২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কবিতা


২০১৫ সনে একজন

তরুণীর চিঠি

জাহিদ হায়দার

যতদিন ইচ্ছে

তুমি আমার প্রেমিক থাকতে পারো,

আমিও থাকবো

যেমন আমাকে অন্ধকারে ডাকো তুমি : চন্দ্রিমা’;

কিন্তু বিবাহের কথা কক্ষনো তুলবে না।

সেদিন তোমাকে নিয়ে,

শীতের দেশ থেকে

নক্ষত্রের জোসনা ছুঁয়ে

জাহাঙ্গীর নগরে আসা

পাখিদের আনন্দ দেখার ইচ্ছে ছিল;

সময় ছিল না তোমার।

তুমি জান,

কোনো কোনো রাতে আমার কুকুরটা

পাশে চুপচাপ শুয়ে থাকে,

মাঝখানে দোলে ভালোবাসার নৈঃশব্দ।

ওর মায়াবী চোখ আমাকে দ্যাখে,

চায় না কিছুই।

রাত্রিতে পুরুষের চাহিদা অনেক।

মানুষ খুব একটা বোঝে না নিঃশব্দতার কল্যাণ,

মুঠোফোনের অ্যাপসের সঙ্গ নিরাপদ মনে হয়।

মানুষের ইচ্ছাপূরণের দায়িত্ব বহন

আর কৈফিয়ত দেওয়া,

মরচে পড়া কাঁটাতারের জটঘুম খোলা।

আবার বলছি,

তোমার প্রেমিকা থাকতে ভালো লাগবে আমার,

অন্য কোনো শর্তের বন্ধন

আর নিত্যদিনের প্রবণতা হওয়া

একদম ভালো লাগছে না আজকাল।

দু’জনেই জানি,

চিরদিন থাকে না সবুজ সম-সম্পর্কের ভিত।

স্বীকার করছি,

আমারও ভালো লাগে চুম্বনের তরঙ্গ-যমুনা।

বারবার দরজা খুলে দেবার দায়

আমিও নেব না, তুমিও নিও না।

সহজ কথা-৭

শ্যামলী মজুমদার

বেশ রোদ এখানে।

সবুজ ঘাস মখমল, প্রথম দুপুর।

পিঠে তার অলসতা।

অন্তরঙ্গ কথকতা শুরু।

গাছের ছায়ায় নগর বালিকা এক

বলছে নিজগল্প, পিঠে ঘাস,

কানে ও রাখালিয়া!

চোখে রোদচশমা।

আকাশ দেখতে পাচ্ছি,

নীল একান্ত আমার।

দূরে স্বচ্ছ জলধারা

আর অজস্র বিশ্ববালিকা,

করতলে ঘাস, জলতলে আকাশ;

আরশিতে মুখখানি কে রেখেছে ধরে?

মধ্য প্রহরে উদ্বেল রোদ,

আমি তো আমাকে চিনিনে আর!

প্রত্যুত্থান

মাহমুদ টোকন

ক্ষমা করে দাও। এইসব ধুলোর কাহিনি...

মহীয়ান নীরবতা বৃক্ষেরা জানে, আর সরিসৃপ

ঈশ্বর জানে নাÑ

যতটুকু পিচ রাস্তা আর বোঝে কৃতজ্ঞ শালিক।

রক্তপাত-ক্ষত, স্তূপীকৃত ঘাস-লতাপাতা। স্মৃতি মুদ্রিত যুদ্ধÑ

লুকোনো ম্লানিমা।

সূর্যোদয় যতটুকু আলো, সূর্যাস্তে সবটুকু নয় অন্ধকার

বীজের ভেতরে রক্ত ঘুমন্ত রোদ্দুর, সভ্য জাতীস্বর।

পৃথিবী ঈশ্বরের ডাস্টবিন

তাকে নির্বিষ করে গড়ে ওঠে ওজোন বলয়।

ক্ষমাই সবুজ ধানক্ষেত, পিঁপড়ে সংহতি

নবীন পাতার পিঠে পিছলে পড়া রোদের উপাসনা।

অধরা বাতাস

শাহীন রেজা

নিমগ্ন আমাতে তুমি যে রকম রাতের আকাশ

তাইতো তোমাকে মানি তুমিহীন অধরা বাতাস

প্রণয় সমুদ্র শেষে আমরাই ডানা মেলি দূর

কবিতা নায়রী যায় শ্রুতি জুড়ে মহূয়ার সুর

জীবনে অভিন্ন জানি মরণেও জেগে থাক আঁখি

তোমাতে আমাতে বাধা অফুরান ভালোবাসা রাখী

চাঁদের কিরণ ধায় মেঘ সাথে অজানার পার

তৃণের তুলিতে খুঁজি একমনে জীবনের ধার

প্রেমের এইতো খেলা সুখ দুখ মিলে একাকার

এমন অমর কিছু ত্রিভূবণে হবে না যে আর।