১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সামরিক প্রযুক্তিতে কে সেরা


বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ত্রুমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিশ্ব এখন স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে বিপদসঙ্কুল পরিস্থিতির সম্মুখীন। সামরিক বাহিনীর প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর এমন মুখোমুখি অবস্থান যে কোন মুহূর্তে ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। ঘটতে পারে ভয়ানক বিপর্যয়। ইউক্রেন, দক্ষিণ চীন সাগর, ইরানের পরমাণু ইস্যু এমন বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। যে পরিস্থিতির এক প্রান্তে আমেরিকা ও ন্যাটো এবং অন্য প্রান্তে যথাক্রমে রাশিয়া, চীন, ইরান ও উত্তর কোরিয়া। এসব রাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ত্রুমাগত সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে জানান দিচ্ছে নিজেদের সামর্থ্যরে কথা। সামরিক বহরে যোগ করছে নিত্যনতুন সব সরঞ্জাম ও উপাদান। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠত পারেÑ কোন্ রাষ্ট্র সবচেয়ে শক্তিশালী? কার সামরিক উপাদান সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ? স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তীতে খুব সহজে এ প্রশ্নের উত্তর দেয়া সম্ভব হলেও এখন খুব জোর দিয়ে বলা সম্ভব নয় আমেরিকা স্থল-নৌ-বিমান কিংবা সাইবার স্পেসে প্রাধান্য বিস্তার করতে পারবে। বরং সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা চাক হেগেল দাবি করেন, আমেরিকার প্রাধান্য অতীতের মতো আর নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। কারণ বিগত কয়েক দশক ধরে চীন যে পরিমাণ সামরিক বাজেট বাড়িয়েছে তাতে মার্কিন প্রাধান্যের বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। এছাড়া রাশিয়ার সামরিক বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর বিষয়টিও আর কারও অজানা নয়। সম্প্রতি স্মরণকালের বৃহৎ সামরিক বহরে রাশিয়া যোগ করেছে আরমাটা ট্যাঙ্কের নতুন সংস্করণ এবং ঝ-৪০০ মিসাইল। তবে মার্কিন থিঙ্কট্যাঙ্কদের যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলছে তা হলোÑ চীনের অ২/অউ প্রযুক্তির সামর্থ্য। চীনের এমন নতুন প্রযুক্তিতে যুক্ত হয়েছে মনুষ্যবিহীন ড্রোন, স্টিলথ বিমানবহর, সমুদ্রের যুদ্ধ সরঞ্জাম। চীনের চমৎকার প্রকৌশল রীতিতে এমন সব জটিল পদ্ধতি সংযুক্ত করা হয়েছে যা সকল উদ্ভাবনকে যৌথভাবে কাজ করতে সাহায্য করবে। এমন প্রযুক্তি বর্তমানে মার্কিনীদের মাথাব্যথার কারণ। অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীও বসে নেই। বিশ্বের বৃহৎ সামরিক বাজেটের দেশটির রয়েছে অত্যাধুনিক সব সরঞ্জাম। বর্তমানে দেশটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরর্বতীতে তৃতীয়বারের মতো নিজেদের প্রযুক্তির বিকাশ ঘটাচ্ছে। শত্রু রাষ্ট্রের হুমকি এবং বন্ধু রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এমন প্রস্তাবনা, যার বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সর্বপ্রথম ১৯৫০ সালে আমেরিকার সামরিক বাহিনীকে ঢেলে সাজিয়েছে, যখন সোভিয়েত ইউনিয়নের পূর্ব-ইউরোপের আগ্রাসন দেশটির বন্ধু রাষ্ট্রদের উদ্বিগ্ন করে রেখেছিল। পরমাণু বোমার সেই প্রতিযোগিতাময় বিশ্বে আমেরিকা যোগ করেছিল নিত্যনতুন সব উদ্ভাবন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পরাজয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বাধ্য করে দ্বিতীয়বারের মতো সামরিক উদ্ভাবনের দিকে ঝুঁকতে। এমন উদ্ভাবনের ফসল আজকের দিনের রাডার ফাঁকি দেয়া স্টিলথ বিমান, জিপিএস কৌশল এবং গাইডেড মিসাইল। বলতে দ্বিধা নেই, এসব নবআবিষ্কার মার্কিনীদের প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রসমূহ হতে এগিয়ে রাখে এবং বৈশ্বিক প্রাধান্য সৃষ্টিতে অন্যতম ভূমিকা রাখে। তাই প্রথম গালফ যুদ্ধে খুব সহজে সাদ্দামকে পরাস্ত করে যুক্তরাষ্ট্র।

কিন্তু ইরাক-আফগানিস্তানে বিদ্রোহ নিধনে এমন উদ্ভাবন কোন কাজে আসেনি। বরং তাদের ঝুঁকতে হয় মনুষ্যবিহীন ড্রোন নির্মাণে, যা এখন তথাগত ইসলামী জঙ্গিবাদ নির্মূলে মুখ্য ভূমিকা রাখছে। ড্রোনের কৌশল এখন সকলের নাগালের মধ্যে। চীন-ইরান সামুদ্রিক ড্রোনও নির্মাণ করেছে। ইন্টারনেটের কল্যাণে বর্তমান বিশ্বের সকল সামরিক কৌশল অত্যধিক দ্রুতগতিতে পাল্টাচ্ছে। আমেরিকা তৈরি করছে নিত্যনতুন সব সামরিক সমরাস্ত্র। ইন্টারনেটের ফলে সে কৌশলও খবু সহজে চুরি করছে প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রসমূহ। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হলেও তা প্রকাশে কিছুটা সাবধানী হচ্ছে।

চলমান ডেস্ক