২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ঈদ সামনে রেখে সৈয়দপুরে চোরাচালানিরা সক্রিয়


স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী ॥ আসন্ন ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে উত্তর জনপদের চোরাচালানির ট্রানজিট ও নিরাপদ স্থান হিসেবে নীলফামারীর সৈয়দপুর আড়তখানায় পরিণত হয়েছে। সীমান্ত থেকে বিভিন্ন পথ দিয়ে ভারতীয় চোরাইপণ্য আসছে এখানে বানের পানির মতো। আর এখান থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে বিভিন্ন জেলায়। সচেতন মহল বলছেন, চোখের সামনে চোরাকারবারী গডফাদাররা এ কাজে নারী, শিশু ও হিজড়া ও বেকার যুবকদের টাকার বিনিময়ে ব্যবহার করছে। তবে সম্প্রতি জিআরপি পুলিশের অভিযানে কিছু চোরাইপণ্য ট্রেনে বহনের সময় আটক করা হয়। এর মধ্য ভারতীয় ৫৭ প্যাকেট জিরা রয়েছে। তবে আটক হয়নি কেউ। উত্তরের রংপুর বিভাগের আট জেলার মধ্যমণি ব্যবসা বাণিজ্যের শহর সৈয়দপুর। এখান থেকে রেল, সড়ক ও বিমান পথ রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত। সৈয়দপুর ব্যস্ততম ও বাণিজ্য প্রধান শহর হওয়ায় চোরাকারবারিরা এই শহরটিকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত দিয়ে ট্রেনে, বিরল সীমান্ত দিয়ে বাইসাইকেলে নিয়ে আসা হয় চোরাই মালামাল। হিলি থেকে আন্তঃনগর তিতুমীর, বরেন্দ্র, রূপসী ট্রেনে সৈয়দপুরে চোরাইপণ্য আনা হচ্ছে। আমতলী সীমান্ত দিয়ে যেসব মালামাল আসে তা প্রথমে আমবাড়িতে নেয়া হয়। সেখান থেকে চোরাচালানি দলটি আসে ঘণ্টাঘরে। এখানে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অবস্থান গ্রহণের পর সুবিধাজনক সময়ে নেয়া হয় রানীরবন্দর বা চম্পাতলীতে। এরপর সৈয়দপুরে প্রবেশ করে।

এ ছাড়া লালমনিরহাটের বুড়িমারী সীমান্ত হয়ে আসা মালামাল পিকআপ, মাইক্রোবাস কিংবা প্রাইভেটকারে আসা হয় সৈয়দপুরে। একইভাবে নীলফামারীর চিলাহাটি, গোমনাতীসহ অন্যান্য সীমান্ত পয়েন্টের চোরাচালানিরা সৈয়দপুরকেই নিরাপদ ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে।

আসন্ন ঈদ সামনে রেখে যে সব চোরাইপণ্য ভারত থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে এসবের মধ্য রয়েছে মামণি টেক্সটাইলের শাড়ি, লুঙ্গি, লেহেঙ্গার মধ্যে ফিসকাট, চুলী, কাতান লেহেঙ্গা, কাটিং লেহেঙ্গা, হায়দ্রাবাদী সিল্ক, প্রিন্টের শিপন, ক্রেপ সিল্ক, পাঞ্জাবি। এ ছাড়া নিয়মিত আসছে আতশবাজি, মাদক হিসেবে খ্যাত ফেনসিডিল, মদ, নিষিদ্ধ ওষুধ, জিরাসহ বিভিন্ন ধরনের মসলা ও সাবান।

সূত্রমতে, বিভিন্ন রুটের সীমান্ত গলিয়ে ভারতীয় অবৈধ এসব মালামাল পরিবহনে নারী, শিশু, হিজড়া ও বেকার যুবকদের ব্যবহার করছে চোরাকারবারি গডফাদার চক্র। অভিযোগ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে এদের রয়েছে আঁতাত। ফলে এরা সব সময় থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।