২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সম্পর্কের নতুন দিগন্ত


ভারত ও বাংলাদেশ দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জিইয়ে রাখা সন্দেহ, অবিশ্বাস, তিক্ততা ও বিরোধ দূর করার পথ পাড়ি দিল দুটি দেশ। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফর নতুন উচ্চতায় দু’দেশের সম্পর্ককে নিয়ে গেছে। বিশেষত ৬৮ বছর ধরে করুণ জীবনে বসবাসরত ছিটমহলবাসীদের মুক্ত করতে মুজিব-ইন্দিরা স্থলচুক্তি কার্যকর করার মধ্য দিয়ে এক যুগান্তরকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক সফলতার ফসল এই চুক্তি। উভয় দেশের ভালবাসার নির্দশনও বটে। দুই নিকট প্রতিবেশীর সম্পর্ককে আরও জোরালো অর্থনৈতিক ভিত্তি দেয়ার ওপর জোর দিয়েছে দুটি দেশ। বর্তমান এশিয়ায় অর্থনৈতিক শক্তির উত্থান ও বিকাশ ঘটেছে। এই অবস্থায় আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ যে গুরুত্বপূর্ণ, তা উভয় দেশ উপলব্ধি করে এ ক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করছে। উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও আন্তরিক। তাই এই সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবেই। সেই সঙ্গে বাড়বে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব। দুই দেশের জনগণের শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও প্রসারিত হবে। কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়ে উভয়েরই লাভবান হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকার দিকদর্শন উঠে এসেছে মোদির এই সফরে। ছিটমহল হস্তান্তর তথা মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি অনুসমর্থনের দলিলপত্র বিনিময়ের মধ্য দিয়ে উভয় দেশ আরও ঘনিষ্ঠ হলো। মোদির সফরকালে উভয় দেশের মধ্যে ২২টি সমঝোতা স্মারক চুক্তি সই হয়েছে। এরমধ্যে আন্তঃযোগাযোগ, যৌথ নিরাপত্তাসহ এমন কিছু চুক্তি রয়েছে যেগুলো শুধু দুই দেশই নয়, উপ-আঞ্চলিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রাখবে। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে আরও ২০০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তার ঘোষণাও রয়েছে এসবের মধ্যে। সফরকালে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু প্রকল্পের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেছেন। নরেন্দ্র মোদি তাই বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে আগামীতেও পথ চলার দৃঢ় অঙ্গীকার জানিয়ে বলেছেন, ভারত আছে বাংলাদেশের সঙ্গে। দু’দেশ একসঙ্গে সামনের দিকে চলবে, বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়েই চলবে। তাই দু’দেশ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সামনের দিকে, উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ ও ভারত অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আজ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাচ্ছে। পারস্পরিক সহযোগিতাকে কাজে না লাগিয়ে বর্তমান বিশ্বে কোন দেশের পক্ষেই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে বৃহত্তম প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সহযোগিতার পরিধি বাড়ানো খুবই জরুরী। তবে পারস্পরিক সন্দেহ, অবিশ্বাস ও ভুল বোঝাবুঝিকে দলিত মথিত করে অতীতের তিক্ততা ছিন্নভিন্ন করে দুটি দেশ এগিয়ে যাবে উন্নতির শিখরে। এই সাফল্য উপমহাদেশের জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেবেÑএটাই প্রত্যাশা।