২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় রেল প্রকৌশলীর জামিন


স্টাফ রিপোর্টার ॥ পাইপে পড়ে শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচ মাস পলাতক থাকার পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন রেলের প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম।

রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ উপ সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর বৃহস্পতিবার ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন।

বাদীপক্ষ বিরোধিতা না করায় শুনানি শেষে মহানগর হাকিম অশোক কুমার দত্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এ মামলার অপর আসামি প্রকৌশলী আব্দুস সালামও গত ২৬ এপ্রিল জামিনে মুক্তি পান।

বৃহস্পতিবার জাহাঙ্গীরের পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানি করেন তার আইনজীবী আশরাফ উল আলম। মামলার বাদী জিহাদের বাবা নাসির ফকিরের পক্ষে ছিলেন মো. জসিম উদ্দিন খান।

আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই আমিনুল ইসলাম বলেন, “আসামি জামিন পেলে কোনো আপত্তি নেই বলে বাদী আদালতকে জানিয়েছেন।”

শাহজাহানপুর রেল কলোনিতে পানির পাম্প বসাতে মাটির নিচে বসানো ওই পাইপে গত ২৬ ডিসেম্বর পড়ে যায় শিশু জিহাদ। ওই গর্তটি পরিত্যক্ত হলেও তার মুখ খোলা রেখেই অন্য স্থানে কাজ চলছিল।

ওই প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ উপ সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম। কাজটি করছিল সালামের মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেএসআর।

কয়েকশ ফুট গভীর ওই নলকূপের পাইপে শিশু জিহাদ পড়ে যাওয়ার পর তাকে উদ্ধারের অভিযান নিয়ে সারা দেশ ছিল উৎকণ্ঠায়। প্রায় ২৩ ঘণ্টা পর শিশুটিকে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

জিহাদের মৃত্যুর ওই ঘটনা সে সময় সারাদেশে আলোড়ন তোলে। এর জন্য দায়ীদের শাস্তিরও দাবি ওঠে।

এরপর জিহাদের বাবা নাসির ফকির শাহজাহানপুর থানায় এই মামলা করেন, যাতে জাহাঙ্গীর আলম ও আব্দুস সালামকে আসামি করা হয়।

জাহাঙ্গীরকে ঘটনার দিনই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়; ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জেএসআরকে করা হয় ‘কালো তালিকাভুক্ত’।

ঠিকাদার সালাম গত ৮ মার্চ আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত। এপ্রিলের শেষদিকে তাকে জামিন দেয় আদালত।

এরইমধ্যে গত ৭ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহানপুর থানার পরিদর্শক আবু জাফর এ মামলায় অভিযোগপত্র দেন।

দুই আসামির বিরুদ্ধে অপরাধজনক প্রাণনাশের অভিযোগ আনা হয় অভিযোগপত্রে। অপরাধ প্রমাণিত হলে এই ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।