১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

একগুচ্ছ সুখবর নিয়ে আসছেন মোদি


মানস বন্দ্যোপাধ্যায়, নয়া দিল্লি থেকে ॥ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক বছরে এক হাজার বছরের কাজ সম্পন্ন করেছেন। ৬ জুন বাংলাদেশ সফরের সময় প্রতিবেশী বাংলাদেশ যাতে ভারতের সঙ্গে মৈত্রী বন্ধন অটুট রাখে তার জন্য মোদি এক গুচ্ছ সুখবর বহন করে নিয়ে যাচ্ছেন ঢাকায়। বৃহস্পতিবার বলেছেন কেন্দ্রীয় জল সম্পদ মন্ত্রী উমা ভারতী। উমা বলেন, তিস্তার জল বন্টন নিয়ে যে সঙ্কটজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, সেটা অনেকটা শিথিল হয়ে এসেছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীকে সঙ্গে নিয়েই ঢাকা যাচ্ছেন। সেখানে এখনই কোন ঘোষণা না হলেও সমাধানের সূত্র বেরিয়ে যাবে। দ্বিতীয়ত : বাংলাদেশের সহযোগিতায় ফেনী নদীতে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করে ত্রিপুরার কৃষি জমিতে সেচকার্যে যেমন সুবিধা হবে, তেমনই এর সুফল পাবে বাংলাদেশও। তৃতীয়ত : স্থল সীমান্ত চুক্তি সংক্রান্ত ১০০তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি সংসদের উভয় সভায় পাস হয়ে যাওয়ায় ৪১ বছরের বকেয়া সমস্যা স্থায়ী সমাধানের বার্তাও মোদি নিয়ে যাচ্ছেন ঢাকায়। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে জল সম্পদ মন্ত্রী উমা ভারতী এই প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে বলেন, চীন সরকার তিব্বতে ব্রহ্মপুত্র নদে যে বিশাল মেগা হাইড্রো প্রকল্প নিয়েছে, তার কুপ্রভাব যাতে পূর্বোত্তরে ব্রহ্মপুত্র নদে না পড়ে তার জন্য চীন সরকারের সঙ্গে কথা বার্তা চলছে। তারা এ নিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন নিয়মিত সংবাদ আদান-প্রদান এবং সহযোগিতা করার। আমরা কিছুতেই ব্রহ্মপুত্রের ক্ষতি হতে দেব না। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ২০১৪-এর জুনে ভারত-চীনের বিশেষজ্ঞ স্তরের অষ্টম বৈঠকে বর্ষার সময়ে চীন ভারতকে ইয়ার্লু জাংবু, ব্রহ্মপুত্র নদ সংক্রান্ত জল বিজ্ঞানীর মাধ্যমে তথ্য প্রদান করতে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ৩০ জুন ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি চীন সফরে গেলে বেজিং এ প্রকল্পটিতে স্বাক্ষর দেয়। উমা বলেন, তিনি নিজে অরুণাচল প্রদেশ এবং অসমে গিয়েছিলেন। সেখানে আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ এবং অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন ব্রহ্মপুত্র নিয়ে। গগৈর সঙ্গে মাজুলি নিয়েও কথা হয়েছে। তিনি বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুতের জন্য ৯৬০০ মেগাওয়াটের মধ্য সিয়াং এবং সুবর্ণ সিঁড়ির মতো কয়েকটি প্রকেল্পর ক্ষেত্রে সহমতসহ প্রাপ্ত হবার পর কাজ শুরু হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র বোর্ডকে শোচনীয় অবস্থা থেকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। এজন্য ব্রহ্মপুত্র নদ পুনরুজ্জীবন অথরিটি গঠন করা হয়েছে। উমা বলেন, ব্রহ্মপুত্র আন্তর্জাতিক নদ। এর সংস্কারের কাজ চলছে। বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য এক বছরে ৯৯ শতাংশ সুফল পাওয়া গেছে। মাজুলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাজুলি বিশ্বের বৃহত্তম নদী দ্বীপ। এর রক্ষণ এবং এটিকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ-এর তালিকায় নিয়ে যাবার প্রয়াস চলছে। সফল হলে পর্যটনের ক্ষেত্রে মাজুলি হয়ে উঠবে আকর্ষণীয় স্থান। পুনর্গঠিত ব্রহ্মপুত্র বোর্ড-এর মাধ্যমে মাজুলি ভূমিক্ষয় রোধ করার কাজ চলছে পুরোদমে। মন্ত্রী অধিকাংশ সময় গঙ্গা পরিষ্কার করা এবং সর্বত্র বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থার ওপর জোর দেন।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: