১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বিদায় রনি


মৃত্যু এক অমোঘ নিয়তি। যা এড়ানোর সাধ্য কারও জানা নেই। এমন অনিবার্য সত্য জানা সত্ত্বেও আমরা কেউই এ পরিণতির প্রতীক্ষায় থাকি না। তারপরও হঠাৎ কোন একদিনে, কোন এক ক্ষণে জীবনের কপাটে কড়া নাড়ে মরণ। ফিরিয়ে নিয়ে যায় চির ঘুমের দেশে। যা আমাদের বিচ্ছিন্ন করে দূরে সরিয়ে দেয় পরিবার, প্রিয়জন কিংবা বন্ধুদের। এমন কারও মৃত্যু আমাদের উচ্ছল জীবনে দাগ কেটে রাখে, বিষণœ করে তোলে। ক্ষণে ক্ষণে ভেসে ওঠে বিদায়ের সে ছবি। হারিয়ে যাওয়া মানুষটির শেষ দেখা, শেষ হাসি, যেন চির ভাস্বর হয়ে থাকে স্মৃতির পাতায়।

আমারও তেমনি রনির সঙ্গে শেষ দেখার মুুহূর্তটা বার বার ভেসে উঠছে। শেষ বিদায়ের শব্দগুলো কানে বাজছে।

রনির এমন বিদায়ের জন্য আমরা সবাই প্রস্তুত ছিলাম। কারণ দীর্ঘ দুটি মাস সে ইনটেনসিভ কেয়ারে লাইফ সাপোর্ট বেঁচে ছিল। তখন অবশ্য সম্ভাবনা ছিল তার ফিরে আমার, বেঁচে ওঠার। কিন্তু গত ২৫ জুন সকল সম্ভাবনাকে মিথ্যা করে রনি আমাদের সকলকে ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দেয়। প্রায় মাস দুয়েক আগে রনি মারাত্মক দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়। তার মস্তিষ্কে ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়। রনির এমন দুর্ঘটনায় তখন বিজ্ঞাপন পাড়ায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিচালক, সহপরিচালক, সিনেমেটোগ্রাফার, রনির সহকর্মীসহ সকলেই ছুটে আসে স্কয়ার হাসপাতালে। রনি তখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। দুই বার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর একাই লড়ে যাচ্ছিল সে। আর আমাদের ছিল কেবল শুভ কামনা, তীব্র আকাক্সক্ষা তার ফিরে আসার।

বিজ্ঞাপন জগতের অনেকেই এমনকি এজেন্সি ও গ্রামীণফোন রনির চিকিৎসায় সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিল। প্রতিদিন তার চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে কয়েকটি বিজ্ঞাপন তৈরির পরিকল্পনাও ছিল। সকলেই তাকে খুব ভালবাসত। সকলের মধ্যমণি ছিল সে। কাজ করত ফেইসকাট নামক একটি বিজ্ঞাপন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে। মেঘদল ব্যান্ডের গায়ক ও পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমনের সহকারী পরিচালক রনি। যেন সুমনের আস্থা ও নির্ভরযোগ্যতার প্রতীক। কাজের জায়গায় অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও গোছানো একজন সহযোদ্ধা। যার তুলনা রনি নিজেই।

সুমনের বয়সে অনেক ছোট হলেও রনি তার বন্ধুই ছিল। ফেসবুকে দেয়া সুমনের (বন্ধু কি খবর বল...) কবিতায় অন্তত তা উঠে আসে। রনির মৃত্যুতে সকলে শোকাহত, বিমর্ষ। কারণ, লাইট-ক্যামেরা জগতে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। বলতে শোনা যাবে না জবধফু, ঝঃধহফনু, ড়ৎফবৎ ঝরৎ... ডি. ডেস্ক