১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

দিনাজপুরে শিশুছাত্রকে ৩ দিন আটকে রেখে নির্যাতন


স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর ॥ ৯ বছরের শিশু আবু সাঈদকে তিনদিন ধরে মাদ্রাসার একটি কক্ষে আটকে রেখে অ-মানষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকার মানুষ। নির্যাতনকারী তিন শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়েছে। দিনাজপুর সদর উপজেলার কমলপুর ইউনিয়নে নূরানী তালিমুল কোরআন হাফিজিয়া কওমী মাদ্রাসায় এ অমানবিক ঘটনাটি ঘটে। আহত শিশু আবু সাঈদকে সোমবার রাতে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। এলাকাবাসীর ভয়ে নির্যাতনকারী তিন শিক্ষক মাদ্রাসা ছেড়ে পালিয়েছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ঘটনার দায় স্বীকার করে বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছেন। কমলপুর ইউনিয়নের জয়রামপুর গ্রামের বাসিন্দা হাসান আলীর ৯ বছরের শিশু পুত্র আবু সাঈদ এ মাদ্রাসায় হেফজ বিভাগে পড়াশোনা করত। তার পরিবারের অভিযোগ, চুরির অপবাদ এনে মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মোঃ রেজাউল ইসলাম, মাওঃ মোঃ রিয়াজুল ইসলাম এবং হাফেজ মাওঃ মোঃ শরিফুল ইসলাম গত শুক্রবার শিশু আবু সাঈদকে মাদ্রাসার একটি কক্ষে হাত পা বেঁধে তিনটি লাঠি একত্রিত করে বেদম প্রহার করেন। নির্যাতনে সাঈদ জ্ঞান হারিয়ে ফেললেও নির্যাতন থামেনি। একই কায়দায় শনিবার ও রবিবার রাতেও তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। শুধু শারীরিক নির্যাতন নয়, অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগও করেছে এলাকাবাসী। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে শিশু আবু সাঈদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর মাদ্রাসার ছাত্রদের লাইন করে রেখে শিক্ষকরা তার বুকে হাত দিয়ে বলেন, এর বুক ধড়ফড় করছে। এই চুরি করেছে বলেই তার হাত পা বেঁধে বেদম প্রহার করে। এতে সাঈদ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহ্ঃতামিম হাফেজ মোঃ গোলাম মোস্তফা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এভাবে কোন শিক্ষক ছাত্রদের নির্যাতন করতে পারেন না। এ ব্যাপারে মাদ্রাসার কোন শিক্ষক তাকে কিছুই জানায়নি। অভিযোগ পেয়ে সোমবার দুপুরে মাদ্রাসায় গিয়ে তিনি ঘটনাটি জানতে পেরেছেন। শিক্ষকদের এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ মাজিদুর রহমান জুয়েল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি অনুবন্ধানের জন্য পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবারের মধ্যে তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।