২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

আ.লীগের দু’গ্রুপে গোলাগুলি, ছাত্রলীগ নেতা নিহত


নিজস্ব সংবাদদাতা, দাউদকান্দি ॥ কুমিল্লার তিতাসে আ.লীগের দু’গ্রুপের গোলাগুলিতে ছাত্রলীগ নেতা নিহত ও ১৫জন আহত হয়েছে। উপজেলার ঢাকা-হোমনা-কুমিল্লা সড়কের কড়িকান্দি বাস ষ্টেশনে বৃহস্পতিবার রাতভর এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনার জের ধরে শুক্রবার সকাল থেকে ঢাকা-হোমনা-কুমিল্লা ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে দলীয় নেতাকর্মীরা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা (উত্তর) জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার হোসেন বাবু ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিনুল ইসলাম সোহেল শিকদার গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। উক্ত বিরোধের জের ধরে বুধবার দুপুরে উভয়গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকাবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় উপজেলার ঢাকা-হোমনা-কুমিল্লা সড়কের কড়িকান্দি বাস ষ্টেশনে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও বহিরাগত ক্যাডার হিসাবে ভাড়া আসা হোমনার বাবরকান্দি গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ছেলে রুবেল (২৮) কে আটক করা হয়। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও রাত প্রায় দেড়টায় একই স্থানে উভয়পক্ষের মধ্যে পুনরায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে মুহুর্মুহু গোলাগুলিতে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় ছাত্রলীগের মাসুম সরকার, লিটন, রমজান ও কামরুল গুলিবিদ্ধ হয়। হামলায় ব্যবহৃত মাইক্রোবাসের ধাক্কায় ছাত্রলীগের শেখ সাদী, রুবেল হোসেন, রকিব হোসেন, মামুন হোসেন, শাহিন মিয়া, আক্তার হোসেন, তৌফিক, খোরশেদ আলম, সুমন আহমেদ, মুকুল হোসেন, শাহ আলম, সজিব আহমেদ, জহিরুল ইসলাম, হারুন মিয়া, জুয়েল আহত হলে তাদেরকে তিতাস স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে লিটন, সুমন, রমজান, জহিরুল ইসলাম ছাড়া বাকীদের গুরুতর অবস্থায় ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। উক্ত ঘটনায় সারোয়ার হোসেন বাবু বাদী হয়ে বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে, আজ শুক্রবার সকালে ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুলিবিদ্ধ কুমিল্লা (উত্তর) জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও তিতাসের জগতপুর গ্রামের ইকবাল হোসেন সেলিমের ছেলে মাসুম সরকার (৩৫) মারা গেলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে এবং সকাল থেকে ঢাকা-হোমনা-কুমিল্লা সড়ক এবং দুপুর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুরে অংশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রাস্তা অবরোধ করে যানবাহন ভাংচুর করে। এ ব্যাপারে সারোয়ার হোসেন বাবু জানান, ভাইস চেয়ারম্যান ও তার লোকজন গভীর রাতে আমার লোকজনদের উপর হামলা চালিয়ে গুলি করে এবং এক পর্যায়ে হামলায় ব্যবহৃত গাড়ী আমার লোকজনদের উপর তুলে দেয়া হয়। এঘটনায় ছাত্রলীগের প্রায় ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয় এবং পরে মাসুম মারা যায়। ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনুল ইসলাম সোহেল বলেন, রাতের গভীরে কে কোথায় থাকে, কে বা কার গাড়ী তাদের উপর তুলে দেয়া হয়েছে এটা তো আমার জানার কথা নয়। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিতাস থানার ওসি তারেক মোঃ আব্দুল হান্নান বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ দু’গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে জোর তৎপরতা চলছে। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার করা হবে।