১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

দুর্যোগ সহিষ্ণু ধান ও ফসলের জাত উদ্ভাবন


সমুদ্র হক ॥ কৃষকের এখন আর একদ- বসে থাকার ফুরসত নেই। ঘরে এক ফসল উঠতে না উঠতেই আরেক ফসলের মৌসুম শুরু। কৃষিতে যন্ত্রশৈলীর পাশাপাশি ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিনা) নানা ধরনের ফসল উৎপাদনের গবেষণার যে হিড়িক পড়েছে তাতে এ দেশের মাটিতে কৃষির সোনা ফলতেই শুরু করেছে। একটা সময়ে দেশে মৌসুম ভিত্তিক আবাদ হতো। বর্ষা বন্যা খরা তীব্র ঘনকুয়াশায় আবাদ মার খেত। এখন তা আর নেই। খরা বন্যা শৈত্যপ্রবাহ লবণাক্ততা অর্থাৎ সকল দুর্যোগ সহিষ্ণু জাতের ধান ও অন্যান্য ফসল উদ্ভাবিত হয়েছে। বর্তমানে কোন জমি আর পড়ে থাকছে না। এই সময়টায় (জ্যৈষ্ঠ মাস) একদা কৃষক দুশ্চিন্তায় থাকত আষাঢ়ের বন্যায় ফসল ডুবে আবাদ মার খাবে কি না। একবিংশ শতকে এসে দেখা যাচ্ছে দৃশ্যপট একবারেই পাল্টে গিয়েছে। এই বিষয়ে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) কৃষি বিভাগের পরিচালক কৃষি বিজ্ঞানী এ কে এম জাকারিয়া বলেন, বন্যায় কোন জাতের ধান আবাদ করতে হবে তাও জেনেছে কৃষক। বন্যাসহিষ্ণু এই জাতের কয়েকটি বৈজ্ঞানিক নাম আছে। তবে কৃষকের কাছে বরষালি নামেই অধিক পরিচিত। কৃষক এখন কোন ভাবনা চিন্তা ছাড়াই বরষালি রোপণে ব্যস্ত। ব্রি-৫২ জাতের এই ধান দুই সপ্তাহের বেশি জলমগ্ন থাকলে আবাদ মার খাবে না। প্রতি হেক্টরে অন্তত ৫ মেট্রিক টন করে ফলবে। ব্রির পাশাপাশি বিনা বন্যাসহিষ্ণু বিনা-১১, বিনা-১২ জাতের ধান উদ্ভাবন করেছে। রোপণের পর বন্যার পানিতে ২০/২৫ দিন ডুবে থাকলেও ক্ষতি হয় না। আংশিক পচা গাছ পুনরায় বেড়ে ওঠে। জাকারিয়া বললেন ব্রি ১৯৭০ সালে বিআর-১ চান্দিনা (বোরো ও আউশ) জাতের ধান উদ্ভাবন করে যাত্রা শুরু করার পর সর্বশেষ বিআর-৬২ পর্যন্ত বোরো ও আমন জাত এবং ব্রি হাইব্রিড ১ থেকে ৪টি জাতের উদ্ভাবন করেছে। মোট ৬৫টি জাতই মাঠে আছে। কৃষক যখন যেটা প্রয়োজন তা আবাদ করে।