২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

রিক্রুটিং এজেন্সির অফিসে অভিযান, পাচারকারী চক্রের ১৬ সদস্য আটক


স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর মালিবাগের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির অফিসে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মানবপাচারকারী চক্রের ১৬ সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব। এ সময় তাদের আস্তানা থেকে ২১শ’ পাসপোর্টও জব্দ করা হয়।

মঙ্গলবার রাতে চালানো এ অভিযানে যাদের আটক করা হয় তারা হলেন, মোঃ আকতার হোসেন (৫৩), মোঃ আলী (৪৩), মোঃ মাহাবুবুর রহমান (৩৩), মোঃ ইসহাক খান (২৫) মোঃ মনিরুল ইসলাম (৪২), মোঃ কামাল হোসেন (৩২), আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (৩৩), কাদির খান (৪৩), আব্দুল মান্নান (৫৮) রাজু আহমেদ (৩২), শহিদুল ইসলাম (৩৫), মোঃ সোহেল (২৪), হাফিজুল ইসলাম (৩২) রাজিয়া সুলতানা (৩৬)আয়নাল হক (৩২), নিয়ামত উল্লাহ (৪০)। তারা সবাই এ অফিসের কর্মরত ও দালাল।

র‌্যাব জানায়, মালিবাগের রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি এ্যান্ড ট্রাভেলস নামের অফিসে বসে অবৈধভাবে বিদেশে লোক পাচার করা হতো। এটা মানবপাচারের শামিল। এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্য র‌্যাব গোয়েন্দা কার্যত্রুম শুরু করে। এ সময় র‌্যাব নিশ্চিত হয়-ওই প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের মেয়াদ নেই। তারপরও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অনুমতি ছাড়াই বিদেশে লোক পাঠাত তারা। এতে যারা এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে যেতেন তারা প্রতারণার শিকার হতেন। এমন বেশ কজন ভিকটিমেরও পক্ষ থেকেও র‌্যাব অফিসে অভিযোগ করা হয়।

র‌্যাব জানায়, অভিযানের সময় ওই অফিস থেকে ২১শ’ পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে একটি কম্পিউটারও উদ্ধার করা হয়, যাতে মানবপাচার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি লুকানো। এ ছাড়া মানবপাচার সংক্রান্ত বিভিন্ন দলিলও জব্দ করা হয়। আটককৃতদের রামপুরা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ৭ নম্বর সেক্টর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জসিম উদ্দিন নামের এক মানবপাচারকারীকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার বিকেলে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ১৪টি পাসপোর্ট, লিবিয়ার ভিসা ও জাল টিকিট উদ্ধার করা হয়। এসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আটককৃত জসিম উদ্দিনের সহযোগীরা বিভিন্ন লোকের নিকট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে অবৈধভাবে সাগর পথে ও আকাশ পথে মানবপাচার করে আসছে। জসিম ও তার পলাতক সহযোগীরা জনৈক মোস্তফা মানিক, ও তার চাচাতো ভাই জহুরুল ইসলাম সুমন, খালাতো ভাই আব্দুল কাদের ও তার পার্শ্ববর্তী গ্রামের সাহাবুদ্দিন ও নুরে আলম এবং তার পরিচিত মোঃ আকবরকে মালয়েশিয়া ও লিবিয়ায় পাঠানোর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মোট ২৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

তারা উত্তরা অফিস থেকে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে কৌশলে কক্সবাজারে নিয়ে ট্রলারে উঠিয়ে দেয়। মোস্তাফা মানিক, জহুরুল ইসলাম সুমন, সাহাবুদ্দিন, নুর আলম, আকবর কৌশলে ট্রলার থেকে নেমে গেলেও জসিমের সহযোগীরা কাদেরকে জোরপূর্বক ট্রলারে উঠিয়ে অপরিচিত লোকজনের সঙ্গে মালয়েশিয়া পাচার করে দেয়। অদ্যাবধি কাদেরের কোন খোঁজখবর পাওয়া যায় নাই। আটককৃতের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।