২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

‘এ কী শুনি আজি মন্থরার মুখে’


ভারত বিরোধিতা করা বিএনপির রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে এতদিন পরিচিত ছিল দেশে ও বিদেশে। বিএনপি চেয়ারপার্সনসহ দলের সিনিয়র নেতারা ভারত বিরোধিতায় সোচ্চার ছিলেন। কথায় কথায় ভারত বিরোধিতা না করলে বিএনপি নেতানেত্রীদের পেটের ভাত হজম হতো না। বিএনপিপন্থী সুশীল সমাজ ও বুদ্ধিজীবীরাও ভারত বিরোধিতায় তাদের নেতানেত্রীদের হার মানাত। এতকাল বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগ ভারতের দালাল, আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে দেশ ভারত হয়ে যাবে, শুধু তাই নয় মসজিদে আজানের পরিবর্তে উলুধ্বনি শোনা যাবেÑ এ রকম বহু অবান্তর, মিথ্যে, অসংলগ্ন কথাবার্তা প্রকাশ্যে বলেছিলেন। তার দেখাদেখি দলের অন্যরাও এসব কথা বলে মানুষের মধ্যে এক ধরনের বিভ্রান্ত তৈরি করার অপচেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি। বরং হিতে বিপরীত হয়ে দেখা দিয়েছে বিএনপির জন্যই।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাড়া জাগানো সফরের মধ্যে দিয়ে দেশ কী পেল বা না পেল তার চেয়ে বড় কথা, দেশের মানুষ এই সফরের মধ্য দিয়ে বিএনপির এক নতুন রূপ চেহারার সন্ধান পেয়েছে। বিএনপির এই চেহারা উন্মোচন বিলম্বে হলেও দেশের মানুষ বেশ উপকৃত হয়েছে। বিএনপি তাদের চিরকালীন ভারত বিরোধিতার রাজনীতি পরিত্যাগ করে ভারত তোষণের সুর ধরেছে। মোদির সফরের আগেই বিশ্লেষকরা বলেছিলেন, এবারের সফরে মোদি তাঁর কর্মসূচিতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতকার রাখেননি। গণমাধ্যমে সংবাদটি চাউর হয়ে গেলে বিএনপি নেত্রীর মাথায় যেন অকাশ ভেঙ্গে পড়ে। বিএনপির শীর্ষ নেতাদেরও একই অবস্থা। ঠিক এই সময় খালেদা জিয়া তাঁর সুর বদলে ফেললেন। বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়ার চেয়েও এক কাঠি ওপরে গিয়ে ভারতের পক্ষে সাফাই গাইতে শুরু করলেন। এ যেন মেঘ না চাইতেই জল।

অবশেষে অনেক জল্পনা-কল্পনার পর মোদি তাঁর সফরে খালেদা জিয়াকে সাক্ষাত দিলে পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়। বিএনপির রাজনীতিতে রাতারাতি বিশাল পরিবর্তন ঘটে যায়। বিএনপি যে আওয়ামী লীগের চেয়ে ভারতের অনেক কাছের তা প্রমাণ করার জন্য দলটি আদা-জল খেয়ে মাঠে নামল। দলের বুদ্ধিজীবীরাও তাদের পুরনো বুলি ভুলে গিয়ে ভারত-প্রেমে গদগদ হয়ে আউরাতে লাগল নতুন বুলি।

দেশের মানুষ বিএনপির এসব নাটুকে আর হাস্যকর কা-কীর্তি দেখে হাসি লুকিয়ে রাখতে পারছেন না।

ডা. পরিতোষ কর

মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ