২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

জমি নিয়ে বিরোধে চাচাত ভাইয়ের হাতে ভাই খুন


স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরধরে সূত্রাপুরে চাচাত ভাইয়ের হাতে ভাই খুন, বিমানবন্দর এলাকায় এক প্রকৌশলীর রহস্যজনক মৃত্যু ও পল্লবীতে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে মারামারিতে জামাই নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার রাত দেড়টার দিকে সূত্রাপুরের কাঠেরপুল এলাকার লালমোহন দাস লেনের ৪৮ নম্বর বাড়িতে খুনের ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় নিহত মনির হোসেন শাহিদ (৪৫) বাড়ির নিচতলায় একাই ছিলেন। এ সময় চাচাত ভাই ওহিদুর রহমান বাদ্দু ঘরে ঢুকে তার গলায় ছুরি বসিয়ে দেয়। শাহিদ প্রাণে বাঁচতে ঘর থেকে বেরিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কয়েক গজ সামনে গিয়েই তিনি পাশের ড্রেনে পড়ে যান। পরে ড্রেন থেকে শাহিদের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।

নিহতের চাচা শেখ শামসুদ্দিন (৫৫) জনকণ্ঠকে জানান, শাহিদ অবিবাহিত। ধর্মীয় কাজে ব্যস্ত থাকত। আড়াই কাঠা পৈত্রিক জমির মালিকানা নিয়ে শাহিদের সঙ্গে চাচাত ভাই বাদ্দুর বিরোধ চলে আসছিল। তারই জের ধরে হত্যাকা-ের ঘটনাটি ঘটে। শাহিদ স্থানীয় ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী ছিল। যদিও পুলিশ এমন তথ্যের বিষয়টি জানে না বলে দাবি করেছে। নিহতের পিতার নাম শেখ জাহিদ হোসেন। তিনি ১৯৭১ সাল থেকে পাকিস্তানে বসবাস করছেন। সেখানেই তিনি বিয়ে করে সংসার করছেন।

এদিকে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকার কসাইবাড়ি রেললাইন এলাকায় সিঙ্গাপুর প্রবাসী প্রকৌশলী তৌহিদুর রহমানের (৩০) রহস্যজনক মৃত্যু হয়। তার পিতার নাম সাবদার রহমান। নিহতের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার সদর হামদোহা এলাকায়। জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ জানান, ট্রেনের ধাক্কায় ওই প্রকৌশলীর মৃত্যু হতে পারে। তবে কিভাবে ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগেছে তা জানা যায়নি। ঘটনার ঘণ্টাখানেক আগেই তিনি সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশে আসেন।

নিহতের ফুপাত ভাই ওয়াহিদুর রহমান জনকণ্ঠকে জানান, তৌহিদুর রহমান ২০১০ সালে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর বুয়েটে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। ২০১৩ সালে তিনি সিঙ্গাপুর চলে যান। দেড় মাস আগে ঝিনাইদহে বিয়ে করেন। পরিবার ও স্ত্রীকে না জানিয়ে তিনি সিঙ্গাপুর থেকে সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য ঘটনার ঘণ্টাখানেক আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে আসেন। ভোর সাড়ে চারটার দিকে পথচারীরা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার ব্যাগে থাকা পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য কাগজপত্র দেখে পথচারীরা তাদের ঘটনাটি জানান। আধুনিক হাসপাতালে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখানেও তার অবস্থার অবনতি হতে থাকলে তাকে দ্রুত স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সকাল নয়টার স্কয়ার হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: