২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

অবরোধে নাশকতার মামলায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হবে না ॥ আইনমন্ত্রী


সংসদ রিপোর্টার ॥ বিএনপি-জামায়াত জোটের তথাকথিত অবরোধের নামে নাশকতার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাগুলোর বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রয়োজন নেই। নাশকতার মামলাগুলো যে সব অপরাধের জন্য দায়ের করা হয়েছে সেসব অপরাধ সুনির্দিষ্ট আইনে সন্নিবেশিত রয়েছে এবং সেগুলো বিচারের জন্য আদালতে বিদ্যমান। সোমবার দশম জাতীয় সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশনের সূচনা দিনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা বেগমের এক প্রশ্নের জবাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এ্যাডভোকেট আানিসুল হক এসব কথা বলেন। তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভা-ারীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধের ব্যাপারে প্রস্তাবকৃত একটি বিল বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে রয়েছে। মন্ত্রিসভায় আইনটি অনুমোদন পেলে জাতীয় সংসদে তা বিল আকারে পাসের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

হরতাল-অবরোধ বন্ধে আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত সরকারী দলের সংসদ সদস্য তাজুল ইসলামের পৃথক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, হরতাল ও অবরোধ বন্ধ করার লক্ষ্যে কোন আইন প্রণয়নের আপাততঃ সরকারের নেই। হরতাল, অবরোধ ও বিভিন্ন প্রকার নাশকতার নামে দেশের জনসাধারণ ও তাদের জানমাল যারা ধ্বংস করেছে তাদের বিদ্যমান সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯-এর আওতায় এনে শাস্তির বিধান রয়েছে। উক্ত আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী বিগত দিনগুলোতে সংঘটিত অপরাধের জন্য সারাদেশে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দায়েরকৃত এসব মামলাসমূহের বিচারকার্য যাতে থেমে না থাকে সেজন্য সন্ত্রাস বিরোধী আইনের ধারা ২৮ এর উপধারা (১) ও (২) এর বিধান অনুযায়ী সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন ও বিচারক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত উক্ত আইনের ধারা ২৭ এর বিধান অনুযায়ী দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ কর্র্তৃক উক্তরূপ মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য ২০০৯ সালের ৯ জানুয়ারি আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটি পরিপত্র জারি করে সকল জেলা ও দায়রা জজকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূইয়ার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আনিসুল হক জানান, বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে মামলার জট কমানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতি জেলায় কেস ম্যানেজমেন্ট

কমিটি গঠনের মাধ্যমে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির পদক্ষেপ হাতে নেয়া হয়েছে। এছাড়া অধিকসংখ্যক বিচারক নিয়োগ করে সরকার আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে।

বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, আলোচিত, নৃশংস ও নারকীয় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলাটি বর্তমানে বিচারের সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এ মামলায় মোট সাক্ষীর সংখ্যা ৪৯১ জন এবং আসামির সংখ্যা ৫২ জন। গ্রেনেড হামলা ও হত্যা মামলা দুইটিতে এ পর্যন্ত ১৪৫ জন করে ২৯০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। আরও ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আদালতের কাছে সমন জারি করার প্রার্থনা জানানো হয়েছে। ৩৪৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ বাকি রয়েছে। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রত্যেক সপ্তাহে ২/৩টি তারিখ পড়ছে।

এস এম মোস্তফা রশিদীর প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, দলিল নিবন্ধনের শত বছরের পুরনো পদ্ধতির অবসান ঘটিয়ে আধুনিকায়নের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। ঢাকা, কুমিল্লা ও যশোর রেকর্ড রুম ডিজিটালাইজেশন পদ্ধতি চালু করা হবে, সফটওয়্যার প্রস্তুত পর্যায়ে রয়েছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: