২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বানের পানি কমলেও দুর্ভোগ রয়েছে


অনলাইন ডেস্ক ॥ বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি তিন দিন ধরে কমতে শুরু করলেও বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। জেলার দুটি উপজেলার ১৫টি গ্রামে পানিবন্দী মানুষের কাছে পৌঁছেনি প্রয়োজনীয় ত্রাণ। পানি কমলেও নিজ বাড়িতে ফিরতে পারেননি বাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষ।

সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোখলেছার রহমান জানান, বন্যার পানি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামে ঢুকেছে। বানভাসী অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন বাঁধে। তবে অধিকাংশ মানুষ নিজ বাড়িতেই রয়েছেন পানিবন্দী অবস্থায়। ফলে তারা মারাত্মক খাদ্যসঙ্কটে রয়েছেন।

সারিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাছুদুর রহমান হিরু জানান, প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তিন দিনে সরকারি ও বেসরকারিভাবে যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। বাঁধে আশ্রয়কারীদের মধ্যে ত্রাণের হাহাকার দেখা গেছে।

ধুনট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম তৌহিদুর রহমান মামুন জানান, বন্যার পানিতে ধুনটের চিকাশী, গজারিয়া, চুনিয়াপাড়া গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব বন্যা দুর্গতরা প্রয়োজনীয় ত্রাণ পাচ্ছেন না।

চন্দনবাইশা গ্রামে খলিল ও গিয়াস বলেন, ‘আমাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা চারজন। তিন কেজি চাল দিয়ে একদিন চলে। কিন্তু চাল পেলেও কী দিয়ে খাওয়া হবে, সে উপকরণ নেই। আবার একদিন খেলেও পরের দিন খাবার নেই। এতে অনাহারে-অর্ধহারে থাকতে হচ্ছে।’

উপজেলার চালুয়াবাড়ী গ্রামের বাঁধে আশ্রয় নেওয়া আলেক আলী ও হাফিজার বলেন, ‘একদিন পুলিশের শুকনা খাবার পেয়েছি, আরেক দিন তিন কেজি চাল পেয়েছি। এ দিয়ে চার দিন চলেছে।’

ধুনট উপজেলার চিকাশী গ্রামের মজনু ও শাজাহান আলী জানান, বন্যার পানি কিছুটা কমলেও নিজবাড়িতে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বাড়িতে ফেরার পর তা মেরামত করতে হবে। বন্যার পানিতে যে ফসল ছিল তা ভেসে গেছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাকিল মাহমুদ জানান, বন্যা কবলিত মানুষের মাঝে ১৩ টন চাল, ২৫ হাজার টাকার চিড়া ও গুড় বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫শ’ পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে শুকনা খাবার।

তিনি জানান, উপজেলার ১২টি গ্রামে এবং কুতুবপুর, চন্দনবাইশা, কামালপুর ইউনিয়নের ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলার চর এলাকা চালুয়াবাড়ী, কাজলা, কর্ণিবাড়ী, বোহাইল, চন্দনবাইশা ও হাটশেরপুরের আংশিক ইউনিয়নে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। ডুবে গেছে চর এলাকার পাট ফসলসহ কাউন, তিল ফসলের জমি। চলতি বন্যায় এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ হেক্টর জমির পাট বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১২শ’ পরিবার।

পানি কমছে

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন জানান, যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। ২১ সেন্টিমিটার বিপদসীমার নিচ দিয়ে যমুনা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।

সারিয়াকান্দি যুমনার গেজ রিডার পশুরাম বর্মন জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে যমুনা নদীতে ৬ সেন্টিমিটার বিপদসীমার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছিল। কিন্তু বুধবার সকালে ১৯ সেন্টিমিটার পানি কমে বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।