২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

হরতাল


একাত্তরে স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালীবিরোধী অবস্থান নিয়ে শত্রুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া সন্ত্রাসী দল জামায়াতে ইসলামী হরতাল ডাকার সাহস পায় কোথা হতে? এ প্রশ্নের উত্তর কেন ঘুরপাক খাবে? যাদের হাতে রক্তের দাগ লেগে আছে, সেই নরাধমদের মানবতাবিরোধী অপরাধের সপক্ষে হরতাল আহ্বান কেন, কেন তাদের এই দুর্বিনীত স্পর্ধা? যা দেখে বিস্মিত হতে হয়। যুদ্ধাপরাধীদের শিরোমণি আলবদর নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির দ-াদেশ আপীল বিভাগ বহাল রাখার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী ২৪ ঘণ্টার হরতাল ডেকে প্রমাণ করতে চায়, তারা গত ৪৫ বছর ধরে যে অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে তা অব্যাহত রাখবেই। এর আগে অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায়ের প্রতিবাদে তারা একাধিক দিন হরতাল ডেকেছে। আর এই ডাকার নেপথ্যে তাদের প্রধান শক্তি মিত্রদল বিএনপি। এই দলটি একাত্তরে রাজাকার, আলবদরসহ পাকিস্তানী দালালদের এদেশে পুনর্বাসন শুধু নয়, তাদের সহযোগী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিএনপির এই মিত্র শক্তিটি বাংলাদেশের স্বাধীনতায় যেমন বিশ্বাস করে না তেমনি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ক্ষমাও চায়নি। একাত্তরের এই ঘাতকদের বিচার ও শাস্তির দাবি এদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে। শেখ হাসিনার সরকার তাদের বিচারের মুখোমুখি করেছে সমস্ত প্রতিকূলতার বিপরীতে দাঁড়িয়ে। একাত্তরের এই ঘাতকরা গত ৪৫ বছর ধরে অর্র্থ, বিত্তে, সম্পদে বলীয়ান হয়েছে। তাদের অর্থ কথা বলে ভিনদেশীদের ভাষ্যেও। তারা বিচার ও শাস্তির বিরুদ্ধে সরকারের ওপর নানা চাপ প্রয়োগ করে আসছে। এমনকি কোন কোন প্রভাবশালী জামায়াতী লবিস্টের প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়ে বিচারের বাণীকে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনা দেশ ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বিচারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছেন। তিনি মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। শহীদ পরিবারগুলো অনেকটা স্বস্তি ফিরে পাচ্ছে। কারণ, একাত্তরের এই খুনীদের বিভিন্ন সময় মন্ত্রী বানিয়ে তাদের গাড়িতে স্বাধীন দেশের পতাকা তুলে দেয়া হয়েছিল। এরা এখনও এদেশের জনগণের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান সদর্পে ঘোষণা ও প্রমাণ করে আসছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বিএনপি-জামায়াত জোট পেট্রোলবোমা মেরে, মানুষ হত্যা করে স্পষ্ট করতে চেয়েছে একাত্তরের অপরাধমূলক কর্মকা- থেকে তারা সরে আসেনি বরং আরও শক্তিমত্তা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ফসল বাংলাদেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সচেষ্ট। প্রতিটি হরতালের পূর্বাপর তারা সহিংসতার আশ্রয় নিয়ে আসছে, যা উদ্বেগের বিষয়। জনজীবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য জামায়াতের নেতৃত্বে দেশজুড়ে গড়ে উঠেছে জঙ্গীদের নেটওয়ার্ক। হরতালসহ তাদের জঙ্গী ও সন্ত্রাসী তৎপরতার শিকার এখনও বাংলার সাধারণ মানুষ। গ্রেনেড হামলা, অস্ত্র চালানের যেসব ঘটনা ঘটেছে, তার সবটাতেই জামায়াত জড়িত। একাত্তরের পরাজিত উগ্রপন্থী, জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদের ধারক জামায়াতের রাজনীতির অঙ্গনে তৎপর থাকার কোন অধিকার নেই। তাদের কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।