১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

যশোরের ১২ রাজাকারের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ


স্টাফ রিপোর্টার॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় যশোরের রাজাকার কমান্ডার জামায়াতে ইসলামীর সাবেক এমপি মাওলানা সাখাওয়াত হোসেনসহ ১২ রাজাকারের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, আটক, নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের মতো পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ধানম-ির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ১২ রাজাকারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। রাজাকার কমান্ডার সাখাওয়াত ছাড়াও অন্যান্য যে ১১ রাজাকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে তারা হলেন- মোঃ ইব্রাহিম হোসেন, মোঃ বিল্লাল হোসেন, শেখ মোঃ মজিবুর রহমান, মোঃ আব্দুল আজিম সরদার, মোঃ আজিম সরদার, কাজী ওয়াহেদুল ইসলাম, মোঃ লুৎফর মোড়ল, মোঃ আব্দুল খালেক মোড়ল, মোঃ আকরাম হোসেন, ওজিয়ার মোড়ল এবং মশিয়ার রহমান। এর মধ্যে ৪ জন গ্রেফতার হয়েছেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন-মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, মোঃ বিল্লাল হোসেন, মোঃ আকরাম হোসেন এবং ওজিয়ার মোড়ল। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যশোরের এই ১২ রাজাকারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সময় আষাঢ় মাসের ২৭ তারিখে এক মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে আটকে রেখে মাওলানা সাখাওয়াত নিজে ধর্ষণ করে। ভিকটিম মুক্তিযোদ্ধাদের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন। দ্বিতীয় অভিযোগে রয়েছে চাঁদ তুল্যা গাজি তার শিশুসন্তানসহ ২ জনকে হত্যা। তৃতীয় অভিযোগে রয়েছে নুরুল উদ্দিন মোড়লকে অপহরণ করে আটক করা হয়। এরপর রাজাকাররা তাকে নির্যাতন করে। চতুর্থ অভিযোগে রয়েছেÑ চিংড়া গ্রামে আব্দুল মালেক সরদারকে অপহরণ করে আটক করা হয়। এর পর তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন করে হত্যা করে রাজাকার বাহিনী। সর্বশেষ পঞ্চম অভিযোগে রয়েছেÑ মহাদেবপুর গ্রামের মিজান শেখকে অপহরণ করে নির্যাতন করা হয়। একই সঙ্গে ২০ থেকে ২৩টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক খান বলেছেন, যশোরের এই ১২ রাজাকারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, আটক, নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের মতো ৫টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আজ সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরা হয়। তিনি আরও বলেন, আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মামলার স্বার্থে এ রিপোর্ট দেয়ার পরও তদন্ত চলবে। তদন্ত সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত সংস্থার প্রধান এমএ হান্নান খান ও সমন্বয়ক সানাউল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।