২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

এবার বি. চৌধুরীর ওপর ক্ষেপেছে জামায়াত, চটেছে মাহীর ওপরও


স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাঁচতে হলে বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার পরামর্শ দেয়ায় সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডাঃ এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ওপর ক্ষেপেছে জামায়াত-শিবির। চটেছে তার ছেলে মাহী বি চৌধুরীর ওপরও। বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার পরামর্শ দেয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াত বলেছে, বি চৌধুরী কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চান? অন্যদিকে জামায়াত-শিবিরের ফেসবুক পেজ বাঁশের কেল্লায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে, জিয়াউর রহমানের হত্যাকা-ের সময় এই বি চৌধুরী পাশের কক্ষে থেকেও কিভাবে অক্ষত ছিলেন? তাকে বিতর্কিত ‘রাজনীতিবিদ ও মোনাফেক’ বলেও অভিহিত করে বাঁশের কেল্লায় বলা হয়েছে, বি. চৌধুরী রক্তে মাংসে একটা মুনাফিক। বিএনপি যদি এসব মুনাফিকের কথা মূল্যয়ন করে তাহলে ভবিষ্যতে বিএনপির অস্তিত্বও থাকবে না।

এর আগে শুক্রবার জিয়াউর রহমান সরকারের মন্ত্রী একেএম মাঈদুল ইসলাম মুকুলের বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এসে সাবেক চার দলীয় জোট সরকারের রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, বিএনপি এখন ‘জামায়াতনির্ভর’ দল হয়ে উঠেছে। আর এ কারণে ‘চারদিক থেকে’ চাপে রয়েছেন খালেদা জিয়া। বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বকে বাঁচতে হলে আবার জিয়ার রাজনীতিতে ফিরতে হবে, জামায়াতকে ছাড়তে হবে। রাজধানীর একটি হোটেলে এই অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান হাজার হাজার মাইল হেঁটেছেন, সবাইকে নিয়ে ১২শ’ খাল কেটেছিলেন। সেদিন খালেদা জিয়াকে প্রশ্ন করেছিলাম, আপনি তিনবার ক্ষমতায় এসেছেন, কত মাইল খাল কেটেছেন? বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য বদরুদ্দোজার ভাষায় এ দলটি দুটি পর্যায় পেরিয়ে এখন তৃতীয় ধাপে রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপটি ছিল জিয়াউর রহমানের রাজনীতি। এরপর আসল খালেদা জিয়ার রাজনীতি। মন্তব্য নিষ্প্রোয়োজন। এখন তৃতীয় ধাপে আছে, জামায়াতনির্ভর খালেদা জিয়ার রাজনীতি। এই ধাপটি বেশিদিন থাকবে বলে মনে হয় না। চতুর্দিকে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপ একটু বেশি। তাই চতুর্থ ধাপ আসতে বাধ্য, যখন আবার ঘুরে ফিরে জিয়াউর রহমানের রাজনীতিতে ফিরে আসতে হবে। বি. চৌধুরীর বক্তব্যের পরই প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াত। একে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ভাঙ্গার পরামর্শ বলেও অভিহিত করেছে দলটি। বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে এক প্রতিবাদ লিপিতে জামায়াতের দলের নির্বাহী পরিষদের সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ প্রশ্ন তুলেছেন, এর মাধ্যমে বি. চৌধুরী কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন? জামায়াত নেতা বলেন, জনগণের ভোটাধিকার বহাল ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারসহ জাতীয় প্রয়োজনে ২০ দলীয় জোট গঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ জোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ শরিক দল। এখানে এক দলের ওপর অন্য দলের নির্ভরশীলতার প্রশ্ন সম্পূর্ণ অবান্তর। ২০ দলীয় জোটের শরিক কোন দলকে অপর দলের সঙ্গ ছাড়ার পরামর্শ প্রদান মূলত ২০ দলীয় জোট ভাঙারই পরামর্শ দান। এ পরামর্শ দিয়ে বি. চৌধুরী কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চান? এদিকে শিবিরের ফেসবুক পেজ বাঁশের কেল্লায় রীতিমতো তুলোধুনো করা হচ্ছে বি. চৌধুরী ও তার ছেলেকে। সেখানে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, জিয়াউর রহমানের হত্যাকা-ের সময় এই বি. চৌধুরী পাশের কক্ষে থেকেও কিভাবে অক্ষত ছিলেন? তাকে বিতর্কিত ‘রাজনীতিবিদ ও মোনাফেক’ বলেও অভিহিত করা হয়েছে বাঁশের কেল্লায়। ‘শনিবার সন্থায় বি. চৌধুরী ‘রক্ত মাংসে একটা মুনাফিক’ বলে পোস্ট দেয়া হয়েছে বাঁশের কেল্লায়। যেখানে শিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘বেগম খালেদা জিয়া এই মুনাফিককে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়ে দেশের প্রেসিডেন্ট বানিয়েছে অথচ সে তখন বিশ্বাসঘাতকতা করে দল থেকে বেরিয়ে গেছে, আর এখন আবার সে আসছে বিএনপিকে উপদেশ দিতে। বিকল্পধারা ! নামক একটা অস্তিত্বহীন দলের নেতা, যার ছেলে বিগত সিটি নির্বাচনে জামানত হারিয়েছে, সে আসছে বিএনপির মতো একটা বিশাল দলকে উপদেশ দিতে। বিএনপি যদি এসব মুনাফিকদের কথা মূল্যয়ন করে তাহলে ভবিষ্যতে বিএনপির অস্তিত্বও থাকবে না। আশাকরি বুঝে শুনেই বেগম জিয়া সিদ্ধান্ত নেবেন। বিতর্কিত রাজনীতিবিদ বি. চৌধুরীর হঠাৎ প্রকাশ্য হওয়ার কারণ কি? শিরোনাম দিয়ে আরেকটি বক্তব্যে শিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব ছিলেন বি. চৌধুরী খ্যাত এই চিকিৎসক।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে শহীদ জিয়াকে হত্যার সময় পাশের রুমে থেকেও অক্ষত ছিলেন তিনি। মূলতঃ বিকল্পধারা গঠন করে বিকল্প কোন রাজনীতি করতে না পারলেও ২০০৬ সাল জুড়ে প্রভাবশালী বিদেশী দূতাবাসগুলোতে ধর্ণা দিয়ে বি. চৌধুরী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে প্রচার চালাতে থাকেন। সুশীল সমাজের নেতৃত্বে তারেক বিরোধী প্রচারে বি. চৌধুরী ও তার ছেলে মাহি বি. চৌধুরীও শামিল। বিশেষ করে পশ্চিমা দূতাবাসে এ সংক্রান্ত প্রচারে তারা সরাসরি জড়িত।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: