২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

রূপগঞ্জের খ্যাতি এনেছে সমির মুন্সির দই


রূপগঞ্জের তারাবো পৌর সভার খ্যাতি নানা শিল্প-কুটিরশিল্পে। তবে আরেকটি বিষয়ে খ্যাতি আছে এই জনপদের। আরও নির্দিষ্ট করে বললে সমির মুন্সির দইয়ের। দইয়ের খ্যাতির সঙ্গে জড়িয়ে আছেন তারাবোর সমির মুন্সি। মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী হলেও যিনি অতিলাভে মোটেও বিশ্বাসী নন। তাই তিনি হরেক রকমের ভাল মানের দই তৈরি করে গোটা উপজেলার মনন এবং মানচিত্রকে রাঙ্গিয়ে দিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা ভালো কিছু করে আজও স্মরণীয় বরণীয় হচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জের সমির মুন্সি তাদেরই একজন। তাঁর তৈরি করা এই খাদ্যবস্তুটির বিপণনের মূল জায়গা অবশ্য রাজধানী ঢাকার ডেমরা যাত্রাবাড়ী ও তার আশপাশের এলাকা। সেখান থেকেই সমির মুন্সির দইয়ের অবাধ গতি রাজধানীর আভিজাত্য এলাকা গুলশান বনানীর কিছু অংশে। সমির মুন্সির কাছেই জানা গেল এই তথ্য।

সমির মুন্সির দইয়ের সঙ্গে অবশ্য ‘অমৃত্তি’ তথা অমৃতির খ্যাতিও আছে। মুগ ডালের লেইয়ের ভাজা মিষ্টি। জিলিপি। প্যাঁচের ভিতরেই অসংখ্য প্যাঁচ। তাবাবো বাজারে সমির মুন্সি মিস্টান্ন ভা-ারে পৌঁছেই মনে হলো দইয়ের সমুদ্র। নানা আকারের মাটির পাত্রে দই পাতা হয়েছে। তা সাজানো রয়েছে মরা আঁচের বিশাল উনুনের চার পাশে। পরতে পরতে চটের পোশাক। ভোর হলেই এই সমস্ত দই ছুটবে নানা স্টেশনে। বিভিন্ন এলাকার লোকজন কেবল সমির মুন্সির দই নিতেও এখানে আসে। সমির মুন্সির কারখানায় দইয়ের জন্য প্রতিদিন দুধ লাগে ১০ থেকে ১৫ মণ। বিয়ে, উৎসব, পালা-পরবে দুধের পরিমাণ আরও বাড়ে। অবাক হওয়ারই কথা। সমির মুন্সির কারখানা কিংবা মিষ্টির দোকানটা আহামরী কিছু নয়। তার পরও ভাল খাবার মিলে বলেই তার দোকানে ক্রেতা হুমড়ি খেয়ে পড়ে। কথা বলতে বলতে সমির মুন্সি ঘুরিয়ে দেখালেন দইয়ের কারখানা, উনুন ইত্যাদি। ঘুরতে ঘুরতেই জানা গোল এই প্রসিদ্ধ দই তৈরির ঠিকুজি। দই তৈরিতে কাঠ ও কয়লা, দু’ধরনের জ্বালানিই লাগে। জ্বালের প্রথম ‘ফুট’ হতে সময় লাগবে দেড় থেকে পৌনে দু’ঘণ্টা। কাঠের জ্বালে। পরের পর্ব কয়লার আঁচে। দুধ ফুটিয়ে গাঢ় করা হয় দই তৈরি করার জন্যে। দুধের সঙ্গে পরতে পরতে সর থাকে। বিশেষভাবে দুধ তৈরি হয়ে গেলে নানা মাপের মাটির পাত্রে ওই দুধ দেয়া হয় এবং তা থেকেই হয় দই। বাজারের চাহিদা অনুসারে পাত্রের মাপও নানা রকমের।

Ñমীর আবদুল আলীম, রূপগঞ্জ থেকে