১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

দালালদের প্রতারণায় দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে ৪ অভিবাসী!


নিজস্ব সংবাদদাতা, নওগাঁ ॥ নওগাঁর নিয়ামতপুরের প্রতারক দালালদের খপ্পরে পড়ে ৫ যুবক প্রতারনামুলক ভিসার মাধ্যমে ওমান গিয়ে জেলখানায় আর পালিয়ে দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে। এদের মধ্যে একজন ওমানে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেল খেটে দেশে ফিরে এলেও এখনও একজন জেলে এবং অপর ৩ জন পালিয়ে দুর্বিসহ জীবন কাটাচ্ছে ওমানে। এসব পরিবারে এখন শুধুই হতাশা আর কান্নার রোল। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীদের পক্ষে স্থানীয় দালালদের বিরুদ্ধে নিয়ামতপুর থানাসহ বিভ্নি দপ্ততরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় দালাল উপজেলার সাবইল গ্রামের মোঃ রফিক দর্জ্জি ও তার পুত্র সাখাওয়াত হোসেন মিলনের মাধ্যমে মাসে ৪০ হাজার টাকায় চাকুরি করতে উপজেলার তেঘরিয়া লংপুর গ্রামের মোঃ ছাইদুল ইসলামের পুত্র শরিফুল ইসলাম(২২), গুজিশহর গ্রামের মৃত ইমাজ উদ্দিনের পুত্র আনারুল ৩২), কুমারগাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের পুত্র মিষ্টার আলী (২৭), সাবইল গ্রামের মৃত মহির উদ্দিনের পুত্র জয়নাল আবেদীন ৩৮) এবং বালিচাঁদ গ্রামের আব্দুল হামিদের পুত্র গোলাম মোরশেদ(২৮) ওমান যায়। এ জন্য প্রত্যেকে ওই দালালদের ৪ লাখ টাকা করে দিতে হয়েছে। তাদের কোন দেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা আগে জানানো হয়নি। ঢাকা বিমান বন্দরে বিমানে ওঠার আগ মূহুর্তে তাঁরা জানতে পারে তাদের ওমানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ওমান বিমান বন্দরে নেমে সাখাওয়াত হোসেন মিলন তাদের একটি কাগজ ধরিয়ে দিয়ে এবং ওমানে এসে গেছি তোমরা এখন কাজ খুঁজে নাও এই বলে সটকে পরে। ওমানে পুলিশের হাতে ধরা পরলে তারা বুঝতে পারে তাদের ভিসা ছিল মাত্র তিন মাসের জন্য ট্যুরিষ্ট ভিসা। ৩ মাস কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে সময় অতিবাহিত করে শরিফুল ও আনারুল পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। বাঁকী ৩জন এখনও অজ্ঞাত অবস্থায় পালিয়ে রয়েছে।

এদিকে ৩ মাস কারাভোগের পর শরিফুল ইসলাম জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ওমানের স্থানীয় এক পুলিশের সহায়তায় বাংলাদেশে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে গত ৭ মে বাড়িতে ফিরে এসে তাদের এই দুর্বিপাকের কথা জানায়। আনারুল এখনও ওমানের জেলে কারাভোগরত অবস্থায় আছে। আর মিষ্টার আলী, জয়নাল আবেদীন আর গোলাম মোরশেদ অজ্ঞাত অবস্থানে দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে। তাঁদের কোন খোঁজ নাই। সর্বশান্ত এই পরিবারগুলোতে এখন শুধুই হাহাকার আর স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আকুতি। তারা অনাহার অর্ধাহারে কোন রকমে দিনাতিপাত করছেন। অথচ দালাল চক্র রফিক দর্জ্জি ও তার ছেলে সাখাওয়াত হোসেন মিলন এলাকায় মাথা উঁচু করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ ব্যপারে স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে দালাল রফিক দর্জ্জি ও সাখাওয়াত হোসেন মিলনের সঙ্গে কয়েকদফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু কোন ফল হয়নি। দালালরা কোন কথাই মানতে নারাজ। পরিবারের সদস্যরা তাদের নিকট টাকা ফেরত এবং স্বজনদের দেশে ফিরে আনতে বললে উল্টো তাদের হুমকী প্রদান করছে। তারা দম্ভস্বরে অভিবাসীদের স্বজনদের বলছে, কেউ তাদের কিছু করতে পারবে না। পুলিশ ও সরকার দলের লোকজন সব তাদের হাতের মুঠোয়!