২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ব্রাজিলের গম- ল্যাব টেস্ট রিপোর্টের ভিত্তিতে যা করার তা করা হবে


সংসদ রিপোর্টার ॥ ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গম নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াতে ‘শূণ্যের ওপর’ কথা বলা হচ্ছে বলে দাবি করলেন খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গমের মান নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় সে গমের বেশকিছু নমুনা পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। তখন জাতির কাছে সত্যিকার তথ্য তুলে ধরতে পারব। প্রয়োজনে এ গম নষ্ট করাসহ যা করা দরকার তা করব।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেয়া এক বিবৃতিতে খাদ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সম্প্রতি ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গমের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় খাদ্যমন্ত্রী সংসদে এ বিবৃতি দেন। তিনি বলেন, ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গম নিয়ে শূন্যের ওপর কথাবার্তা হচ্ছে। এ সবের কোন ভিত্তি আছে বলে মনে করি না। কারণ কেউ গম পরীক্ষা করে কথা বলেননি। তাদের কথাবার্তায় জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে বলে আমাকে কথাগুলো বলতে হচ্ছে।

আমদানি করা দুই লাখ টন গম নিয়ে সঙ্কটের জন্য ইউক্রেন সঙ্কটকে দায়ী করে তিনি বলেন, ২০১১ সালে পাঁচ লাখ টন গম আমদানির জন্য ইউক্রেনের সঙ্গে একটা সমঝোতা স্মারক হয়। আমার পূর্ববর্তী মন্ত্রী এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার সময়ই এটা হয়। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পরও ইউক্রেন থেকে আড়াই লাখ টন গম আনার জন্য দুই দেশের সরকারী পর্যায়ে আলোচনা হয়। পরে আমরা ই-মেইলের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা জবাব দেয়নি। এতে সময়ক্ষেপণ হয়ে যায়। গমের মজুদও তলানিতে চলে যায়। মাত্র ৬৮হাজার টন মজুদ ছিল। এটা অত্যন্ত কম। ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার বিরোধের জের ধরেই এ সমস্যার সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, আমরা আগে ব্রাজিল থেকে গম আনিনি। তবে এবার ব্রাজিল থেকে গম আনার দরপত্র ছিল সবচেয়ে কম। ক্রয় কমিটিতে তা পাস হয়। গম আমদানির পর আমরা নমুনা দেখলাম। গম ছিল লাল ও ছোট দানার। তবে পরীক্ষার প্রতিবেদন অনুযায়ী তা খাওয়ার অনুপযোগী নয়। তিনি বলেন, যেদিন আমাদের কাছে গমের নমুনা এলো সেদিন কাকতালীয়ভাবে আমাদের একটা বৈঠক ছিল। এতে অর্থ ও কৃষিমন্ত্রী ছিলেন। তাদের সামনে নমুনা দেখালাম। তারা বললেন, নমুনা খারাপ। কিন্তু লাল গম এরকম হতেও পারে। পরে গম খালাসের অনুমতি দেয়া হয়।

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম আরও বলেন, একই কোম্পানি কোটেশন পাওয়ায় ভাবলাম কেন পাচ্ছে? তাছাড়া গমটা দেখতেও ভাল লাগছিল না। আমরা এক লাখ টনের দুটো প্যাকেজ বাতিল করে দেই। সিদ্ধান্ত নিলাম ব্রাজিলের গম আর আনব না। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে একটা খারাপ নমুনা দেখলাম। স্বাভাবিকভাবেই প্রধানমন্ত্রী উষ্মা প্রকাশ করেন। সেসময় আমি ও সচিব উপস্থিত ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী বললেন, এ গম আমরা কিভাবে আনলাম? পরে আমরা জেলাগুলোয় চিঠি লিখলাম, নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানোর জন্য। ১৫/১৬ জেলা থেকে নমুনা এসেছে। এ সব নমুনার আবার পরীক্ষা হবে। ফল পেলে মুখ খুলব।

তিনি বলেন, দেশী গম আমরা সংগ্রহ করছি। টিআর কাবিখার মাধ্যমে স্বেচ্ছায় যারা নিচ্ছে, তাদেরই ব্রাজিলের গম দিচ্ছি। কাউকে জোর করে দিচ্ছি না। বর্তমানে দেড় লাখ টনের মতো ব্রাজিলের গম মজুদ আছে। আমাদের সৎ সাহস আছে বলেই আমরা আবার পরীক্ষা করছি। পরীক্ষার রিপোর্ট পেলে আমরা প্রয়োজনে এই গম নষ্ট করে ফেলব। তবে পরীক্ষার রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত আমি এই বিষয়ে মুখ খুলব না। বিষয়টি আমি জাতির সামনে জানানো প্রয়োজন বলে বললাম।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: