১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আমাকে ছোট একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল ॥ সালাহউদ্দিন


বিডিনিউজ॥ বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ মেঘালয় পুলিশকে বলেছেন, ঢাকায় অপহৃত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় একটি ছোট কক্ষে আটক ছিলেন তিনি। শিলং পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের কর্মকর্তারা বলেন, সালাহউদ্দিন তাদের বলেছেন, অপহরণকারীরা পরে তার চোখ বেঁধে কয়েকদিন ধরে গাড়িতে করে ঘোরায় এবং সে সময় তারা বার বার গাড়ি বদলায়।

গত সোমবার সালাহউদ্দিনকে গ্রেফতারের পর শুক্রবারই তাকে প্রথম আনুষ্ঠানিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে শিলং পুলিশ। গ্রেফতার করার পর পুলিশ বলেছিল, এই বিএনপি নেতার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয়রা তার বিষয়ে পুলিশকে জানিয়েছিল। তবে বিএনপির সহদফতর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনিকে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, তিনি নিজেই স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পুলিশের কাছে গিয়েছিলেন। দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর সোমবার মেঘালয়ের শিলংয়ে গ্রেফতার হন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন। তার সঙ্গে দেখা করতে শুক্রবার শিলংয়ে গেছেন আব্দুল লতিফ জনি। পুলিশের অনুমতি নিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট সালাহউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সালাহউদ্দিনের কয়েক আত্মীয়ও শিলংয়ে পৌঁছেছেন। তার জন্য খাবার ও নতুন জামা-কাপড় নিয়ে গেছেন তারা।

পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের এক কর্মকর্তা বলেন, সালাহউদ্দিন প্রথমে বলেছিলেন অপহৃত হওয়ার পরের ঘটনা তিনি কিছু মনে করতে পারছেন না। তবে এখন তিনি বলছেন, প্রায় দুই মাসের মতো বাংলাদেশের কোথাও একটি বাড়ির এক ছোট কক্ষে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল। পরে চোখ বেঁধে তাকে ওই ঘর থেকে বের করে গাড়িতে করে ঘোরানো হয় এবং অপহরণকারীরা বার বার গাড়ি বদলায়। সালাহউদ্দিনের বক্তব্যে ‘কিছু অসামঞ্জস্যতা’ পাওয়া যাচ্ছে মন্তব্য করে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বক্তব্য যাচাইয়ের জন্য তাকে আমাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। তিনি জানান, সালাহউদ্দিনকে শিগগিরই বাংলাদেশে পাঠানোর কোন ইঙ্গিত এখনও পায়নি মেঘালয় রাজ্য সরকার। আমরা তার বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের মামলাও দায়ের করেছি। আমাদের বের করতে হবে, কীভাবে তিনি সীমান্ত পার হলেন। তিনি নিজে সীমান্ত পার হয়েছেন নাকি তার অপহরণকারীরা তাকে এখানে নিয়ে এসেছেন। এর যেটাই ঘটুক না কেন তা আমাদের জন্য দুশ্চিন্তার।

এদিকে সালাহউদ্দিন আহমেদের হৃদস্পন্দন এখন স্বাভাবিক থাকলেও তার কিডনির সমস্যা নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন শিলংয়ের সিভিক হাসপাতালের চিকিৎসকরা। এছাড়া তিনি চর্মরোগে ভুগছেন বলেও জানিয়েছেন তারা। সোমবার গ্রেফতার হওয়ার পর প্রথমে শিলংয়ের একটি মানসিক হাসপাতালে নেয়া হয় সালাহউদ্দিনকে। পরে সিভিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এই বিএনপি নেতাকে। এ কয়দিন সেখানে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা চলে। বিএনপির অবরোধে নাশকতায় প্রাণহানির মধ্যে অজ্ঞাত স্থান থেকে বিবৃতি পাঠিয়ে কর্মসূচী চালানোর আহ্বান জানিয়ে আসার এক পর্যায়ে নিখোঁজ হন সালাহউদ্দিন। গত ১০ মার্চ উত্তরার একটি বাসা থেকে তাকে তুলে নেয়া হয় বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়।