১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

পরমাণু আলোচনা থেকে সরে আসতে চান খামেনি


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি তার আলোচকরা এরই মধ্যে পাশ্চাত্যের সঙ্গে পৌঁছেছেন এমন কয়েকটি মৌলিক চুক্তি বানচাল করে দিচ্ছেন বলে মনে হয়। দেশটির পরমাণু কর্মসূচী সীমিত করার এক চূড়ান্ত চুক্তি সই করার এক সপ্তাহেরও কম সময় রয়েছে। খবর নিউইয়র্ক টাইমস ও ইয়াহু নিউজের।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রসারিত এক ভাষণে খামেনি দাবি জানান যে, তেহরানের পরমাণু অবকাঠামোর অংশবিশেষ গুটিয়ে ফেলা এবং দেশটি এর প্রতিশ্রুতি পালন করছে কিনা তা আন্তর্জাতিক পরিদর্শকরা পরীক্ষা করে দেখার আগে অধিকাংশ নিষেধাজ্ঞা অবশ্যই প্রত্যাহার করতে হবে। তিনি এক দর্শকের মতো দীর্ঘ সময়ের জন্য ইরানের নাজুক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচী স্থগিত রাখার সম্ভাবনাও বাতিল করে দেন। অথচ এপ্রিলে ঘোষিত এক প্রাথমিক সমঝোতায় ঐ সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। তিনি ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের যেতে তার অস্বীকৃতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

আমেরিকান কর্মকর্তারা বলেন, তারা আয়াতুল্লাহর সঙ্গে কোন প্রকাশ্য বিতর্কে লিপ্ত হওয়ার ফাঁদে পা দেবেন না। ইরানের পরমাণু বিষয়ে আয়াতুল্লাহর কথাই শেষ কথা। পশ্চিমা পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এরই মধ্যে আলোচনা ৩০ জুনের সময়সীমার পরও চলতে পারে বলে আভাস দেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমেরিকান ও ইউরোপীয় উভয় শ্রেণীর কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বলেন যে, তারা আয়াতুল্লাহর বিবৃতির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ক্রমশ উদ্বিগ্ন।

তারা বলেন, কট্টরপন্থী ব্যক্তিদের ও সামরিক নেতাদের খুশি করাই ঐ বিবৃতির প্রধান উদ্দেশ্য হলেও এটি ইরানের প্রধান আলোচক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাবেদ জারিফের নমনীয়তাকে গুরুতরভাবে সীমিত করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আয়াতুল্লাহর গত দু’মাসের বিবৃতিগুলোকে ইরানের আলোচকদের শক্তি বৃদ্ধি করতে সযতেœ সাজানো হয়েছে। আলোচকরা সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশের বাইরে যেতে পারেন না বলে যুক্তি দেখাতে পারেন।

খামেনি বলেন, ইরানের ওপর এখন বলবৎ এমন সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রথমে তুলে নেয়া হলে দেশটি এর পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে বিশ্ব শক্তিগুলোর সঙ্গেও কোন চূড়ান্ত চুক্তি সই করবে। এতে মনে হয় চুক্তির মূল শর্তের বাস্তবায়নই সম্ভব হবে না। মূল শর্তটি হলো ইরানের সেন্ট্রিফিউজগুলো গুটিয়ে ফেলা এবং এর নিম্নমাত্রায় সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের মজুদ হ্রাস করার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রেখেই কেবল নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহারও করা হবে।

খামেনির মন্তব্যে মনে হয়, ইরানও চূড়ান্ত চুক্তি করার শেষ সময় ৩০ জুনের আগে এর অবস্থান কঠোর করবে।

তেহরান এর বিরোধপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।