২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

উড়ছেন অসি তারকা স্মিথ


স্টিভেন স্মিথ যে কতটা উড়ছেন, তার একটা মানদ- দাঁড়িয়ে গেল! তুখোড় সব ক্রিকেটারকে পেছনে ফেলে প্রথমবারের মতো আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ে ব্যাটসম্যানদের তালিকায় এক নম্বরে জায়গা করে নিলেন অসি-সেনসেশনাল উইইলোবাজ। পাঁচ বছরের ছোট্ট ক্যারিয়ারেই অনেক বড় অর্জনে নাম লেখালেন স্টিভেন স্মিথ। জ্যামাইকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১ রানের জন্য ডাবল সেঞ্চুরি পাননি, তবে ১৯৯ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে হয়েছেন ম্যাচসেরা। সেই ক্ষতে আরও এক শান্ত¡নার পুরস্কার হয়ে এলো এ সুসংবাদ। সাদা পোশাকের অভিজাত আঙিনায় লঙ্কান লিজেন্ড কুমার সাঙ্গাকারাকে হটিয়ে শীর্ষে আরোহন করলেন ২৬ বছরের নিউসাউথওয়েলস হিরো।

সর্বশেষ প্রকাশিত র‌্যাঙ্কিংয়ে টেস্ট ব্যাটসম্যানদের তালিকায় স্মিথকে জায়গা করে দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছেন অবসরের অপেক্ষায় থাকা সাঙ্গাকারা। ২০১২ সালে মাইকেল ক্লার্কের পর কোন অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে গৌরবময় এক নম্বর জায়গাটি দখল করলেন ‘শিশুসুলভ চেহারার’ এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। উইন্ডিজ সিরিজের আগে চার নম্বরে ছিলেন স্মিথ। জ্যামাইকায় সিরিজ নির্ধারণী দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১ রানের জন্য সেঞ্চুরি পাননি। দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ৫৪ রান করে হন ম্যাচসেরা। ২৭৭ রানের বিশাল জয়ে স্বাগতিকের ২-০ তে হোয়াইটওয়াশ করে ফ্র্যাঙ্কওরেল ট্রফি করায়ত্ব করে অসিরা।

ব্যাট হাতে দূরন্ত পারফর্মেন্সের সুবাদে ৯১৩ রেটিং পয়েন্ট পেয়ে টেস্ট ব্যাটসম্যানদের তালিকায় সবাইকে পেছনে ফেরেন স্মিথ। সাদা পোশাকের অভিজাত ঘারনায় গত এক বছরে ১০২.১৬ গড়ে মোট ১,২২৬ রান সংগ্রহ করেন তরুণ উইলোবাজ। কেবল তাই নয়, প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি পূরণের পথে ২০১৪-২০১৫ টানা দুই বছর মিলিয়ে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ২’ হাজার বা তার বেশি রানের অনন্য নাজির স্থাপন করেন তিনি। ব্যক্তিগত ১৯৯ রানে দলের নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে স্বাগতিক পেসার জেরোমে টেইলরের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন। ৩৬১ বলের ইনিংসটি ২১ চার ও ২ ছক্কায় সাজানো। বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ হয়ে ব্যাট হাতে আকাশে উড়ছেন স্মিথ। শেষ ৭ টেস্টের ১৩ ইনিংসে সেঞ্চুরি ৫ ও হাফ সেঞ্চুরি চারটি! ভারত সিরিজে স্মিথের ইনিংসগুলো ছিল ১৬২*, ৫২*, ১৩৩, ২৮, ১৯২, ১৪, ১১৭ ও ৭১। ওই সিরিজের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংই মূলত প্রথমবারের মতো অভিজাত ঘারনার র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে বসায় স্মিথকে। দুইয়ে নেমে যাওয়া সাঙ্গাকারা রেটিং পয়েন্ট ৯০৯। এত প্রাপ্তির মাঝেও মাত্র ১ রানের আফসোসে পুড়তে হলো স্টিভেন স্মিথকে। ১৯৯ রানে আউট হলেন অসি-সেনশেসন। প্যাভিলিয়নে ফেরেন ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির নিঃশ্বাস ছোঁয়া দূরত্বে। টেস্ট ইতিহাসের অষ্টম ও অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে এমন দুর্ভাগ্যের খাড়ায় কাটা পড়লেন স্মিথ।

১৯৯ রানে আউট হওয়া অপর ৭ ক্রিকেটার পাকিস্তানের মুদাসসর নজর, ইউনুস খান, অস্ট্রেলিয়ার ম্যাথু এলিয়ট, স্টিভ ওয়াহ, ভারতের মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন, শ্রীলঙ্কার সনাথ জয়সুরিয়া ও ইংল্যান্ডের ইয়ান বেল। স্মিথের আগে সর্বশেষ ২০০৮ সালে লর্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এমন দুর্ভাগ্যের শিকার হয়েছিলেন বেল। এক সেঞ্চুরি ও চার হাফ সেঞ্চুরির সাহায্যে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ৪০২ রান স্মিথের। এর আগে বিশ্বকাপের আগে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকেই গড়েছিলেন নতুন ইতিহাস। অস্ট্রেলিয়াকে বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি জেতানোর পাশাপাশি অভিষেকে সেঞ্চুরিসহ সিরিজে সেঞ্চুরির হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি! বেইলির অনুপস্থিতিতে ওয়ানডেতে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকেও (ভারপ্রাপ্ত) সেঞ্চুরি হাকিয়েছিলেন স্মিথ। অধিনায়ক হিসেবে দুই ভার্সনে নিজের প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরির অনন্য নজির স্থাপন করে বুঝিয়ে দিয়েছেন চাইলে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তার ওপর ভরসা করতেই পারে।

স্মিথের বছরটা শুরুই হয়েছিল উৎসাহের এক অর্জন দিয়ে। গত বছর জুড়ে জুড়ে দূরন্ত ব্যাটিং, সঙ্গে নেতৃত্বের অভিষেকে আলোড়ন তুলে জানুয়ারির শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার ছিনিয়ে নেন তিনি। দেশটির ২০১৪ সালের বর্ষসেরা হিসেবে ‘বোর্ডার গাভাস্কার ট্রফি’ জিতে নেন ‘বেবি ফেসের’ অধিকারী অসম্ভব প্রতিভাবান এই ক্রিকেটার। ২৪৩ ভোট পেয়ে ডেভিড ওয়ার্নার (১৭৫) ও আইসিসির বর্ষসেরা তারকা মিচেল জনসনকে (১২৬) পেছনে ফেলেন স্মিথ। দেশসেরার পাশাপাশি ‘টেস্ট প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ এবং ‘ওয়ানডে প্লেয়ার অব দ্য ইয়ারের’ পুরস্কারও বগলদাবা করেন তিনি! গত দশ বছর ধরে প্রবর্তিত আয়োজনে স্মিথ তৃতীয় ক্রিকেটার যিনি একইসঙ্গে তিন তিনটি বিভাগে বাজিমাত করেন।

অপর দুজন হলেন সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং (২০০৭) ও শেন ওয়াটসন (২০১১)। ব্যাট হাতে সত্যি অবিশ্বাস্য পারফর্মেন্স স্মিথের। ২০১৪ সালে ৯ টেস্টের ১৭ ইনিংসে ৮২ গড়ে ১১৪৬ রান সংগ্রহ করেন তিনি। সেঞ্চুরি ৫ ও হাফ সেঞ্চুরি ৪টি। সে ধারা অব্যাহত থাকে ঘরের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে সিরিজেও। জানুয়ারি পর্যন্ত শেষ ২২ ইনিংসে ৬৮ গড়ে মোট রান ১৭৫৬, সেঞ্চুরি ৭ ও হাফ সেঞ্চুরি ৮টি!! তার ওপর ইনজুরিগ্রস্ত মাইকেল ক্লার্কের অনুপস্থিতিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে হন ম্যাচসেরা। সিরজে চার টেস্টে চারটিতেই সেঞ্চুরি হাকান! বিশ্বকাপে ঠিক আগে ‘কার্লটন মিড’ ত্রিদেশীয় সিরিজে ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকেও সেঞ্চুরি উপহার দিয়ে হন ম্যাচসেরা। অতঃপর বিশ্বকাপ পুনরুদ্ধারে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। অস্ট্রেলিয়ার মতো একটি দলের ভবিষ্যত অধিনায়কের রেসে ভালমতোই এগিয়ে তরুণ স্টিভেন স্মিথ। ‘অনুভূতি ভাষায় প্রকাশের নয়। এটি অনেক বড় সম্মানের। আমার আগে কিংবদন্তি অস্ট্রেলিয়ানরাই কেবল একসঙ্গে তিন তিনটি বিভাগে সেরা হতে পেরেছেন। সত্যি ভাল লাগছে।’ তিন বিভাগের সেরা হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন স্মিথ। এর আগে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের গৌরবময় এই ‘এ্যালান বোর্ডার মেডেল’ জিতেছিলেন স্টিভ ওয়াহ, গ্লেন ম্যাকগ্রা, এ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও মাইকেল ক্লার্ক। ২০১০-এ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা স্মিথ ক্যারিয়ারে ২৮ টেস্টে ৫৬ গড়ে ৯ সেঞ্চুরিতে মোট রান ২৫৮৭। ৫৮ ওয়ানডেতে ৪১ গড়ে ১৫৪৯ রান, সেঞ্চুরি ৪টি।