২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ধামরাইয়ে গৃহবধূকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, হত্যা চেষ্টা


নিজস্ব সংবাদদাতা, সাভার ॥ দাবিকৃত যৌতুক দিতে না পারায় ও একই সাথে পেটের সন্তান নষ্ট করতে রাজী না হওয়ায় ধামরাইয়ে এক গৃহবধূর ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালানো হয়েছে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে তাকে শ^াসরুদ্ধ করে হত্যারও চেষ্টা করা হয়। তলপেটে লাথি, হাতে-পায়ে-পিঠে রক্তের জমাট বাঁধা কালো কালো দাগ ও সারা শরীরে নির্যাতনের ছাপ নিয়ে ওই গৃহবধূ এখন ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধুর নাম সীমা আক্তার (২০)। সে পৌরসভার তালতলা মহল্লার চা বিক্রেতা চাঁন মিয়ার কন্যা।

জানা গেছে, আট মাস পূর্বে পারিবারিকভাবে সীমার বিয়ে হয় পৌর এলাকার ছোট চন্দ্রাইল মহল্লার এসহাক মিয়ার পুত্র সুমন মিয়ার সাথে। বিয়ের পর অল্প কিছুদিন পর থেকে সীমা উপর সামান্য বিষয় নিয়েও নির্যাতন চালাতে থাকে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা। একই সাথে যৌতুক হিসাবে পিতার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দিতে থাকে সুমন। এরইমধ্যে সীমা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। সন্তান নষ্ট করে ফেলার জন্য সুমন প্রায়ই তাকে মারপিট করে।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সীমার মুখ চেপে ধরে সন্তান নষ্ট করার জন্য জোরপূর্বক ওষুধ খাইয়ে দেয় সুমন। এ সময় ডাক-চিৎকার শুরু করলে সীমার মুখে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে সুমন। এতে ব্যর্থ হয়ে উড়না দিয়ে দু’হাত বেঁধে চৌকির মধ্যে ফেলে বাঁশের লাঠি দিয়ে সীমাকে বেধড়ক পেটায়। তলপেটে লাথি মারে। বর্বর এ নির্যাতনে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে সীমা। এ অবস্থায় এক প্রতিবেশী সীমার বাবা চাঁন মিয়াকে ফোনে ঘটনাটি জানায়। খবর পেয়ে চাঁন মিয়া ওই বাড়িতে গিয়ে তার মেয়েকে অচেতনাবস্থায় দেখতে পান। এ সময়ও হাসপাতালে নিয়ে আসতে বাধা দেয় সুমন ও পরিবারের সদস্যরা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সীমাকে উদ্ধার করে চাঁন মিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঘটনার পর থেকে সুমন পলাতক রযেছে।

চাঁন মিয়া জানান, বিয়ের সময় তিনি তার মেয়েকে কানে ও গলায় ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের গহনা দিয়েছিলেন। সেটাও রেখে দিয়েছে সীমার স্বামী।