২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বোঝা হলেই কেবল স্বেচ্ছামৃত্যুর কথা ভেবে দেখব


প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং বলেছেন, তিনি অন্যের সহায়তা নিয়ে তখনই মৃত্যুবরণের কথা বিবেচনা করবেন যখন বিশ্বে তাঁর আর অবদান রাখার কিছু থাকবে না এবং তিনি নিছক একটি বোঝায় পরিণত হবেন। যেটির নিউরন রোগে আক্রান্ত প্রফেসর হকিং যুক্তি দেখান যে, কাউকে তার নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাঁচিয়ে রাখা হলো ‘চরম অমর্যাদাকর’ বিষয়। তিনি বলেন, তীব্র যন্ত্রণা ভোগ করলেই শুধু তিনি এরকম মৃত্যুর কথা ভেবে দেখবেন। খবর টেলিগ্রাফের।

বিবিসির একটি নতুন অনুষ্ঠানের জন্য ডারা ও’ব্রায়াইন-এর সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে এই বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী তাঁর নিঃসঙ্গতার পীড়ায় আক্রান্ত হওয়ার কথা প্রকাশ করেন, কারণ লোকেরা তাঁর সঙ্গে কথা বলতে কিংবা তাঁকে জবাব দিতে হবে এজন্য শংকিত হতো। ২০১৩ সালে অন্যের সহায়তা নিয়ে মৃত্যু সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি তাঁর প্রকাশ্য সমর্থনের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, ‘আমরা প্রাণীদের কষ্ট সহ্য করতে দেইনা, তবে মানুষ কেন তা সহ্য করবে? আগামী ১৫ জুন বিবিসি ওয়ানে প্রচারের জন্য নির্ধারিত এক অনুষ্ঠানে প্রফেসর হকিং-এর সন্তানদের সঙ্গে সাক্ষাতকারের পাশাপাশি তাঁর নিজের জীবন সম্পর্কে আরও উপলবিব্ধর কথা থাকবে। সাক্ষাতকার গ্রহীতা ও’ব্রায়াইন সহায়তার মৃত্যুর প্রতি তাঁর সমর্থন এবং কোন অবস্থায় তাঁর নিজের ক্ষেত্রে তিনি তা বিবেচনা করবেন এমন প্রশ্ন করা হলে এই পদার্থবিজ্ঞানী বলেন, কাউকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাঁচিয়ে রাখা হলো ‘চরম অমর্যাদাকর’ বিষয়। ‘আমি সহায়তার মৃত্যুর বিষয় তখনই ভেবে দেখব যখন আমি প্রবল যন্ত্রণা ভোগ করব কিংবা মনে করব আমার আর দেয়ার মতো কিছু নেই, কেবল আশপাশের মানুষদের জন্য একটি বোঝা হয়ে আছি।’ তবে, তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেকে ধিক্কার দিই যদি আমি মহাবিশ্বের আরও রহস্য উদঘাটনের আগেই মারা যাই।’ তিনি বলেন, তিনি শারীরিক কোন ব্যথা অনুভব করেন না, তবে মাঝে মাঝে নিজের অবস্থা মানিয়ে নিতে পারেন না বলে অস্বস্থি বোধ করেন।