২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

হুমকির মুখে ঢাকা ছেড়ে এক পরিবারের মানবেতর জীবন


স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জের ধরে প্রতিপক্ষের হুমকি-ধমকির মুখে ঢাকার বাড়ি ছেড়ে রাজশাহীতে মানবেতর জীবনযাপন করছে এক পরিবার। বর্তমানে ওই পরিবার রাজশাহী নগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকায় বসবাস করছে। তবে এখানেও অব্যাহত হুমকির মুখে পরিবারটি শান্তিতে থাকতে পারছে না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

রবিবার সকালে রাজশাহী নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে রায়হান-উর-রহমান নামের ওই ব্যবসায়ী এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রায়হান দাবি করেন, তাদের পৈত্রিক বাড়ি ঢাকার মিরপুর-১১ পল্লবীর ৩৮/৩ পলাশ নগর এলাকায়। তার বাবা আতাউর রহমান ২০০৬ সালে দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর থেকে বড় ছেলে হিসেবে সংসারের দায়ভার পড়ে রায়হানের ওপর। রায়হান সংসার চালাতে রাজশাহী অঞ্চল থেকে তাজা মাছসহ বিভিন্ন ফল কিনে ঢাকার ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতেন। এই ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে রায়হান আরও কয়েকজন অংশীদার সঙ্গে নেন। তবে ২০১৩ সাল থেকে দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার কারণে ব্যবসায় অব্যাহতভাবে লোকসান গুনতে থাকেন। এর মধ্যে কয়েকজন অংশীদার রায়হানকে অপর অংশীদারকে ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এতে রাজি না হওয়ায় একাই এলাকার অংশীদাররা রায়হানকে তাঁদের টাকা ফেরতের জন্য চাপ দেয়।

এই অবস্থায় লোকসানের মুখে পড়ে রায়হান টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে তারা রায়হানদের পল্লবী এলাকার বাড়িটি নাম মাত্র দামে কিনে নিতে চান। এতে রাজি না হওয়ায় রায়হানকে নানাভাবে হয়রানি করতে থাকেন ওই ব্যবসায়ীরা। একপর্যায়ে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর মামলা দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।

শেষ পর্যন্ত আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে অংশীদারদের অব্যাহত হুমকিরমুখে বাড়ি ছেড়ে সপরিবারে পালিয়ে রাজশাহীতে আসতে বাধ্য হন রায়হান। বর্তমানে তিনি তার মা, ছোট এক ভাই ও এক বোনকে নিয়ে নগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকায় নানার বাড়িতে অবস্থান করছেন।

রায়হান লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ঢাকার বাড়িতে তারা উঠতে চাইলেও এখন উঠতে পারছেন না অব্যাহত হুমকির কারণে। এ অবস্থায় একদিকে ব্যবসার পুঁজি হারিয়ে অন্যদিকে বাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে পরিবারটি। সংবাদ সম্মেলনে রায়হানের মা রুখশানা বেগম ও ছোট বোন তাহমিনা রহমান উপস্থিত ছিলেন।