২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ভয়ঙ্কর সামরিক হ্যাকার


হত্যাকাণ্ড ঘটাতেও সক্ষম উত্তর কোরিয়ার সামরিক হ্যাকাররা। সম্প্রতি বিবিসিকে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাতকারে উত্তর কোরিয়ান হ্যাকারদের নিয়ে বিস্ময়কর এই তথ্য দিয়েছেন দেশটি থেকে পলাতক প্রফেসর কিম হিউং কোয়াং। কোয়াংয়ের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৬ হাজার প্রশিক্ষিত সামরিক হ্যাকার রয়েছে যারা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংসের পাশাপাশি মানবহত্যা করতে সক্ষম। কোয়াংয়ের মতে, দেশটির সামরিক বাজেটের ১০ থেকে ২০ শতাংশ হ্যাকিংয়ের মতো অনলাইন অপারেশনের কাজে ব্যয় করা হয়। প্রফেসর কোয়াং ২০০৪ সালে দেশত্যাগের আগে প্রায় ২০ বছর উত্তর কোরিয়ার ‘হামহিউং কম্পিউটার টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি’-তে কম্পিউটার সাইন্সের অধ্যাপক ছিলেন। বিবিসি জানিয়েছে, এই সময়ে তিনি সরাসরি শিক্ষার্থীদের হ্যাকিং না শেখালেও তার ছাত্রদের সিংহভাগ পরবর্তীতে ‘বুরো ১২১’ যোগ দেয়। বলা হয়ে থাকে উত্তর কোরিয়ার সরকার সমর্থিত হ্যাকারদের সংস্থাটি চীনের একটি রেস্তোরাঁর বেজমেন্ট থেকে সাইবার আক্রমণ চালায়। গত কয়েক বছরের পশ্চিমা শক্তির ওপর কয়েকটি সাইবার আক্রমণের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আছে ‘বুরো ১২১’-এর বিরুদ্ধে। এই হ্যাকিং ইউনিটটি কয়েকবার দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং ব্যাংকের ওপর সাইবার আক্রমণ চালানোর অভিযোগ আছে বুরো ১২১-এর বিরুদ্ধে। উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা এখন স্টাক্সনেটের আদলে ম্যালওয়্যার তৈরি করছে বলে কোয়াংয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি। স্টাক্সনেট ম্যালওয়্যারের পেছনে মূল হোতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে। ২০১০ সালে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার বড় ক্ষতিসাধন করেছিল ম্যালওয়্যারটি। কোয়াংয়ের দাবি উত্তর কোরিয়ার সরকার স্টাক্সনেটের আদলে যে নামক ম্যালওয়ার তৈরি করছে সেটি পুরো একটি শহরের অবকাঠামো ধ্বংস করতে সক্ষম। চলতি বছরের শুরুতেই দক্ষিণ কোরিয়ান সরকার দেশটির নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টে হ্যাকিংয়ের ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করে। ‘সনি পিকচার্স’ হ্যাকিংয়ে উত্তর কোরিয়ার ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে কোয়াং দেশটির সাইবার দৌরাত্ম্য বন্ধে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার সাইবার আক্রমণের প্রমাণ সংগ্রহ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কাউন্সিলের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো উচিত।’