২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ঐতিহ্যবাহী সোনারগাঁ


সোনারগাঁর কথা শুনলেই প্রাচীন বাংলার কথা মনে পড়ে। পূর্বে মেঘনা, পশ্চিমে শীতলক্ষ্যা, উত্তরে ব্রহ্মপুত্র এবং দক্ষিণে ধলেশ্বরী। চার দিকেই এই চারটি নদী দ্বারা বেষ্টিত সোনারগাঁ। এখানে যেমন আছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তেমনি আছে প্রাচীন ঐতিহ্যের বিরল স্মৃতি। ১৩৩৬ সালে ফখর উদ্দিন মোবারক শাহের আমলে সোনারগাঁ বাংলার রাজধানী হিসেবে মর্যাদা লাভ করে। সোনারগাঁর পূর্ব নাম ছিল সুবর্ণগ্রাম। শাহ বংশের শাহরা দীর্ঘ ১৬১০ সাল পর্যন্ত বাংলায় রাজত্ব করেন। মোগল আমলে ইসলাম খাঁর আমলে রাজধানী সোনারগাঁ থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত করেন। এতে সোনারগাঁর গুরুত্ব লোপ পায়। এখানে প্রাচীন আমলের অনেক দালানকোঠা আছে। তবে এগুলো অক্ষত নয়। পুকুর ঘাটের পাশে দুটি ঘোড়ার প্রতিকৃতি দেখার মতো। সোনারগাঁর ঐতিহাসিক অঞ্চল হলো পানামনগর। এই অঞ্চলে রাস্তার দুই ধারে পরিখা দ্বারা বেষ্টিত ছোট ছোট ইটের তৈরি ইমারত। এই ইমারতগুলো প্রাচীনকালের গৌরবময় ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয়। এখানে আছে পানাম ব্রিজ। এটি পঙ্খীরাজ খালের ওপর নির্মিত একটি পুরান স্থাপত্য। এখানে আছে একটি নীলকুঠি এবং গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ্র মাজার। সোনারগাঁর আরেকটি আকর্ষণ হলো- লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর। এই জাদুঘরে আছে অনেক মূল্যবান নিদর্শন। এই জাদুঘরে আছে ১১টি গ্যালারি। প্রত্যেক গ্যালারি ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহাসিক জিনিস নিয়ে সাজানো। নিপুণ কাঠ খোদাই গ্যালারি, লোকজ জীবনভিত্তিক গ্যালারি, পটচিত্র গ্যালারি, নৌকার মডেল গ্যালারি, বাদ্যযন্ত্র ও লোহার তৈরি জিনিসের নিদর্শন। তামা, কাঁসা, পিতল ইত্যাদির বহু নিদর্শন। আরও আছে বাঁশ, বেত ও শীতল পাটির গ্যালারি। সোনারগাঁর আরও আকর্ষণীয় হলো বর্তমান সময়ের তৈরি করা শিল্প গ্রাম। এটির আরেক নাম লোকশিল্প গ্রাম। গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনধারার বর্ণনায় সাজানো এই বিরল কারুশিল্প গ্রাম। আমাদের লোকশিল্প, লোকসংস্কৃতি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মননশীলতা। গ্রামের প্রকৃতি, পরিবেশ এবং কর্মরত কারুশিল্পীদের জীবনধারা ইত্যাদি। একটি গ্রামের অবিনশ্বর রূপের প্রতিস্থাপন ঘর-বাড়ি, নদী-নালা, খাল-বিল, লেক-পুকুর, গাছপালা, গ্রামের মানুষের প্রবহমান জীবনচক্র- এসব নিয়েই সাজানো এই গ্রাম। গ্রামের ঘরগুলো সবই পাকা কিন্তু ঘরগুলো এমনভাবে তৈরি দেখলে মনে হবে এ গুলো বুঝি পাতার চানি দেয়া কাঁচাঘর। সোনারগাঁর আরও একটি বৈশিষ্ট্য হলো এখানে প্রচুর লিচু গাছ আছে। তাই এটাকে লিচুর গ্রাম বললেও অত্যুক্তি হবে না। সময় করে একবার ঘুরে আসুন সোনারগাঁ। এখানে এলে আপনার চঞ্চল মন শান্ত হয়ে যাবে।