২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

একটি চিংড়ি রেণু ধরতে ৩২৩ পোনা নিধন


স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট ॥ পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের বিভিন্ন নদ-নদী ও খালে চিংড়ি রেণু পোনা নিধনের মহোৎসব চলছে। এ দু’রেঞ্জের ভোলা ও শেলা নদীতে কমপক্ষে চার হাজার ব্যক্তি চিংড়ি রেণু পোনা শিকার করছে। একটি চিংড়ি রেণু ধরতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের ৩২৩টি পোনা মারা যাচ্ছে। কতিপয় ব্যবসায়ী দাদন বা লগ্নি দিয়ে দরিদ্র জেলেদের এ কাজে বাধ্য করছে। ফলে, মৎস্য ভা-ার বলে খ্যাত সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দক্ষিণাঞ্চলের ঘের মালিকরা চিংড়ি ঘেরে প্রাকৃতিক চিংড়ি রেণু পোনা চাষ করার প্রতি বেশি আগ্রহী। এর বড় একটি অংশ সংগৃহীত হয়ে থাকে সুন্দরবন উপকূল থেকে। সুন্দরবনের অভ্যন্তরের নদ-নদী ও খাল থেকে চিংড়ি রেণু পোনা আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র জেলেদের দাদন দিয়ে রেণু পোনা ধরে থাকে।

বনবিভাগ থেকে মাছের পাশ নিয়ে তার আড়ালে জেলেরা পূর্ব সুন্দরবনের ভোলা নদী, আলীবান্দা, মরাভোলা, ধাবরীর খাল, ইটবাড়িয়ার খাল, তালবাড়িয়ারচর, শৌলা, আড়াইবেকী, পাথুরিয়া, বগী স্টেশনের মরা বগী, ডুমুরিয় ও চরখালী এবং চাঁদপাই রেঞ্জের শেলা নদী, তাম্বুলবনিয়া, হরিণটানা, আড়ুয়াবয়ার ও আন্দারিয়াসহ বিভিন্ন নদ-নদী ও খালে এখন চিংড়ি রেণু পোনা আহরণের করছে। বেসরকারী একটি সংস্থার হিসাব মতে, একটি চিংড়ি রেণু ধরার বিপরীতে ৩২৩টি বিভিন্ন প্রজাতির পোনা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সুন্দরবন সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের মৎস্য ভা-ারকে প্রসারিত করতে হলে সুন্দরবন সন্নিহিত লোকজনকে সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি, যারা এ ধ্বংস কাজের মদদদাতা, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। শরণখোলা উপজেলা মৎস্যজীবী সমিতির সহ-সভাপতি দুলাল ফরাজী ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোলায়মান বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মাছের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ হয় সুন্দরবন থেকে।

চিংড়ি রেণু পোনা আহরণের সময় অন্যান্য অসংখ্য মাছের পোনা মারা পড়ে। এ ব্যাপারে বনবিভাগ উদাসীনতা দেখালে সুন্দরবন মৎস্য শূন্য হয়ে পড়বে। শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা কেএম ইউসুব আলম ও চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ এ প্রসঙ্গে বলেন, রেণু পোনা সংগ্রহের কাজে বন বিভাগের কেউ জড়িত নেই। মাছের পাশ নিয়ে হয়ত কেউ কেউ অতি গোপনে চিংড়ি রেণু পোনা ধরছে। তবে, অভিযান চালিয়ে জাল আটক করে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের নবাগত ডিএফও সহিদুল ইসলাম বলেন, বনকর্মীরা এ ব্যাপারে তৎপর রয়েছে। এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।