২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সম্পাদক সমীপে


নির্মল পরিবেশ মানবজাতির জন্য পরম আশ্রয়। যে কোন কারণে যদি এর ব্যত্যয় ঘটে তবে জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। প্রতিকূল পরিবেশে জীবজগৎ পড়ে হুমকির মুখে। জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে। ম্যাকাইভারের ভাষায়, ‘জীবন ও পরিবেশ ওতপ্রোতভাবে জড়িত।’ মার্মটন বেটসের মতে, ‘পরিবেশ হচ্ছে যেসব বাহ্যিক অবস্থার সমষ্টি যা জীবনের বিকাশকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।’ তাই দেখা যায় যে, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত পরিবেশ মানবজীবনকে আবেষ্টন করে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। আদর্শ ও উন্নত জীবনবোধ গড়তে উন্নত পরিবেশ দরকার। অপরদিকে অসুস্থ পরিবেশ মানুষকে নিম্নমুখী করে তোলে। পরিবেশের পরিবর্তন ঘটলে সামাজিক জীবনেও পরিবর্তন ঘটে।

যুগের পরিবর্তনে আজ পরিবেশেও এসেছে নানা পরিবর্তন। বিভিন্ন কারণে আজ পরিবেশ দূষণের শিকার। ফলে মানবসভ্যতা আজ সঙ্কটের মুখোমুখি। পুরনো গ্রামীণ পরিবেশ কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে। শিল্পবিপ্লবের ফলে গড়ে উঠছে মিলকারখানা। এসব কলকারখানায় নিয়ত তৈরি হচ্ছে বর্জ্য। আর এসব বর্জ্য পানিতে মিশে তৈরি হচ্ছে পানি দূষণ। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণবৈচিত্র্য। মিলকারখানা থেকে কার্বন-ডাই অক্সাইডসহ অন্যান্য গ্যাসীয় পদার্থ উদ্গীরণের ফলেও বায়ু দূষিত হচ্ছে। ঢাকার বাতাসে মিশছে সিসাসহ অন্যান্য পদার্থ যা কিনা পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক। এসব কারণে গ্রিন হাউস এফেক্ট শুরু হয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রে যান্ত্রিক চাষাবাদের ফলে মাত্রাতিরিক্তভাবে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহৃত হওয়ায় কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন যেমন বেড়েছে তেমনিভাবে পরিবেশের ওপর পড়ছে বিরূপ প্রভাব। এর ফলে ক্রমাগত হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশীয় মাছসহ অন্যান্য জীববৈচিত্র্য। তা ছাড়া অবাধে বনভূমি উজাড় করায় প্রাকৃতিক পরিবেশে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ফলে বাড়ছে বন্যা, খরা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস সাইক্লোন, বজ্রপাত, সুনামি, সিডর, আইলার মতো বিধ্বংসী নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। জীবনের জন্য পরিবেশকে অনুকূল ও উপযুক্ত রাখা এখন সময়ের দাবি।

শ্যামল চৌধুরী

মোহনগঞ্জ, নেত্রকোনা