১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ইলিশযাত্রা


বন্ধুরা সবাই মিলে প্রোগ্রাম ফাইনাল করে ফেলল। ফাইনাল মানে একেবারে ফাইনাল। রাত দশটার দিকে যাত্রা শুরু হবে। সবাইকে জানিয়েও দেয়া হলো। কিন্তু বাগড়া বাঁধাল মঞ্জুর। মঞ্জুর বলল, প্রোগ্রাম তো তোরা ফাইনাল করলি কিন্তু প্রোগ্রামের একটা নাম দিবি না? নাম ছাড়া কী প্রোগ্রাম হয়?

হ্যা, একদম ঠিক কথা-

রিফাতের কথার সুরে সুর মিলিয়ে জাহিদও কোরাস ধরে বলল, তাই তো!

পরে সবাই বসে প্রোগ্রামের একটা নাম ঠিক করা হলো।

অনেক গবেষণা, তর্ক-বিতর্ক, পর্যালোচনা, বিশ্লেষণ করে সেই নামটা সর্বসম্মতভাবে পাস হলো। প্রথমটায় এ ব্যাপারে মঞ্জুর একটু আপত্তি তুলে বলেছিল, প্রোগ্রামের নামের ব্যাপারে তোরা আরেকটু চিন্তা-ভাবনা করতে পারিস। নামটা একটু সিলি হয়ে গেল না?

মঞ্জুরের কথায় শাহজালাল খোঁচা মেরে বলল, দোস্ত, আমরা তো আর্ট ফিল্ম বানাতে যাচ্ছি না যে বেশ ভারি আর আঁতেল মার্কা নাম দিতে হবে প্রোগ্রামের।

দোস্ত, ভারি আর আঁতেল মার্কা নাম কেমন রে? উৎসুক হয়ে বাবু প্রশ্ন করে।

এই ধর ধরিত্রী শ্যামল, সুন্দর কঠিন, অসহ্য এ জীবনÑ নোমান বাবুর প্রশ্নের উত্তর দেয়।

শেষমেশ ঠিক হলো রাত দশটায় শুরু হবে ইলিশযাত্রা। লেট লতিফ বাবুর জন্য অবশ্য আরও দশ মিনিট বাড়িয়ে সময় নির্ধারণ করা হলো দশটা দশ মিনিটে। কেউ যদি দশটা দশের এক মিনিটও দেরি করে তাহলে তাকে বাদ দিয়েই শুরু হবে ইলিশযাত্রা। ভদ্রলোকের এক কথা। একথার নট নড়ন নট চড়ন।

শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের সামনে সবাই এসে হাজির। ঘড়িতে তখন রাত নয়টা বেজে পঞ্চাশ মিনিট। বাবু, মঞ্জুর, নোমান, শাহজালাল, রিফাত, মিজানÑ ছয় বন্ধু মিলে মানিকের দোকান থেকে আলগা পাতি দিয়ে গরম চা খেল। তারপর শাহবাগ থেকে তিন রিকশা নিয়ে ওরা রওনা দিল নয়াবাজার। একেক রিকশায় দুইজন করে। নয়া বাজার ব্রিজ থেকে মাওয়ার বাস ধরে সোজা চলে যাবে মাওয়াঘাট।

মানিক চা বানানোর সময় বাবুকে বলল, মামা, সবাই দেহি হেভি মাঞ্জা মাইরা আইছেন। কই যাইবেন?

আজ তাজা ইলিশ মাছ পোড়া, ভাজা শুকনা মরিচ দিয়ে গরম গরম ভাত খাবÑ বাবু এমনভাবে কথাগুলো বলল যে মনে হলো ও বুঝি এখনই গরম ভাত দিয়ে ভাজা ইলিশ মাছ খাচ্ছে। ওর চারপাশে পদ্মার তাজা ইলিশ ভাজার ম-ম গন্ধ।

মানিক বাবুর কথার মানে বোঝে না। সে শুধু অবাক হয়ে বাবুর দিকে তাকিয়ে থাকে।

রাত সাড়ে এগারোটায় ওরা গিয়ে পৌঁছল মাওয়াঘাটে। ঘাটের আশপাশে ভাতের হোটেল। নানা পদের তরকারি সাজানো। ইলিশ মাছ কেটে চাক চাক করে রাখা হয়েছে। ওরা ভাতের হোটেলের দিকে এগুতেই হোটেলের মানুষজন ওদের জেঁকে ধরল, পদ্মার ইলিশ দিয়া ভাত খায়া যান। একবার খাইলে সারাজীবন মনে থাকবো।

ইলিশের পিছ কতো?

সত্তর টাকা।

নোমান হোটেলের ভেতরে ঢুকে বয়কে ফ্রেশ ইলিশ মাছ দেখাতে বলল। বয় ভেতর থেকে বেশ বড় একটা ইলিশ মাছ নিয়ে এলো। দেখেই বোঝা যাচ্ছে একদম ফ্রেশ।

দরদাম ঠিক হলো। নয় শ’ টাকা। চোখের সামনে কেটে ভেজে দেবে।

রাত একটায় ওরা ইলিশ ভাজা দিয়ে গরম ভাত খেয়ে হোটেল থেকে বেরিয়ে এলো। পদ্মার ঠা-া বাতাসে শরীর হিম হয়ে যাচ্ছে।

ফেরার সময় মঞ্জুর বলল, দোস্ত যতদিন বেঁচে থাকবে আর পৃথিবীর যেখানেই যাই এই ইলিশযাত্রার কথা সত্যিই সারাজীবন মনে থাকবে।

মঞ্জুরের কথায় কেউ কিছু বলল না।

রাতের অন্ধকারে বাস ছুটে চলেছে ঢাকার দিকে।