নির্ভরশীল। আর এই আখ মাত্র তিন মাস চলে, বাকি সময় চিনিকলগুলো বন্ধ থাকে। এদিক চিন্তাভাবনা করে শুধু আখের ওপর নির্ভর না করে সুগার বিটের মাধ্যমে চিনি উৎপাদন, জৈব সার ও বিদ্যুত উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, দুটি মিলে পরীক্ষামূলকভাবে চালুও হয়েছে। এটা পরিপূর্ণ বাস্তবায়িত হলে চিনিকলগুলো লাভজনক হয়ে উঠবে। হাজারীবাগ ট্যানারি স্থানান্তর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের প্রক্রিয়া জোরেশোরেই চলছে। খুব শীঘ্রই পরিপূর্ণভাবে স্থানান্তর হবে। তবে হাজারিবাগ ট্যানারির কারণেই শুধু বুড়িগঙ্গা দূষিত হচ্ছে না, অবৈধ দখলের কারণেও দূষিত হচ্ছে। এই অবৈধ দখলমুক্ত করতে হবে।

দলওয়ারি বাজেটের ওপর আলোচনাকারী সদস্যদের মধ্যে ছিলেন- সরকারী দলের ১৫৩ জন, ওয়ার্কার্স পার্টির ৫ জন, জাসদের ৫ জন, তরিকত ফেডারেশনের ১ জন, জাতীয় পার্টির ৩০ জন, জেপির ১ জন, বিএনএফের ১ জন ও স্বতন্ত্র ১০ জন সংসদ সদস্য।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর এটি দ্বিতীয় বাজেট। বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১২ দশমিক ১ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে আয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। এছাড়া, এনবিআর বহির্ভূত সূত্র থেকে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির ০ দশমিক ৩ শতাংশ। কর বহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৫ শতাংশ, বৈদেশিক অনুদান ৫ হাজর ৮০০ কোটি টাকা।

বাজেটে অনুন্নয়নসহ অন্যান্য খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ১৯১ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে ৯৭ হাজার কোটি টাকা এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার ৩ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা অর্থাৎ এ খাতে মোট ১ লাখ ৯৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা জিডিপির ১১ দশমিক ৬ শতাংশ।

বাজেটে সার্বিক বাজেট ঘাটতি ৮৬ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে, যা জিডিপির ৫ শতাংশ। এ ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক সূত্র থেকে ৩০ হাজার ১৩৪ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে ৫৬ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা সংস্থানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৩৮ হাজার ৫২৩ কোটি এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক বহির্ভূত খাত থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অবশ্য অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তব্যে বলেন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০১৬-২০) জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করে ২০১৯-২০ অর্থবছর নাগাদ ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বাজেটে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: