২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

নৈতিক অবক্ষয়


আশরাফুল আলম

মানুষের নৈতিক অবক্ষয় দেখে কখনও ভেঙে পড়েছি। কখনও নিজের প্রতি ঘৃণা জন্মেছে। কখনও বা মানুষের প্রতি অবিশ্বাস জন্মেছে। একসময় মুসলমানদের চারিত্র্যিক দৃঢ়তার কারণে সুদূর ইউরোপ পর্যন্ত রাজত্ব করতেন। আর আজ ! সেদিন শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে যাই। মসজিদ থেকে আমার নতুন চামড়ার সেন্ডেল চুরি হয়ে যায়। তাহলে আমরা কেমন নামাজ পড়ি! কেমন মুসলমান! রোজা রাখে মাথায় টুপি পরে থাকে সবসময়। আবার এরা রমজানের ইফতারের দাম বাড়িয়ে অসৎ ব্যবসা করেন। তাহলে কী দাঁড়াল। আমাদের চরিত্রটা কোথায় থাকল? প্রতি রমজান এলেই দেখতে পাই। এক ধরনের মুনাফাখোর ব্যবসায়ী মানুষের রসনাকে জিম্মি করে লাভের মোটা টাকা হাতিয়ে নেয়। স্বাভাবিকভাবে রোজা থাকার কারণে কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মানুষের ক্রয় করতে হয়। আর এ ফাঁকে অসৎ ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম দ্রব্য সঙ্কট ঘটিয়ে বা যে কোনভাবে চড়া দামে ক্রেতাদের কিনতে বাধ্য করায়। সরকার কী করবেন! দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘুষ খায়, উকিল ঘুষ খায়। মানুষের ভিতরে মিথ্যাচার, অন্যায়। ভেজাল বাণিজ্য সব জায়গায়। খাবারের ভিতর ভেজাল। ওষুধে ভেজাল। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? মানুষের বিবেক যখন জাগ্রত হবে, মানুষ যখন মিথ্যাচার করবে না, মানুষের ভিতর কোন বৈষম্য থাকবে না। তখন মানুষের ভিতর আরেকটি সুন্দর মানুষকে পাব; যে হবে খাঁটি ও ন্যায়নিষ্ঠ। আমাদের সেরকম মানুষের দরকার। ধর্মের নামে যারা শুধু বুলি আওড়ায়, অথচ ধর্মকে অনুশীলন করে না, সেসব ধর্মান্ধ লোকের আমাদের প্রয়োজন নেই। আমরা নামাজ পড়ি, রোজা রাখি, যত ইবাদত করি না কেন, আমাদের ভিতর সততা না থাকলে, আমাদের চরিত্র ঠিক না করতে পারলে, ইবাদত কবুল হবে না। মুসলমানদের পবিত্র এ রমজানের দিন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করা বড় অন্যায়, বড় পাপ হবে। আমাদের ভিতরে এ চেতনা জাগ্রত করতে হবে।

রামপুরা, ঢাকা থেকে