২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

পর্যটনকে আলাদা মন্ত্রণালয় করার দাবি


অনলাইন ডেস্ক ॥ রুগ্নপ্রায় পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে আলাদা মন্ত্রণালয় করার দাবি জানিয়েছে দেশের পর্যটন শিল্প নিয়ে কাজ করা সংগঠন অ্যাভিয়েশন ট্যুরিজম জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (এটিজেএফবি)। একইসঙ্গে আগামী বাজেটে এ খাতের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো ও বিশেষ প্রণোদনা দাবি করেছে সংগঠনটি।

শুক্রবার রাজধানীর মহাখালীর হোটেলে অবকাশে বাজেট বিষয়ক এক আলোচনা সভায় এ দাবি জানায় সংগঠনটি। আসন্ন বাজেট ও পর্যটন খাতের সম্ভবনা নিয়ে আলোচনায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সেন্টার ফর পলেসি ডায়লগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

এসময় বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান মো. ফারুক খানসহ পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, পর্যটন শিল্প দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত। গত তিন মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতায় এ শিল্পে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। সঠিক পরিকল্পনার অভাবে এ খাত এখন রুগ্ন প্রায়। এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে ব্যাপক ভিত্তিক পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নে কার্যকরী পদক্ষেপ দরকার। এজন্য বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে ভেঙ্গে শুধু পর্যটনের জন্য মন্ত্রণালয় করা দরকার।

তিনি বলেন, এ শিল্পের সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে ২০১৬ সালকে পর্যটন বছর ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এর জন্য যে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি দরকার সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। শুধু ঘোষণায় নয়; বাস্তবায়ন করতে অবশ্যই নির্দিষ্ট বরাদ্দ ও কৌশলপত্র থাকতে হবে। এ খাতের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে রাশেদ খান মেনন বলেন, আগামী বাজেটে পর্যটন শিল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০১৬ সালকে পর্যটন বছর হিসেবে তার আলোকে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এ জন্য চলতি অর্থবছরে বাজেটে বরাদ্দের চেয়ে ৮ কোটি টাকা বেশি নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকদের ৯০ শতাংশই বাংলাদেশের মানুষ। মানুষ এখন আর অনেক বেশি ভ্রমণ পিয়াসু। তাই বিদেশি পর্যটকদের পাশাপাশি নিজ দেশের পর্যটকদের প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে। এক্ষেত্রে বেসরকারি ট্যুর অপারেটরদের সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করতে হবে। তাদের সুযোগ সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় সব করা হবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. ফারুক খান বলেন, ট্যুর অপারেটরদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে অর্থমন্ত্রণালয়ের কাছে একটি পলিসি গাইডলাইন দেওয়া আছে। বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো ও প্রণোদনাসহ সম্ভাব্য সব ব্যবস্থাই করা হবে।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানের ট্যুর অঞ্চল করতে চাই। এজন্য পর্যটক ও অপারেটরদের গাড়ি আমদানি শুল্কমুক্ত করাসহ সরকারের কাছে প্রণোদনা চাওয়া হবে। আন্তর্জাতিক মানের হোটেল নির্মাণে কর ও শুল্কে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হবে।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় অন্যদের মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রফিকুজ্জামান, পর্যটন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান খান কবির, ক্যাবের চেয়ারম্যান এম সানাউল হক, পর্যটন কর্পোরেশনের পরিচালক ড. নাসির উদ্দীন, তোয়াবের পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুল ইসলাম বুলু উপস্থিত ছিলেন।