১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

স্পিনেই চমক ভারতের


দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর পর বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে আসে ভারত। একমাত্র টেস্ট ম্যাচ দিয়েই সিরিজ শুরু করে দুই দল। কিন্তু বৃষ্টিবিঘিœত একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ড্রয়ে শেষ হয়। তবে টেস্ট শেষ হলেও রেখে গেছে নানান প্রশ্ন। কেননা প্রথম দিন থেকে বৃষ্টির বাগড়ায় দফায় দফায় খেলা বন্ধ থাকার কারণেও ফলোঅনে পড়ে যাওয়াটাই বাংলাদেশের জন্য বড় লজ্জার। এই টেস্টে বাংলাদেশ একজন পেসার মোহাম্মদ শহীদকে নিয়ে খেলেছে, যে কারণেই তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন মুশফিকুর রহীম। অন্যদিকে চারজন স্পিনার নিয়েও ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে তেমন সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসান ৪ উইকেট আর জুবায়ের হোসেন ২ উইকেট নিলেও তার আগেই ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা রানের পাহার গড়ে তোলেন। বাংলাদেশের স্পিনাররা যেখানে নিষ্প্রভ ছিলেন সেখানে দুর্দান্ত পারফরমেন্স উপহার দিয়েছেন ভারতের দুই স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন আর হরভজন সিং।

ফতুল্লা টেস্টের প্রথম দিন টাইগারদের কোন বোলারই পাত্তা পাননি। কিন্তু প্রাথমিকভাবে উইকেটের আচরণ দেখে মনে হয়েছিল স্পিনাররাই এখানে বেশি সুবিধা পাবেন। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা বোলারদের ইচ্ছামতোই পিটিয়ে খেলেছেন। দ্বিতীয় দিন বৃষ্টির কারণে একটি বলও মাঠে গড়ায়নি। তবে তৃতীয় দিন থেকে বাংলাদেশের স্পিনাররা চেপে বসেছিলেন। স্পিনাররা বলে দারুণ টার্ন পেতে শুরু করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ও জুবায়ের হোসেন যুগপৎভাবে তুলে নেন ভারতের ৬ উইকেট। তখনই শঙ্কা তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের ইনিংস শুরু হলে হামলে পড়বেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও অভিজ্ঞ স্পিনার হরভজন সিং। সেটাই বাস্তব হয়েছে। স্পিনাররাই ধসিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেট দখল করে ফলোঅনে পড়তে বাধ্য করেছেন। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে ভাজ্জি তিনটি উইকেট নিয়েছেন। তবে নিজের ঘূর্ণি বল দিয়ে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন অশ্বিন। ক্যারিয়ারে দশমবারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট নিলেও এটাই ছিল তাঁর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট। আর প্রথমবার খেলতে নেমেই বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের জন্য হন্তারক হিসেবে উপস্থিত হন তিনি। দুই বছর তিন মাস পর দলে ফিরে আসাটা বেশ ভালই হয়েছে হরভজন সিংয়ের। টাইগারদের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং উপহার দিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় দলে উপেক্ষিত ছিলেন হরভজন, যে কারণে বাংলাদেশ সফরে একমাত্র টেস্ট দলে সুযোগ পাওয়ার পর থেকে সবার নজর কেড়েছিলেন তিনি। কারণ দুই বছরেরও বেশি সময় দলের বাইরে ছিলেন তিনি। ভাজ্জির জন্য যেমন অগ্নিপরীক্ষা ছিল তেমনি দলের তরুণরা তাঁকে সবার জন্য অনুপ্রেরণা বলে মনে করছিলেন। বাংলাদেশ সফরে আসা দলটির মধ্যে সবার চেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ হরভজন। কনিষ্ঠদের সঙ্গে মিলে ভাল নৈপুণ্য দেখানোটা বেশ কঠিন ছিল দীর্ঘদিন পর ফিরে। কিন্তু অভিজ্ঞতা আর দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন হরভজন সিং। ভারতের জার্সিতে ১০১ টেস্ট খেলেছেন তিনি। এই সময়ের মধ্যে প্রতিপক্ষের ৪১৩ উইকেট দখল করেন ভাজ্জি। বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের শুরু থেকেই ব্যাটসম্যানদের চেপে ধরেন তিনি। চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শুরু হওয়ার পর হরভজন-অশ্বিন জুটি চেপে বসেন বাংলাদেশের ওপর। আর শেষদিন তাঁদের জোড়া আঘাতেই হিমশিম খেয়েছে বাংলাদেশ দল। হরভজন ফিরিয়ে দেন সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে চলা ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক এবং মোহাম্মদ শহীদকে। ১৭.৫ ওভার বোলিং করে তিনি ৬৪ রান খরচায় নিয়েছেন ৩ উইকেট। দীর্ঘদিন পর দলে ফিরেই তাঁর অসাধারণ বোলিংয়ের প্রশংসা করেন অধিনায়ক বিরাট কোহলিও, ‘অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে হরভজন অনেক এগিয়ে। তার পারফরমেন্সের সৌজন্যে অনেক টেস্ট জিতেছে ভারত। টেস্টে ৪শ’র বেশি উইকেট নিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন পর ফিরে অনেক ভাল নৈপুণ্য দেখিয়েছেন।’ হরভজন ছাড়া ভারতের বিশেষ স্পিনার কেবল রবিচন্দ্রন অশ্বিন। বর্তমান সময়ে ভারতের অন্যতম ভরসার নাম হয়ে উঠেছেন তিনি। অভিজ্ঞ হরভজনের সঙ্গে জুটি বেঁধে সেই ধারাবাহিকতা রাখতে তেমন সমস্যা হয়নি তাঁর। দারুণ বোলিং করেছেন শুরু থেকেই। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টেই তাঁর চমক জাগানিয়া পারফরমেন্স। টাইগার ইনিংসে প্রথম আঘাতটা তিনিই হেনেছিলেন ওপেনার তামিম ইকবালকে ফিরিয়ে দিয়ে। একে একে তিনি তুলে নেন সাকিব আল হাসান, অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম, অভিষিক্ত লিটন দাস ও শুভাগত হোমকে। মূলত অশ্বিনের ঘূর্ণিজালে আটকেই বাংলাদেশের মিডলঅর্ডারে ধস নামে। এ নিয়ে ক্যারিয়ারে দশমবারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট লাভের মাইলফলকও স্পর্শ করেন ডানহাতি এই স্পিনার। ২৫ ওভার বোলিং করে ৮৭ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। মাত্র ২৫ টেস্ট খেলা অশ্বিনের ক্যারিয়ার শিকার সংখ্যা এখন ১২৪। জহির খান, ইরফান পাঠান ও সুনীল জোশির পর চতুর্থ ভারতীয় বোলার হিসেবে অশ্বিন ইনিংসে ৫ উইকেট শিকার করলেন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। জহির দুইবার, পাঠান তিনবার এবং জোশি একবার করে ইনিংসে ৫ উইকেট শিকার করেছেন। অশ্বিনের বোলিংয়ে অধিনায়ক কোহলিও দারুণ সন্তুষ্ট, ‘অশ্বিন আমাদের খুবই কার্যকরী বোলার।

তিনি দলের জন্য ভাল কিছু উপহার দেবেন এটা আমরা সব সময়ই প্রত্যাশা করি। সেটা তিনি এ ম্যাচেও করেছেন। দারুণ বোলিং করে বাংলাদেশকে চাপে ফেলেছেন।’ তবে বাংলাদেশ এই টেস্ট থেকে অনেক কিছুই শিক্ষা নিতে পারে। টেস্ট আঙ্গিনায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হলে এবং টেস্ট জয়ের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে বোলারদের যে আরও উন্নতি করতে হবে তা ম্যাচ শেষেই স্বীকার করেছেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যাটসম্যানরা খুব ভাল না করলেও আমি বলব, তারা যথেষ্ট ভালই খেলেছে। সেট হয়ে আউট না হলে আমাদের দারুণ কিছুই হতো। তবে এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে, আমাদের বোলারদের আরও উন্নতি করতে হবে।’