২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আজ ফেলানী হত্যার পুনর্বিচার শুরু হচ্ছে


স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম ॥ আলোচিত ফেলানী হত্যার পুনর্বিচার কার্যক্রম ৩ মাস ৫ দিন মুলতবী থাকার পর আজ মঙ্গলবার ভারতের বিশেষ আদালত বসবে। তবে বারবার তুচ্ছ কারণ দেখিয়ে আদালত মুলতবীর ঘটনায় ফেলানী হত্যার ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। আসামি ও বিচারকের অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আর যেন রায়ের তারিখ পিছানো না হয় এ দাবি ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম নুরু’র।

নিহত ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম নুরু আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ভারত সরকার ফেলানী হত্যার বিচার নিয়ে তামাশা শুরু করেছে। খুনী বিএসএফ সদস্য অমীয় ঘোষ নিজের দোষ স্বীকার করার পরও প্রথম দফা বিচারে তাকে খালাস দেয়। অনেক আবেদন নিবেদন করার পর পুনর্বিচার শুরু হলেও সাক্ষ্য নিয়েও তালবাহানা করে। এখন শুধু রায় ঘোষণার পালা। অথচ একের পর এক অজুহাত দাঁড় করিয়ে ব্যহত করছে বিচার কার্যক্রম। এসব ঘটনায় ন্যায় বিচার পাব কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

এ্যাডভোকেট এস এম আব্রাহাম লিঙ্কন বলেন, বিচারের রায় বিলম্বিত করা হতাশাব্যঞ্জক। বিলম্বিত বিচার ন্যায় বিচার প্রাপ্তির প্রধান অন্তরায়। শুধুমাত্র আসামির অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এর আগে ৪ মাস আদালতের কার্যক্রম পিছানো হয়। এখন আবার আইনজীবী অসুস্থ। তাই তিন মাস আদালত মুলতবী, এটা দুঃখজনক। বাংলাদেশ আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন ফেলানীর হত্যা মামলার তারিখ বার বার পিছানো হচ্ছে। বিচার যদি দেরি করে দেয়া হয় তাহলে সে বিচার না দেয়ারই শামিল। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের উন্নতির আভাস পাচ্ছি, আমি আশা করছি, এ ব্যাপারে জরুরীভিত্তিতে ভারত সরকার পদক্ষেপ নিবে। কারণ এখানে একটি অসহায় মেয়ে নির্মমভাবে হত্যাকা-ের স্বীকার হয়েছিল যার ফলে বিশ্ব বিবেক এখানে কেঁদে উঠেছিল।

তিনি আরও বলেন, এই বিচার ব্যবস্থার দায়িত্বে যারা আছেন তারা বিষয়টি দেখবেন এবং এখানে যে নৈতিকতার বিষয়টি রয়েছে তার দিকে তাকিয়ে বিচারটি যত তাড়াতাড়ি পারা যায় একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে শেষ করবেন। সুলতানা কামাল বলেন, ফেলানী হত্যাকা-ের যদি বিচার না হয় তাহলে আমরা পরস্পরের কাছে কোন বিষয়ে কোন রকম প্রত্যাশা রাখতে পারবো না।

এর আগে গত বছর ২০ নবেম্বর ভারতের কোচবিহারে বিএসএফ সেক্টর সদর দফতরে স্থাপিত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে ফেলানী হত্যার পুনর্বিচার কার্যক্রম ২৪ মার্চ ’১৫ পর্যন্ত মুলতবী করে। এরপর গত ২৬ মার্চ মুলতবী করা হয় ৩০ জুন পর্যন্ত। তারপরও রায় ঘোষিত হবে কিনা তা আমরা জানি না।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: