১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

জাফর ওয়াজেদের কবিতা


খসে পড়ছে, ঝরে পড়ছে গুঁড়ো গুঁড়ো রাশি রাশি মুশকিল আসান

আমাদের বাড়ি আসবেন আজ চাঁদ সওদাগর, দেখতে নয় ভাসান।

সপ্তডিঙ্গা মাঝ দরিয়ায়, কূলে উঠে আসবেন ময়ূরপঙ্খী নায়ে

এই নদীতে গেছে ভেসে পুত্রধনের শব ভেলা, বেহুলার ছায়ে।

আসেন সওদাগর-বসেন সওদাগর, আমরাও আছি সওদাগর

সাগরজলে ভাসে ডিঙ্গা-পণ্য বোঝাই, ঘুরি বন্দর গঞ্জ নগর।

জলে-ডাঙ্গায় জীবন কাটে, জীবন জুড়ে ঘাত ও প্রতিঘাতে

বাণিজ্যের হিসেব-নিকেশে হয় না ভ্রান্তি একটুও যে তাতে

পুত্রহারা চাঁদ সওদাগর, বাণিজ্যেতে বসে না মন- উদাসীন

বিক্রি বাটা করে দেবেন সপ্তডিঙ্গা, বহর যতো তারই অধীন।

মনসা দেবী পথের কাঁটা, করবেন কেন তাকে তোওয়াজ

চেতনাতে আছেন যিনি, তিনিই দেবেন প্রাণের আওয়াজ।

সওদাগরের বহর কেনার সমঝোতা স্মারকে করতে সই

সাক্ষী থাকেন আরো সওদাগর, দিলেন সবাই টিপসই।

অবাধে লোপাট করি

অবাধে আমদানি করি ঘৃণা আর রফতানি করি হিংসা

আমাদের ঋণপত্র জুড়ে শর্ত Ñঅমানবিক জিঘাংসা

প্রতিহিংসার টার্মিনাস জুড়ে ঝংকারে কালের রিরংসা

নির্ভার ঘৃণার কন্টেইনার জট ছাড়াতে লাগে মীমাংসা।

অবাধ বাণিজ্যের মুক্ত হাওয়াতে ছড়িয়ে দেহমন

কেনাকাটা করি হিংস্রতার কপটচারী অতি সজ্জন

হিংসার সাথে জুড়ে দেই প্রবল প্রতাপে উল্লম্ফন

অনায়াসে মিলে যায় তুমুল মৈথুনের নিমজ্জন।

ঘৃণাগুলো ঘানি ব্যাগে ভরে চলে আসে বন্দর থেকে

ছড়িয়ে পড়ে গ্রামÑগ্রামান্তর, মানুষেরই অন্তর্লোকে

ঘৃণিত জীবন নখরামি ছাড়া চলে যায় দ্যুলোকে

ভূলোকে তার কারবারি কিছু নেই, তারে ভুলে কে।

ঘৃণা আর হিংসার এভাবে আসা কিংবা যাওয়া

অবাধে লোপাট করি তবু কিছুই যায় না পাওয়া।

গলাবাজি

গলাবাজি শুনলেই সম্মোহিত হতে থাকি আর কেবলই

মন্ত্রমুগ্ধ তাকিয়ে দেখি দু’কানের দরোজা খোলা রেখে

গলাবাজির ভাবভঙ্গি অতি সৃজনশীল! অতি মনোহরা

পূর্ণিমার রাত বা জীবনানন্দের নক্ষত্রমালা বা রাখাল

গরুর পাল নিয়ে যায় মাঠেÑ তার মধ্যে যে আবেগ

চাগাড় দেয়, ইটিশÑপিটিশ করে, তা ফুটে উঠলে

কী যে দশা হয়, খিঁচুনি বাড়ে নাকি, আছড় ভূতেরÑ

গলাবাজির ভেতর মেদচর্বি কোলেস্টেরল মাত্রা ছড়ালে

আমার চিত্তে সুখ জাগে, রমণ সৃজন জাগরণ ঘটে যায়

আমি তখন উচ্ছন্নে যাই, উথলে উঠে প্রমোদ প্রাঙ্গণ

আয় তবে হাতে হাত রেখে নাচি, নৃত্য করি উল্লাসে

চোখের তারায় মদিরতা ছুঁয়ে দিয়ে দেহের ভুবনখানি

চায় যে আসন বসন, শয়ন পাতে গড়াগড়ি গোঁয়ার্তুমি

গলায় গলায় ভাব জমে যে, দেহের পারদ ওঠানামায়Ñ

গলাবাজির শব্দ ছোটে দেহবাজির আগুন নেভাতে

সেই আগুনে পোড়ে না দেহ, মন পোড়ে অঙ্গারে

কুসুম কুসুম সুড়সুড়ি সব হামাগুড়ি দিতে থাকে

স্নায়ুকোষে উথাল পাতাল লাগিয়ে পালে উন্মাদনা

ঝড়ো বাতাস বইতে থাকে নিশ্বাসেতে ভাটির টান

সৃজনশীল সব সৃজনমত্ত দেহ নদীর গভীর জলে

গলাবাজি চলতে থাকে অতল জলের গূঢ় আহ্বানে।

ইকবাল আহমদ গেয়ে চলেছেন

‘বিপ্লবেরই রক্তলাল ঝা-া ওড়ে আকাশে’ বলে

দীপ্ত কণ্ঠে রবীন্দ্র সংগীতকে পেছনে রেখে গেয়ে

উঠতেন ইকবাল আহমদ। আর আমরা তখন

দীপ্র তারুণ্য, সোল্লাসে মত্ত হতাম বিপ্লবের ঝা-া

উড়িয়ে স্পন্দিত বুকে মার্চপাস্ট, রাইফেল হাতে

একাত্তরের মার্চে ইকবাল আহমদ পাজামা পান্জাবি

হারমোনিয়াম গলায় গেয়ে চলেছেন ‘হিমালয় থেকে

সুন্দরবন হঠাৎ বাংলাদেশ’-আমরা তখন কোরাসে

মিছিলে মিছিলে শুধু ধ্বনিত হতো বজ্রকণ্ঠ নির্ঘোষ

আমাদের চোখে মুখে তখন স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা

লড়াইয়ের ময়দানে যেতে হবে তাই সমস্ত প্রস্তুতিপর্ব

তখনো ইকবাল আহমদ গেয়ে চলেছেন, ‘জয়ধ্বনি

আকাশে বাতাসে’- আমাদের অজস্র কণ্ঠভেদ করে

বেরিয়ে আসে কেবলি ‘জয় বাংলা’ - বাংলাদেশ

স্বাধীন করো, বীর বাঙালী অস্ত্র ধরো- অস্ত্র ধরো

অস্ত্র হাতেই ইকবাল আহমদ, পেছনে গান সুর রেখে...