২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

অন্ধকার চর আলোকিত সৌরবিদ্যুতে


দিন বদলের পালায় সেকালের প্রমত্তা তিস্তা আর আজকের সবুজ তিস্তার সঙ্গে মানুষের জীবন-কর্মের তফাত বেড়ে গেলেও সম্পর্কের বিভেদ ঘটেনি এখনও পর্যন্ত।

নীল আসমানের নিচে ওপারের ফসলের সবুজ ক্ষেত, প্রতিদিন সন্ধ্যা প্রদীপ নেভার মতোই পশ্চিমাকাশে রক্তিম সূর্য ডোবার চরবাসীর সেই অন্ধকারটি আজ আলোয় আলোকিত। বেশিদিনের কথা নয়, পাঁচ বছর আগের কথা।

ভোরে সূর্য্যােদয়ের পর দিনের আলো শেষে রাতে ঘুটঘুটে অন্ধকারে পরিণত হয়েছে চরবাসীর জীবন। কোন দিন ভাবতে পারেনি তারা, চরের জীবনে সোলারের মাধ্যমে আলোয় আলোকিত হবে। কিংবা চরের বালুজমিতে ফসলের বাম্পার ফলন ফলিয়ে তারা বদলে দিতে পারবে জীবনমান। তিস্তার চরাঞ্চলে বসবাস দেড় লাখ মানুষের জীবনে রাতের আঁধার ঘুচিয়ে দিয়েছে সৌরবাতি। নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার ডিমলা, জলঢাকা, হাতিবান্ধা, কালীগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত অববাহিকা তিস্তায় জেগে ওঠা অসংখ্য চর। একেক চরের একেক নাম। এ চরগুলোতে এখন সন্ধ্যার পর আলোয় ঝলমল করছে সৌরবিদ্যুতের বদৌলতে। সোলারের সাহায্যে টিভির মাধ্যমে দেশের খবর ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান ঘরে বসে উপভোগ করছে। এক সময় দেশের খবর নিতে হেঁটে প্রায় ২০-৩০ কিলোমিটার বালু পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হতো ডালিয়া ব্যারেজ কলোনি, ডালিয়া বাজার কলোনীর হাট, শুটিবাড়ি, হাতিবান্ধা, কালীগঞ্জ, তুষভান্ডার বাজারে। এখন সেই দিন আর নেই। মজার বিষয় বেশ কিছু চরে আবার স্যাটেলাইট কেবল টিভি নেটওয়ার্ক পৌঁছে গেছে।

যেখানে পৌঁছেনি সেখানে বিটিভি ও ভারতীয় এবং নেপালের টিভির অনুষ্ঠান দেখছে তারা। অনেকেই হয়ত গল্প মনে করতে পারেন। কিন্তু আসলে এসব গল্প নয়, চর থেকে চরে ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। ‘এখন হামাক নম্প-হারকিন জ্বলের নাগে না। এখন হামার ঘর-দুয়ারে নাইটও জ্বলে, টিভিও চলে। দ্যাশোত কোনঠে কি ঘটেছে সব কবার (বলতে) পাই। হামাক এ্যালা শহরের মানুষের মোতন হয়া গেছি’।