১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ঋণের সুদের ৭৫ শতাংশ মওকুফ করবে আইসিবি


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি পুঁজিবাজার শেয়ার কেনার জন্য গ্রাহকদের নেয়া ঋণের সুদের একটি বড় অংশ মওকুফ করতে যাচ্ছে। বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের পাশে দাঁড়াতে এমন উদ্যোগ নিচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় সুদ মওকুফের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য পৃথক একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছে পর্ষদ। আইসিবি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, সুদ মওকুফ সংক্রান্ত কমিটি আগামী আজ রবিবার বৈঠকে বসছে। এ কমিটিতে আছেন আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ফায়েকুজ্জামান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জিল্লুর রহমান এবং সাধারণ বীমা করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ রেজাউল করিম। আগামী ১১ জুন আইসিবির পরবর্তী পর্ষদ সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে পারে।

সূত্র জানিয়েছে, ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ের মার্জিন ঋণের ৭৫ শতাংশ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিবি। আর বাকি ২৫ শতাংশেও পাওয়া যাবে নমনীয় সুদে পরিশোধের সুযোগ। ঋণের এ অংশ পরিশোধে ৩ বছর সময় পাবেন গ্রাহকরা। আর এর জন্য দিতে হবে বার্ষিক ৮ শতাংশ সুদ, যা মার্জিন ঋণের প্রচলিত সুদ হারের অর্ধেকেরও কম।

এর আগে সরকার পুঁজিবাজার প্রণোদনা স্কিমের আওতায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ৬ মাসের সুদ মওকুফ করেছিল। আরও ৬ মাসের সুদ রাখা হয় ব্লক এ্যাকাউন্টে। নিজস্ব মূলধন ১০ লাখ টাকা বা তার কম মার্জিনধারী এমন বিনিয়োগকারীরা ওই প্যাকেজের আওতায় সুবিধা পেয়েছিল। আইসিবির সুদ মওকুফ সুবিধা সব ধরনের মার্জিনধারী বিনিয়োগকারীর জন্য প্রযোজ্য হবে। নিজস্ব মূলধন বা ইক্যুইটির আকারের উপর তা নির্ভর করবে না। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফায়েকুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, তারা বরাবরই তাদের গ্রাহকদের ব্যাপারে সংবেদনশীল। ঋণের কারণে অনেকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সুদের একাংশ মওকুফ হলে তারা আবার লেনদেনে সক্রিয় হতে পারবেন। এতে একদিকে তারা লাভবান হবেন, অন্যদিকে গ্রাহকদের ধরে রাখতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানও লাভবান হতে পারবে।

তিনি বলেন, বিষয়টি নীতিগতভাবে অনুমোদিত হলেও তার রূপরেখা চূড়ান্ত হয়নি। এদিকে আইসিবির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিনিয়োগকারীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিনিয়োগকারী জানান, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তার পরিবার একটি বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাবে।

তিনি বলেন, সারা জীবনের সঞ্চয় আর ধার দেনা করে তিনি এ বাজারে ৩৭ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। বাজারে ধস শুরু হলে তিনি শেয়ার কেনার গড় ক্রয় মূল্য কমিয়ে আনতে ধারকর্জ করে আরও বিনিয়োগ করেন। কিন্তু টানা দর পতনে তার মূলধন ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। আইসিবি তার কাছে উল্টো টাকা পাবে। এ ভয়ে তিনি ওপথ মাড়ান না। সুদ মওকুফ হলে আবার বাজারে সক্রিয় হয়ে লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবেন।