২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

শরীয়তপুরে প্রতিপক্ষের বোমা হামলায় যুবক নিহত ॥ আহত ১


নিজস্ব সংবাদদাতা, শরীয়তপুর, ১৯ মে ॥ জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নের ইয়াছিন মাদবরকান্দি গ্রামে মঙ্গলবার সকালে সন্ত্রাসীদের বোমা হামলায় এক যুবক নিহত ও অপর একজন আহত হয়েছে। আহত মোর্শেদ মাদবরের (১৬) অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতের নাম অনিক মাদবর (২১)। তিনি বিলাসপুর ইউনিয়নের ইয়াছিন মাদবরকান্দি গ্রামের মনির হোসেন মাদবরের ছেলে। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা করে গবাদিপশু লুট করে নেয়া হয়েছে। মামলা ও হামলার ভয়ে এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিলাসপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাস্টার মেছের আলী মাদবর ও বর্তমান চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারির মধ্যে আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। গত এক সপ্তাহ যাবত উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ও বাড়িঘরে ককটেল হামলা চলছিল। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ইয়াছিন মাদবরকান্দি গ্রামে একটি পাটক্ষেতে বিকট শব্দে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় লোকজন জড়ো হয়ে ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় অনিক মাদবরকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠায়। কিন্তু সে মারা যায়। গুরুতর আহত মোর্শেদ মাদবর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কেউ কেউ ধারণা করেছেন, বোমা বানাতে গিয়ে তা বিস্ফোরণ ঘটে। এদিকে অনিক মাদবর মারা যাওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মেছের মাদবরের সমর্থকরা কুদ্দুস বেপারির সমর্থক সুরতখারকান্দি গ্রামের আলী হোসেন শেখের ছয়টি, আলী আহমদ শেখের সাতটি, খোদাবক্স বেপারীর দুটি, ইউনুছ ভূইয়ার তিনটিসহ মোট ২৫ গরু লুট করে নিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন মোল্লা ও সালেক মাদবরসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্বশত্রুতার জের ধরে ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিলাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস ওরফে বোমা কুদ্দুস, সালাউদ্দীন মাস্টার, হারুন খলিফা ও তাদের সমর্থকরা ট্রলারযোগে এসে বোমা নিক্ষেপ করলে অনিক মাদবর ও মোর্শেদ মাদবর গুরুতর আহত হয়। এরপর তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে অনিক মাদবর মারা যায়।

মেছের মাদবরের বড় ছেলে সালেক মাদবর বলেন, আমাদের সমর্থকরা কারও বাড়িঘরে হামলা করেনি, কারও কিছু লুট করে নেয়নি। কুদ্দুস বেপারির লোকেরাই আমার চাচাত ভাই অনিকের ওপর বোমা হামলা করেছে। অনিককে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে গেলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আমরা এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।

বিলাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারি বলেন, আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্র্ষান্বিত হয়ে সাবেক চেয়ারম্যান মেছের মাদবর তার সমর্থকদের দিয়ে বেশ কিছুদিন যাবত আমার সমর্থকদের ওপর হামলা করে আসছে। আমার নিজ বাড়িতে ও গত এক সপ্তাহ আগে শতাধিক ককটেল নিক্ষেপ করেছে। আবার নতুন করে হামলার জন্য ককটেল বানাতে গিয়ে মেছের মাদবরের ভাতিজা মারা গেছে। তার সমর্থকরা আমার সমর্থকদের ২৫টি গরু লুট করে নিয়ে গেছে।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, বোমা বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনাস্থল থেকে বোমা তৈরির কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। বোমা তৈরির আলামত পাওয়া গেছে। বেশ কিছু জর্দার কৌটা, কাঠের গুড়াঁসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: