১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ছয় বছর পর পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট


ছয় বছর পর পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ এমন কড়া নিরাপত্তা সাধারণত কোন দেশের সরকার প্রধানের জন্যই দেয়া হয়ে থাকে। অনেকে আবার মনে করছেন সফরকারী জিম্বাবুইয়ে ক্রিকেট দলকে এরচেয়েও বেশি নিñিদ্র নিরাপত্তা দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। সেটা তারা করতেই পারে, অনেক বড় চ্যালেঞ্জ দেশের ক্রিকেটকে বাঁচানোর জন্য। সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে গত ৬ বছর ধরে সংগ্রাম করছে পিসিবি। ২০০৯ সালের ৩ মার্চ সফরকারী শ্রীলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দলের ওপর জঙ্গী হামলার পর থেকে আর পাকিস্তান সফর করেনি কোন ক্রিকেট দল। এরপর অনেক কাঠখড় পুড়িয়েছে পাকিস্তান সরকার ও পিসিবি দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে আনার। অবশেষে আজ যেন পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য ঈদের দিনটা উপস্থিত হয়ে গেছে। সফরকারী জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টি২০ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে পাকরা। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় দুই ম্যাচ টি২০ সিরিজের প্রথমটি শুরু হবে আজ।

জিম্বাবুইয়েকে রাজি করাতেও অনেক ঘাম ঝরাতে হয়েছে পিসিবিকে। এমনকি মাঝে গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল পাকিস্তান সফর বাতিল করেছে জিম্বাবুইয়ে ক্রিকেট। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের মাটিতে জিম্বাবুইয়ে ক্রিকেট দল পা রাখে গত মঙ্গলবার। আর নিরাপত্তার যে প্রটোকল ছিল সেটা চরম বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। যে লাহোরের ভেন্যুতে খেলতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছিল লঙ্কান ক্রিকেটাররা সেখানেই আবার ক্রিকেট ফিরছে। ৬ বছর আগে (২০০৯ সালের ৩ মার্চ) স্বাগতিক পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্ট চলার সময়ে জঙ্গী হামলায় পড়েছিল লঙ্কান ক্রিকেটাররা। এদিন গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা হামলা করলে কয়েকজন লঙ্কান ক্রিকেটার ও কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হন এবং দু’জন নিরপত্তারক্ষী নিহত হন। সিরিজের মাঝেই দেশে ফিরে যা লঙ্কান ক্রিকেটাররা। এরপর থেকে আর শুধু লাহোর কেন পাকিস্তানেই কোন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হয়নি। পিসিবিকে ঘরোয়া সিরিজগুলো আয়োজন করতে হয়েছে আরব আমিরাতে। কোন দেশের জাতীয় দল আসতে রাজি হয়নি পাকিস্তান সফরে জঙ্গী তৎপরতা বেড়ে যাওয়া, রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়ে যাওয়া এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায়। তবে চেষ্টা চালিয়ে গেছে পিসিবি ও পাক সরকার। অবশেষে সুফল মিলেছে। পাকিস্তান সফরে এসেছে জিম্বাবুইয়ে ক্রিকেট দল। ২ টি২০ ও ৩ ওয়ানডের সিরিজ খেলতে। লাহোরের মানুষ সবসময়ই অতিথি পরায়ণ। জিম্বাবুইয়ে দলকে স্বাগত জানানোর জন্য ভিড় করলেও সেটা পারেনি তারা কড়া নিরাপত্তার কারণে। লাহোরে তবু উৎসবের আমেজ। এ ৬ বছরে শহরের আরও উন্নতি ঘটেছে। গগনচুম্বী অট্টালিকার পরিমাণ বেড়ে গেছে, অনেক সিনেমা হল হয়েছে এবং রাস্তাগুলোও আগের চেয়ে অনেক প্রসারিত হয়েছে। কিন্তু এরপরও জিম্বাবুইয়ে দলের এসব উপভোগ করার সুযোগ নেই। কোন ভুল করতে নারাজ পিসিবি। যে করেই হোক সিরিজ সফল করতে হবে। আজই সেই যাত্রাটা শুরু হবে। গাদ্দাফি স্টেডিয়াম আরও সবুজ এবং আরও সুন্দর হয়ে উঠেছে এতদিনের বিরতির পরও। কারণ যতেœর কোন ঘাটতি রাখেনি পিসিবি। আজ প্রথম টি২০ ম্যাচ শুরুর দু’দিন আগেই সব টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে। গত ৬ বছর ধরে পরিবার থেকে এবং দেশ থেকে দূরে থাকতে হয়েছে ক্রিকেটারদের। কিন্তু এখন দেশেই খেলার সুযোগ পাচ্ছে পাক ক্রিকেটাররা। যদিও খেলার সময় হোটেলে থাকতে হবে, কিন্তু পরিবারগুলো দেশেই আছেন সামান্য দূরত্বে। তাই ঘরের মাটিতে ৬ বছরে প্রথমবার খেলতে নেমে বেশ উজ্জীবিতই থাকবেন পাক ক্রিকেটাররা।

গত ৬ বছরে প্রায় ৩৬ পাক ক্রিকেটারের অভিষেক হয়েছে পাকিস্তানের বাইরে। অর্থাৎ তারা দেশের মাটিতে কোন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে পারেননি এখন পর্যন্ত। সেক্ষেত্রে ঘরোয়া পরিবেশে খেলার যে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার কথা সে সম্পর্কে কোন ধারণাই নেই বর্তমান দলের ক্রিকেটারদের। বর্তমান দলের অন্যতম ভবিষ্যত উমর আকমল ১৬ টেস্ট, ১১১ ওয়ানডে ও ৫৯ টি২০ খেলেছেন। কিন্তু এবারই প্রথম তিনি ঘরের মাটিতে খেলতে নামবেন। একই বিষয়ে ওপেনার আহমেদ শেহজাদের ক্ষেত্রেও। বর্তমান টি২০ স্কোয়াডের শহীদ আফ্রিদি, শোয়েব মালিক, মোহাম্মদ সামি, ওয়াহাব রিয়াজ, মোহাম্মদ হাফিজ ও সরফরাজ আহমেদরই শুধু ঘরের মাটিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু বাকিদের ঘরের মাঠে হবে আজই অভিষেক। ২০০৯ সালের মার্চে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হিসেবে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট হলেও টি২০ হতে যাচ্ছে ৭ বছর পর। ২০০৮ সালের ২০ এপ্রিল সফরকারী বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টি২০ খেলেছিল পাকরা। সেটা হয়েছিল করাচীতে। দেশের মাটিতে আর কোন টি২০ খেলেনি পাকরা। জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে ৫ টি২০ খেলেছে এখন পর্যন্ত পাকরা, সবই জিতেছে। এবার ঘরের মাটিতে নিজেদের দ্বিতীয় এবং জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে প্রথম টি২০-তে কেমন করে পাকরা সেটা দেখতে মুখিয়ে আছে বিশ্ববাসী।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: