১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

মানুষ পুড়িয়ে মারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি আমদানি করেছেন খালেদা জিয়া


সংসদ রিপোর্টার ॥ প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা বলেছেন, সন্ত্রাসী-জঙ্গী সংগঠন জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে খালেদা জিয়া আন্দোলনের নামে দেশে অগ্নিসন্ত্রাস ও পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ পুড়িয়ে মারার রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমদানি করেছেন। এ কারণে দেশের জনগণ তাঁকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর সে কারণেই কথিত ‘আপোসহীন নেত্রী’ খালেদা জিয়া সর্বক্ষেত্রে ‘আপোস’ করেই শূন্য হাতে ঘরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

সোমবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তাঁরা এসব কথা বলেন। স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও অংশ নেন সরকারী দলের মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভুঁইয়া, এ কে এম রহমতুল্লাহ, আবু জাহির, একাব্বর হোসেন, ইউনুস আলী সরকার, গোলাম মোস্তফা, ওয়ার্কার্স পার্টির মোস্তফা লুৎফুল্লা, জাতীয় পার্টির এ কে এম মাঈদুল ইসলাম প্রমুখ।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী একেএম মাঈদুল ইসলাম আগামীতে ভারতের সঙ্গে তিস্তা চূক্তি সম্পাদনের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমরা আশা করেছিলাম নরেন্দ্র মোদি এই সফরেই তিস্তা চুক্তি হবে। কিন্তু সেটা হয়নি। তবে নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর আশ্বাসে বলতে চাই, আগামীতে তিস্তা চুক্তি হবে এবং তার বাস্তবায়নও হবে। বাংলাদেশের পানি সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, তিস্তা ও পদ্মায় পানি পেলেও আমাদের সমস্যার সমাধান হবে না।

সরকারি দলের সুবিদ আলী ভুঁইয়া কুমিল্লাকে বিভাগ এবং দাউদকান্দিকে জেলায় উন্নীত করার দাবি জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরলস পরিশ্রমের কারণেই দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে, সব দিক থেকে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে হাঁটছে। মানুষ আজ শান্তিতে বসবাস করছে। দেশের জনগণ অর্থনীতির এই সুফল ভোগ করছেন।

ওয়ার্কার্স পার্টির মোস্তফা লুৎফুল্লা বলেন, আমরা সংসদে বাজেট নিয়ে আলোচনা করছি, কিন্তু বাজেট প্রণয়নে সংসদ সদস্যদের তেমন কোন ভূমিকা নেই। আগামীতে বাজেট প্রণয়নে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা রাখার দাবি জানান।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা একেএম রহমতুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। খালেদা জিয়ার কথিত অবরোধ-হরতালের নামে নাশকতা-সন্ত্রাস ও ধ্বংসযজ্ঞ না চালাত, তবে দেশের প্রবৃদ্ধি ৭ ভাগে উন্নীত হতো। দেশের জনগণ খালেদা জিয়াকে প্রত্যাখ্যান করে উন্নয়ন-সমৃদ্ধির রূপকার শেখ হাসিনার পতাকা তলে শামিল হচ্ছেন।

সরকারী দলের সংসদ সদস্য আবু জাহির বিএনপি-জামায়াতের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আপোসহীন নেত্রী বলেছিলেন সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবেন না, কোন নির্বাচনে অংশ নেবেন না। কিন্তু সেই আপোসহীন নেত্রী সব ক্ষেত্রে আপোস করে ও পরাজিত হয়ে ঘরে ফিরেছেন, সিটি নির্বাচনেও অংশ নিয়েছেন।

সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেন বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট তিনটি মাস ধরে দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। পেট্রোলবোমা মেরে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার ঘৃণ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমদানি করেছেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। এ কারণে খালেদা জিয়াকে দেশের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে।