১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

এ সময়ে আরিফিন শুভ


গত বছর অল্প কয়েক দিনেই ঢাকাই চলচ্চিত্রের একজন নির্ভরযোগ্য নায়কে পরিণত হয়েছেন চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ। এ পর্যন্ত তার অভিনীত ছয়টি চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। চলতি বছরটা তার শুরু হচ্ছে লাকি সেভেন দিয়ে। অর্থাৎ তার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের সাত নম্বর চলচ্চিত্র দিয়ে ২০১৫ সালে দর্শকের মুখোমুখি হয়েছেন শুভ। আর তাতেই বাজিমাত করেছেন তিনি। ছোটপর্দায় জনপ্রিয় অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম’র সঙ্গে প্রথমবারের মতো অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ। শিহাব শাহীন পরিচালিত ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ চলচ্চিত্রে এই দু’জনকে দর্শক একসঙ্গে দেখেছেন বড় পর্দায়। শুভ এবং মম’র অভিনয়ে যেমন মুগ্ধ হয়েছেন দর্শক ঠিক, তেমনি চলচ্চিত্রর গান এবং লোকেশনে যথেষ্ট বিচিত্রতা থাকার কারণে দর্শক হলমুখী হয়েছেন। দর্শকের ভালবাসায় সিক্ত হয়েছেন আরিফিন শুভু ও মম। ঠিক তেমনি সাফি উদ্দিন সাফি পরিচালিত আব্দুল্লাহ জহির বাবুর কাহিনী, সংলাপ ও চিত্রনাট্যে শুভকে দেখা যায় ‘ওয়ার্নিং’ চলচ্চিত্রে একটি চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে যে চরিত্রে শুভ নিজেকে ভেঙ্গেছেন, গড়েছেন একেবারেই নতুন করে। একজন রিপোর্টারের ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যায় আরিফিন শুভকে। গেটআপে, অভিনয়ে, ডায়লগ থ্রোয়িং-এ আরিফিন শুভ নতুনত্ব আনার চেষ্টা করেছেন-এমনটাই দেখেছেন দর্শক টপি খান প্রযোজিত সাফি উদ্দিন সাফি পরিচালিত ‘ওয়ার্নিং’ চলচ্চিত্রে। শুভ বলেন,‘ মম কিংবা মাহির বিপরীতে দুটি চলচ্চিত্রে দর্শকের কাছ থেকে যে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি আমি, তাতে সত্যিই আমি কৃতজ্ঞ দর্শকের প্রতি। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে ভবিষ্যতে এমন আরও ভাল ভাল চলচ্চিত্রে অভিনয় করব। কারণ আমি চলচ্চিত্রে অতিথি নায়ক হতে আসিনি। এখানে থেকে দর্শকের ভালবাসা নিয়ে আজীবন কাজ করে থাকতে এসেছি। আর এ জন্য ইন্ডাস্ট্রির সবার ভালবাসা চাই, দোয়া চাই, দর্শকের হলে হলে গিয়ে আমাদের সিনেমা দেখাটাও চাই আমি। হলে হলে দর্শক না গেলে সিনেমা শিল্প থাকবে না। আর সিনেমা শিল্প না থাকলে আমরা হয়ত অদূর ভবিষ্যতে বিলীন হয়ে যাব।’ পরিচালক সাফি উদ্দিন সাফির ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন শুভ। তাই শুভ’র কাজের প্রতি এক ধরনের আত্মবিশ্বাস জন্ম নিয়েছে পরিচালক সাফির। হয়ত খুব শীঘ্রই একই পরিচালকের কাছ থেকে শুভকে নিয়ে নতুন কোন ঘোষণাও আসতে পারে। শুভ প্রসঙ্গে মাহি বলেন, ‘শুভ এক কথায় অসাধারণ একজন অভিনেতা। তারসঙ্গে কাজ করেছিলাম অগ্নি’তে। এরপর ওয়ার্নিং’-এ। দুটোতেই তিনি নিজেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে উপস্থাপন করেছেন। আরিফিন শুভ অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ছিল খিঁজির হায়াত খান পরিচালিত ‘জাগো’। এরপর মাঝে কেটে গেছে বেশ কয়েকটি বছর। ছোটপর্দার নাটক টেলিফিল্মেও অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন। চলচ্চিত্রে নিয়মিত হবার কারণে সেখানে এখন আর তার দেখা মিলেনা। তাকে দেখতে হলে এখন সিনেমা হলে যেতে হয় দর্শককে। ‘জাগো’র পর শুভ অভিনয় করেছেন সাফি উদ্দিন সাফির ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’, ইফতেখার চৌধুরীর ‘অগ্নি’ , দেবাশীষ বিশ্বাসের ‘ভালোবাসা জিন্দাবাদ’, মোস্তফা কামাল রাজের ‘তারকাঁটা’ ও আশিকুর রহমানের ‘কিস্তিমাত’। শুভ বেশ কিছুদিন আগে শেষ করেছিলেন মোস্তফা কামাল রাজের ‘ছায়াছবি’ চলচ্চিত্রটি। এতে তিনি সহশিল্পী হিসেবে পেয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নায়িকা পূর্ণিমাকে। কিন্তু প্রযোজকের সমস্যাজনিত কারণে চলচ্চিত্রটি এখনো মুক্তির পথে পা বাড়ায়নি। আর শুভ নিজেও প্রায় ভুলতে বসেছেন শাহাদাৎ হোসেন লিটন পরিচালিত ‘মন বুঝে না’ চলচ্চিত্রটির কথা। তবে আরিফিন শুভ তার চলতি বছর নিয়ে অনেক বেশ আশাবাদী। শুরু করেছেন বরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের ‘জেদী’ চলচ্চিত্রের কাজ। পাশাপাশি খুব শীঘ্রই শুরু করতে যাচ্ছেন সোহেল আরমানের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘ভ্রমর’-এর কাজ। এই দুটি কাজ আশা করা যায় শুভকে নিয়ে আসবে অন্যরকম আলোচনায় এমনটাই আশা করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সবাই। শুভ ও নূসরাত ফারিয়া প্রথমবারের মতো একসঙ্গে কাজ করেছেন ‘মিস্টার কুকিজ’র বিজ্ঞাপনে। বিজ্ঞাপনটি এখন বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেলে নিয়মিতভাবে প্রচার হচ্ছে। বিজ্ঞাপনে শুভ ও নূসরাত ফারিয়ার উপস্থিতি বেশ প্রাণবন্ত লেগেছে। আরিফিন শুভ খুব ব্যস্ত থাকেন তার কাজ নিয়ে। তবে চলচ্চিত্রের শত ব্যস্ততায় তিনি কখনই অতীত ভুলে যান না। ভুলে যান না তার বন্ধু আসিফ, অন্তু, রানা, স্টিভ, জন, সুজন, বিটু’র কথা, যারা সবসময়ই তাকে চলচ্চিত্রে কাজ করার ব্যাপারে ব্যাপক উৎসাহ দিয়ে এসেছেন। প্রথমদিকে বাবা মায়ের সম্মতি না থাকলেও এখন শুভ’র কাজে তাদের নীরব সম্মতি মিলেছে। তবে সবার দোয়া নিয়েই তিনি এগিয়ে যেতে চান রূপালি এই পথে। শুভ কামনা ‘শুভ’র জন্য।