১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আমার গ্রাম আমার মা


একটা সময় ছিল বাংলাদেশের সব গ্রামের একই চেহারা। সবুজ, শ্যামল, মনোরম। পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকত সবসময়। নদীর জল কুলকুল করে বয়ে যেত। নৌকা চলত, মাছ ধরত জেলে, কৃষক গরু নিয়ে মাঠে যেত। নির্মল বাতাস বইত। বুক ভরে শ্বাস নিত ক্লান্ত পথিক। সন্ধ্যায় সূর্য যখন ডুবত তখন চারপাশে নেমে আসত অদ্ভুত আঁধার। দিগন্তবিস্তৃত গাছগাছালির ফাঁক দিয়ে সারাদিনের ক্লান্ত সূর্য কখন যে ডুব দিত বুঝতেই পারতাম না। ঝিঁ ঝিঁ পোকা ডাকত ভাঁটফুলের ঝোপে, জোনাকির আলো মিটিমিটি জ্বলত স্বর্ণলতা ঘিরে। হাত বাড়িয়ে ধরতে যেতাম। আবার শীতের সকালে শিশিরভেজা দূর্বাঘাসে পা ভেজাতাম। সারাদিন পথে পথে ঘুরে রাজ্যের সব আনন্দ কুড়িয়ে বেড়াতাম। তারপর ঘুড়ি উড়ানো, গোল্লাছুট, দাঁড়িয়াবান্ধা কত ছোটাছুটি! সে কী অনাবিল আনন্দ!

সময়ের বাস্তবতায় ধীরে ধীরে শহুরে সভ্যতার আগ্রাসন গ্রামগুলোকে গিলে ফেলতে থাকে। কিভাবে বদলে গেল আমার শৈশবের সেই গ্রাম! শহর আর গ্রামের মধ্যে এখন খুব একটা পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায় না। গ্রামের দোতলা বিল্ডিংয়ের ছাদে ডিশ এন্টেনা দেখে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকি। মাটির পথ ইট-পাথরের কংক্রিটের চাদরে মোড়ানো। পাখির কোলাহলের পরিবর্তে কল-কারখানার শব্দ ভেসে আসে। সবুজ ধান ক্ষেতের মাঠে আজ ইট-ভাটার জ্বলন্ত চিমনি। এই কি আমার সেই গ্রাম! এখানেই আমার জন্ম! হিসাব মেলাতে পারি না। মাটির গন্ধ নেই, শীতল ছায়া নেই, মানুষের মনে উচ্ছ্বাস নেই। মায়া-মমতা কোথায় যেন বিলীন হয়ে গেছে। তবু ওই গ্রামকে আঁকড়ে ধরে পড়ে আছে আমার স্নেহময়ী মা। যার ভালবাসা আজও অমলিন। বদলায় না মায়ের মততা। তাই তো বারবার ফিরে আসি আমার গ্রামে- মায়ের কাছে; তাঁর আঁচল তলে।

দীপ্ত টিভি, ঢাকা কার্যালয় থেকে